বন্ধুরা, স্মার্টফোন এখন আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়। এটি আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব রাখছে এই ছোট ডিভাইসটি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছেন, আপনার ফোনে থাকা থার্ড-পার্টি অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে ঠিক কী করছে? আপনি হয়তো বন্ধুদের সাথে কোনো একটি নির্দিষ্ট জুতো বা গ্যাজেট নিয়ে কথা বললেন, আর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে সেই জিনিসের বিজ্ঞাপন দেখতে পেলেন। এটি কোনো জাদু নয়, বরং অ্যাপগুলোর ডেটা ট্র্যাকিংয়ের একটি বাস্তব উদাহরণ। বর্তমান সময়ে নিজের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে, তা প্রতিটি ব্যবহারকারীর জানা জরুরি। এই গাইডে আমরা সম্পূর্ণ বাস্তবসম্মত উপায়ে কীভাবে আপনার ডিভাইসের প্রাইভেসী নিয়ন্ত্রণ করবেন তা বিস্তারিত আলোচনা করব।
অ্যাপ কীভাবে আপনার তথ্য সংগ্রহ করতে পারে?
ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে ডেটা হলো নতুন জ্বালানি। অ্যাপ ডেভেলপার এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থাগুলো সবসময় ব্যবহারকারীদের আচরণের ওপর নজর রাখে। মূলত তিনটি প্রধান উপায়ে অ্যাপগুলো আপনার ফোন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। প্রথমত, অ্যাপ ইনস্টল করার সময় আমরা যে সমস্ত পারমিশন বা অনুমতি দিই, সেগুলোর মাধ্যমে। যেমন, একটি সাধারণ ফ্ল্যাশলাইট অ্যাপ যদি আপনার কন্টাক্ট লিস্টের অ্যাক্সেস চায় এবং আপনি তা দিয়ে দেন, তবে আপনার সব বন্ধুর নম্বর তাদের সার্ভারে চলে যায়। দ্বিতীয়ত, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি বা অ্যাপটি বন্ধ থাকার পরও ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডেটা আদান-প্রদান করা। তৃতীয়ত, কুকিজ এবং ট্র্যাকার ফাইলের সাহায্যে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে আপনার ব্রাউজিং হিস্ট্রি ট্র্যাক করার মাধ্যমে। এই ডেটাগুলো পরবর্তীতে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়, যাতে তারা আপনাকে টার্গেটেড বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে। স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তার প্রথম ধাপই হলো এই তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি বোঝা।
আরো পড়ুনঃ সাইবার-জগৎ ওয়াই–ফাই ৮: নতুন প্রজন্মের তারহীন ইন্টারনেট প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের যোগাযোগ ব্যবস্থা
কোন Permission সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ?
সব পারমিশন কিন্তু সমান ক্ষতিকর বা ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কিছু কিছু অনুমতি আপনার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা পুরোপুরি হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। সাইবার সিকিউরিটি রিসার্চারদের মতে, নিচের পারমিশনগুলো দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:
- Location (অবস্থান): আপনার নিখুঁত অবস্থান বা লাইভ লোকেশন ট্র্যাক করে আপনি কখন কোথায় যাচ্ছেন, কোন দোকানে কেনাকাটা করছেন তা জানা সম্ভব।
- Microphone ও Camera (মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা): এটি সবচেয়ে সংবেদনশীল। কোনো অ্যাপ যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার অজান্তেই ঘরের ভেতরের কথা শোনে বা ছবি তোলে, তবে তা চরম প্রাইভেসী লঙ্ঘন।
- Contacts ও SMS (যোগাযোগ তালিকা ও বার্তা): আপনার ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড (OTP) এবং ব্যক্তিগত মেসেজ পড়ার ক্ষমতা পায় অ্যাপগুলো।
- Storage / Photos (স্টোরেজ ও গ্যালারি): আপনার ফোনের ব্যক্তিগত ছবি ও ডকুমেন্টের অ্যাক্সেস পেয়ে যায়, যা ব্ল্যাকমেইলিং বা ডেটা চুরির ঝুঁকি বাড়ায়।
Android-এ Privacy Settings পরিবর্তনের ধাপ
অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড ১২ থেকে ১৬ সংস্করণে প্রাইভেসী ড্যাশবোর্ড যুক্ত করা হয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তা নিচে পর্যায়ক্রমে দেওয়া হলো:

তারপর

উপরের ছবি গুলির মতো,প্রথমে আপনার ফোনের Settings অপশনে যান। সেখান থেকে Privacy বা Privacy Dashboard সিলেক্ট করুন। এখানে আপনি দেখতে পাবেন গত ২৪ ঘণ্টায় কোন কোন অ্যাপ আপনার ক্যামেরা, লোকেশন বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করেছে। কোনো সন্দেহজনক অ্যাপ দেখলে তার ওপর ট্যাপ করে পারমিশনটি ‘Don’t Allow’ বা ‘Ask Every Time’ করে দিন। এছাড়া, ব্যবহার করা হয় না এমন অ্যাপগুলোর পারমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করতে “Remove permissions if app is unused” অপশনটি চালু করে দিন। এটি আপনার ফোনের নিরাপত্তা অনেকখানি বাড়িয়ে দেবে।
iPhone-এ App Tracking বন্ধ করার উপায়
অ্যাপল তাদের আইফোনে প্রাইভেসী সুরক্ষায় বেশ কিছু বৈপ্লবিক ফিচার এনেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘App Tracking Transparency’। আইফোনে স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তা নিচে আলোচনা করা হলো:
আপনার আইফোনের Settings-এ যান, এরপর স্ক্রোল করে নিচে নেমে Privacy & Security অপশনে ট্যাপ করুন। এবার একদম ওপরে থাকা Tracking অপশনটিতে ক্লিক করুন। এখানে “Allow Apps to Request to Track” নামক একটি টগল বাটন দেখতে পাবেন। এটি বন্ধ করে দিলে কোনো অ্যাপই আপনার ব্রাউজিং বা অন্যান্য অ্যাপের অ্যাক্টিভিটি ট্র্যাক করার অনুমতি চাইতে পারবে না। এছাড়া, প্রতিটি অ্যাপের জন্য আলাদাভাবে ট্র্যাকিং বন্ধ করার সুবিধাও এখানে রয়েছে, যা আইওএস ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী একটি সুরক্ষা কবচ।
আরো পড়ুনঃ ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ: নতুন ভোটারদের জন্য ইসির নির্দেশনা
Background Activity নিয়ন্ত্রণ
আমরা অনেক সময় কাজ শেষে অ্যাপ বন্ধ করে দিই, কিন্তু অ্যাপটি ব্যাকগ্রাউন্ডে সচল থেকে ডেটা আদান-প্রদান করতে থাকে। এতে শুধু ডেটাই চুরি হয় না, বরং ফোনের ব্যাটারি এবং র্যামও দ্রুত শেষ হয়। এই সমস্যা সমাধানে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাক্টিভিটি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো অ্যাপের ওপর ট্যাপ করে ধরে রাখুন এবং App Info-তে যান। সেখান থেকে Battery বা Background Restriction অপশনে গিয়ে ‘Restricted’ সিলেক্ট করুন। আইফোনের ক্ষেত্রে Settings > General > Background App Refresh-এ গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ বন্ধ করে দিন। ফোনের সুরক্ষায় এবং স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তার মধ্যে ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্লক করা অন্যতম কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।
Location, Camera ও Microphone Permission ব্যবস্থাপনা
লোকেশন, ক্যামেরা এবং মাইক্রোফোনের অপব্যবহার রুখতে আধুনিক ওএস-গুলোতে চমৎকার কিছু ফিচার রয়েছে। যেমন, যখনই কোনো অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে আপনার ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করবে, স্ক্রিনের কোণায় একটি সবুজ বা কমিল রঙের ডট (Dot) জ্বলে উঠবে। এই ডটটি দেখলে বুঝবেন কোনো অ্যাপ গোপনে আপনার তথ্য নিচ্ছে।
সবসময় লোকেশন পারমিশনের ক্ষেত্রে “While Using the App” (শুধুমাত্র অ্যাপ ব্যবহারের সময়) অপশনটি বেছে নিন। কোনো ই-কমার্স বা ফুড ডেলিভারি অ্যাপকে কখনই ‘Always Allow’ পারমিশন দেবেন না। একইভাবে, কিবোর্ড অ্যাপ কিংবা কোনো গেমের জন্য ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন পারমিশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখুন। মনে রাখবেন, স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তার মূল চাবিকাঠি হলো কঠোর পারমিশন পলিসি বজায় রাখা।
Google Play Protect কেন চালু রাখবেন?
অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের জন্য গুগল প্লে প্রোটেক্ট (Google Play Protect) হলো একটি বিল্ট-ইন সিকিউরিটি স্ক্যানার। এটি আপনার ফোনে থাকা কোটি কোটি অ্যাপের আচরণ রিয়েল-টাইমে স্ক্যান করে। কোনো অ্যাপ যদি গোপনে ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি করার চেষ্টা করে বা ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার ছড়ায়, তবে প্লে প্রোটেক্ট তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে এবং অ্যাপটি ব্লক করে দেয়।
এটি চালু আছে কি না তা দেখতে Google Play Store-এ যান, আপনার প্রোফাইল আইকনে ট্যাপ করুন এবং Play Protect অপশনটি বেছে নিন। এরপর সেটিংস আইকনে ক্লিক করে “Scan apps with Play Protect” অপশনটি চালু রাখুন। এটি থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপগুলোর ম্যালওয়্যার শনাক্ত করতেও সাহায্য করে।
Fake App চেনার ১০টি উপায়
প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোরে অনেক সময় আসল অ্যাপের অবিকল নকল বা ফেক অ্যাপ চলে আসে। এই ফেক অ্যাপগুলোর একমাত্র উদ্দেশ্যই হলো আপনার ফোনে ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়ে তথ্য চুরি করা। নিচে ফেক অ্যাপ চেনার ১০টি সহজ উপায় দেওয়া হলো:
- ডেভেলপারের নাম যাচাই: অ্যাপটি কে তৈরি করেছে তা দেখুন। যেমন, আসল ফেসবুক অ্যাপের নিচে ডেভেলপার হিসেবে ‘Meta Platforms, Inc.’ লেখা থাকবে।
- ডাউনলোড সংখ্যা: আসল জনপ্রিয় অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা মিলিয়নের ঘরে থাকবে, ফেক অ্যাপের ডাউনলোড সংখ্যা সাধারণত খুব কম হয়।
- রিভিউ ও রেটিং: অ্যাপের রিভিউগুলো পড়ুন। যদি অনেক ব্যবহারকারী ‘Fake’, ‘Scam’ বা ‘Adware’ লিখে কমেন্ট করে, তবে সেটি এড়িয়ে চলুন।
- বানান ভুল: অ্যাপের নাম বা ডেসক্রিপশনে টাইপো বা বানানের ভুল থাকলে তা ফেক অ্যাপের বড় লক্ষণ।
- অস্বাভাবিক পারমিশন: একটি সাধারণ ক্যালকুলেটর অ্যাপ যদি আপনার কন্টাক্ট এবং গ্যালারির পারমিশন চায়, তবে বুঝবেন ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।
- রিলিজ ডেট বা পাবলিশিং ডেট: অ্যাপটি কতদিন আগে প্লে স্টোরে এসেছে তা চেক করুন। খুব নতুন অ্যাপ হলে সতর্ক থাকুন।
- অফিসিয়াল ওয়েবসাইট লিংক: সবসময় মূল কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে দেওয়া লিংকের মাধ্যমে অ্যাপ ইনস্টল করার চেষ্টা করুন।
- অ্যাপ আইকন ও লোগো: ফেক অ্যাপের লোগোর রঙ বা ডিজাইন আসল অ্যাপের চেয়ে কিছুটা ঝাপসা বা ভিন্ন হতে পারে।
- অতিরিক্ত বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি: অ্যাপ ওপেন করার সাথে সাথেই যদি স্ক্রিন জুড়ে একের পর এক পপ-আপ অ্যাড আসতে থাকে, তবে সেটি ক্ষতিকর অ্যাপ হতে পারে।
- ব্যাটারি ও ডেটা খরচ: অ্যাপটি ইনস্টল করার পর যদি ফোন অতিরিক্ত গরম হয় বা ডেটা দ্রুত শেষ হয়, তবে সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে ক্ষতিকর কাজ করছে।
নিরাপদ App ব্যবহারের ১৫টি বাস্তব টিপস
ডিজিটাল দুনিয়ায় সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে এবং স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা নিচে দেওয়া হলো। এই অভ্যাসগুলো আপনার সাইবার নিরাপত্তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে:
- শুধুমাত্র অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর (Google Play Store বা Apple App Store) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
- কখনই কোনো মডেড (Modded) বা ক্র্যাকড (Cracked) APK ফাইল ফোনে ইনস্টল করবেন না।
- ফোনের প্রাইভেসী ড্যাশবোর্ড সপ্তাহে অন্তত একবার চেক করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
- অপ্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অ্যাপগুলো ফোন থেকে অবিলম্বে আনইনস্টল করে দিন।
- পাবলিক ওয়াই-ফাই (যেমন- রেস্তোরাঁ বা রেলস্টেশনের ওয়াই-ফাই) ব্যবহারের সময় ব্যাংকিং বা সংবেদনশীল অ্যাপ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- সম্ভব হলে একটি বিশ্বস্ত ও পেইড ভিপিএন (VPN) ব্যবহার করুন, যা আপনার ডেটা ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করবে।
- ফোনের অপারেটিং সিস্টেম এবং সমস্ত অ্যাপ সবসময় আপ-টু-ডেট রাখুন। সিকিউরিটি প্যাচ আপডেটগুলো কখনো মিস করবেন না।
- অ্যান্ড্রয়েডের ‘Developer Options’ থেকে ‘USB Debugging’ অপশনটি প্রয়োজন ছাড়া বন্ধ রাখুন।
- টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) চালু রাখুন, যাতে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড জানলেও লগইন করতে না পারে।
- ব্রাউজার হিসেবে Google Chrome-এর পাশাপাশি DuckDuckGo বা Brave-এর মতো প্রাইভেসী-ফোকাসড ব্রাউজার ব্যবহার করতে পারেন।
- আপনার গুগল অ্যাকাউন্টের ‘Data & Privacy’ সেটিংসে গিয়ে ‘Web & App Activity’ নিয়ন্ত্রণ করুন।
- ফোনের ব্লুটুথ এবং লোকেশন সার্ভিস কাজ শেষে বন্ধ করে রাখুন।
- কোনো অ্যাপে লগইন করার সময় ‘Sign in with Google’ বা ‘Sign in with Facebook’ ব্যবহারের চেয়ে আলাদা ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা বেশি নিরাপদ।
- আইফোনে ‘Safety Check’ ফিচারটি ব্যবহার করে দেখুন কোন কোন ব্যক্তি বা অ্যাপের সাথে আপনার তথ্য শেয়ার হচ্ছে।
- সর্বোপরি, স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তা নিয়মিত চর্চা করুন এবং সচেতন থাকুন।
তুলনামূলক টেবিল
| Permission | কখন Allow করবেন | কখন Block করবেন |
|---|---|---|
| Location | ম্যাপ, রাইড শেয়ারিং ও ফুড ডেলিভারি অ্যাপের ক্ষেত্রে (While Using)। | গেম, ফটো এডিটর, ক্যালকুলেটর বা মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপে। |
| Microphone | ভয়েস কল, রেকর্ডিং বা সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও মেকিং অ্যাপে। | ই-কমার্স, ইবুক রিডার বা সাধারণ ইউটিলিটি অ্যাপে। |
| Camera | ভিডিও কলিং, কিউআর কোড স্ক্যানার বা ক্যামেরা অ্যাপে। | ফ্ল্যাশলাইট, কিবোর্ড বা গেম অ্যাপের ক্ষেত্রে। |
| Contacts | মেসেজিং অ্যাপ (যেমন WhatsApp, Signal) বা কলিং অ্যাপে। | যেকোনো থার্ড-পার্টি গেম, ব্রাউজার বা এডিটিং টুলে। |
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
১. অ্যাপগুলো গোপনে আমাদের কথা শোনে, এই দাবির সত্যতা কতটুকু?
অফিসিয়াল অ্যাপগুলো সরাসরি কথা রেকর্ড করার দাবি অস্বীকার করে। তবে অনেক থার্ড-পার্টি অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ড মাইক্রোফোন পারমিশন নিয়ে আপনার ভয়েস কমান্ড বা আশেপাশের কথা ট্র্যাক করে নির্দিষ্ট কি-ওয়ার্ডের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন দেখাতে পারে। স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তা অনুসরণ করে মাইক্রোফোন পারমিশন বন্ধ রাখলে এই ভয় থাকে না।
২. আমি যদি কোনো অ্যাপের লোকেশন পারমিশন বন্ধ করি, তবে কি অ্যাপটি কাজ করবে?
অধিকাংশ অ্যাপই লোকেশন পারমিশন ছাড়া কাজ করতে পারে। তবে রাইড শেয়ারিং (যেমন Uber) বা ম্যাপ অ্যাপের ক্ষেত্রে লোকেশন প্রয়োজন হয়। অন্য অ্যাপগুলোতে এটি বন্ধ রাখাই শ্রেয়।
৩. অ্যান্ড্রয়েড নাকি আইফোন—কোনটি প্রাইভেসীর জন্য বেশি নিরাপদ?
আইফোনের ‘App Tracking Transparency’ এবং কঠোর অ্যাপ রিভিউ পলিসির কারণে এটি ডিফল্টভাবে কিছুটা বেশি প্রাইভেসী সুবিধা দেয়। তবে অ্যান্ড্রয়েডের বর্তমান সংস্করণগুলোতেও শক্তিশালী প্রাইভেসী ড্যাশবোর্ড রয়েছে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে চমৎকার নিরাপত্তা পাওয়া সম্ভব।
৪. থার্ড-পার্টি APK ফাইল ব্যবহার করা কি সম্পূর্ণ অনিরাপদ?
হ্যাঁ, থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইট থেকে নামানো APK ফাইলগুলোতে ম্যালওয়্যার বা স্পাইওয়্যার থাকার ঝুঁকি প্রায় ৯০%। নিজের অজান্তেই আপনার ফোনের পুরো নিয়ন্ত্রণ হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
৫. স্ক্রিনের কোণায় সবুজ ডট (Green Dot) ওঠার মানে কী?
এর মানে হলো এই মুহূর্তে আপনার ফোনের কোনো একটি অ্যাপ সক্রিয়ভাবে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে। আপনি যদি নিজে ক্যামেরা অন না করে থাকেন, তবে বুঝবেন কোনো অ্যাপ গোপনে এটি করছে।
৬. ক্ষতিকর অ্যাপগুলো কীভাবে ফোনের ব্যাটারি দ্রুত শেষ করে?
ক্ষতিকর অ্যাপগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে অনবরত আপনার ডেটা প্রসেস করে এবং তা দূরবর্তী সার্ভারে পাঠাতে থাকে। এই অতিরিক্ত প্রসেসিংয়ের কারণে প্রসেসর সচল থাকে এবং ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়।
৭. ফ্রি ভিপিএন (Free VPN) ব্যবহার করা কি নিরাপদ?
অধিকাংশ ফ্রি ভিপিএন আপনার ব্রাউজিং ডেটা সংগ্রহ করে থার্ড-পার্টি বিজ্ঞাপনী সংস্থার কাছে বিক্রি করে আয় করে। তাই ফ্রি ভিপিএন ব্যবহারের চেয়ে না ব্যবহার করা অনেক সময় ভালো। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত প্রিমিয়াম ভিপিএন ব্যবহার করুন।
৮. প্লে প্রোটেক্ট কি সব ভাইরাস দূর করতে পারে?
গুগল প্লে প্রোটেক্ট অত্যন্ত কার্যকরী হলেও এটি শতভাগ নিখুঁত নয়। প্রতিদিন হাজার হাজার নতুন ম্যালওয়্যার তৈরি হচ্ছে। তাই প্লে প্রোটেক্ট চালু রাখার পাশাপাশি নিজের সচেতনতাও জরুরি।
৯. অ্যাপ আনইনস্টল করলেই কি আমার জমানো ডেটা মুছে যায়?
না, অ্যাপ আনইনস্টল করলে আপনার ফোন থেকে ডেটা মুছে যায়, কিন্তু তাদের সার্ভারে ইতিমধ্যে চলে যাওয়া ডেটা থেকে যায়। তাই অ্যাপ ডিলিট করার আগে অ্যাপের ভেতর থেকে অ্যাকাউন্টটি স্থায়ীভাবে ডিলিট (Delete Account) করা উচিত।
১০. স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে তার মধ্যে সবচেয়ে সহজ পদক্ষেপ কোনটি?
সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর পদক্ষেপ হলো—ফোনের সেটিংসের প্রাইভেসী ড্যাশবোর্ডে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় সব অ্যাপের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন এবং লোকেশন পারমিশন ‘Don’t Allow’ করে দেওয়া।
