বাংলাদেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিকের জন্য ভোটাধিকার এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়া একটি মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ বহাল থাকবে। যারা এখনো ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেননি বা ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরও এনআইডি কার্ড পাননি, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ।
পূর্বে ভোটার নিবন্ধনের সময়সীমা কম থাকলেও দেশের সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অনুরোধে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে সঠিক নিয়মে আবেদন করে আপনিও হয়ে যেতে পারেন একজন গর্বিত ভোটার। আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি এই সুযোগের সৎব্যবহার করবেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং ইসির পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যদি আপনি একজন বাংলাদেশি নাগরিক হন এবং আপনার বয়স ভোটার হওয়ার উপযোগী হয়ে থাকে, তবে ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা উচিত নয়। চলুন, নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল নির্দেশনার আলোকে এই প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জেনে নেওয়া যাক।
৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্পর্কে সংক্ষেপে
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) দেশের ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে। ইসি সূত্রের খবর অনুযায়ী, আগে নতুন ভোটার নিবন্ধনের শেষ সময় ৩০ জুন নির্ধারিত থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে তা এক মাস বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে যোগ্য নাগরিকরা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই সময়ের মধ্যে যারা নতুন ভোটার হিসেবে নিজেদের নাম নিবন্ধনভুক্ত করবেন, তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এই বর্ধিত সময়ের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে বা সরাসরি উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে গিয়ে নাগরিকরা তাদের ভোটার নিবন্ধন ফরম পূরণ করতে পারবেন। ভোটার তালিকা আইন অনুযায়ী এই সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই মেয়াদের পর ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ শুরু হবে। তাই আর দেরি না করে ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে আপনার নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করুন।
কারা নতুন ভোটার হতে পারবেন?
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশি নাগরিকরা নতুন ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন। ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ এর আওতায় যারা আবেদন করতে পারবেন তারা হলেন:
- বয়সের যোগ্যতা: যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০৮ বা তার পূর্বে এবং যারা এখনো ভোটার হননি, তারা আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ, যাদের বয়স ইতিমধ্যে ১৮ বছর বা তার বেশি হয়েছে তারা যোগ্য।
- বাদ পড়া নাগরিক: পূর্ববর্তী ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে যারা যেকোনো কারণে বাদ পড়েছিলেন, তারা এই বিশেষ সুযোগে ভোটার হতে পারবেন।
- প্রবাসী বাংলাদেশি: যেসকল প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক দেশে এসেছেন বা দূর দেশে অবস্থান করছেন এবং এখনো এনআইডি পাননি, তারাও উপযুক্ত প্রমাণ দেখিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
- তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী: হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের নাগরিকরা সমাজসেবা অফিস বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে নতুন ভোটার তালিকায় নাম লেখাতে পারবেন।
নতুন ভোটার হতে কী কী কাগজপত্র লাগবে?
নতুন ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি (NID) কার্ডের আবেদনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি কড়াকড়ি ও কিছু নতুন নিয়ম আরোপ করেছে। আবেদন প্রক্রিয়া সফল করতে এবং তথ্য যাচাইয়ে স্বচ্ছতা আনতে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র আপলোড বা জমা দিতে হবে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে নিচের কাগজপত্রগুলো সংগ্রহে রাখুন:
১. অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ (বাধ্যতামূলক)
আবেদনকারীর অবশ্যই ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল বা অনলাইন ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে। হাতে লেখা বা অ্যানালগ জন্ম সনদ নির্বাচন কমিশনের অনলাইন সার্ভারে গ্রহণযোগ্য হবে না।
২. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (এসএসসি বা সমমান)
ইসির নতুন নির্দেশনানুযায়ী, আবেদনকারী যদি মাধ্যমিক (এসএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে থাকেন, তবে তার এসএসসি সনদ (SSC Certificate) অনলাইন সার্ভারে আপলোড করা বাধ্যতামূলক। যদি আবেদনকারী উচ্চ শিক্ষিত (এইচএসসি বা তদূর্ধ্ব) হন, তবে তাকে এসএসসির পাশাপাশি সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদও প্রদর্শন ও জমা করতে হবে। এটি জন্ম তারিখ ও নামের বানান নিখুঁত রাখতে সাহায্য করে।
৩. পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র
আবেদনকারীর পিতা এবং মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) স্পষ্ট ফটোকপি জমা দিতে হবে। পিতা বা মাতা মৃত হলে তার মৃত্যু সনদ বা এনআইডি নম্বর প্রয়োজন হতে পারে।
আরো আর্টিকেল পড়ুন:-
প্রিপেইড মিটারে ২০০ ডিজিটের টোকেন নম্বর যেভাবে রিচার্জ করবেন – সম্পূর্ণ গাইড
Upay ডুয়েল কারেন্সি প্রিপেইড কার্ড আবেদন ও অ্যাক্টিভেশন গাইড ২০২৬
ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের নতুন নিয়ম ও ইউজারনেম সেট করার উপায়
FinCash App থেকে কি ভাবে Bank Loan নিবেন? বিস্তারিত গাইডলাইন ২০২৬
৪. নাগরিকত্ব ও ঠিকানার প্রমাণপত্র
বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানার সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র/কাউন্সিলর অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদপত্র লাগবে। এর সাথে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিল অথবা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদের কপি জমা দিতে হবে।
৫. অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি
বিবাহিত আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কাবিননামা বা নিকাহনামার কপি এবং স্বামী/স্ত্রীর এনআইডি কার্ডের কপি প্রয়োজন হবে। এছাড়া রক্তের গ্রুপ সঠিকভাবে ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ব্লাড গ্রুপ টেস্টের মেডিকেল রিপোর্ট সাথে রাখা ভালো।
ধাপে ধাপে আবেদন করার নিয়ম
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের আধুনিক অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে ঘরে বসেই নতুন ভোটার নিবন্ধনের প্রাথমিক কাজ সম্পন্ন করা যায়। ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ ব্যবহার করে অনলাইনে যেভাবে আবেদন করবেন তার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিশিয়াল এনআইডি উইং পোর্টালে (services.nidw.gov.bd) প্রবেশ করুন।
- অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন: ‘আবেদন করুন’ লিংকে ক্লিক করে আপনার নাম, সঠিক জন্মতারিখ এবং ক্যাপচা কোড দিয়ে মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
- প্রোফাইল পূরণ: অ্যাকাউন্টে লগইন করে ব্যক্তিগত তথ্য, পিতা-মাতার নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং রক্তের গ্রুপ নির্ভুলভাবে বাংলায় ও ইংরেজিতে টাইপ করুন।
- ঠিকানা নির্বাচন: আপনার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা সতর্কতার সাথে সিলেক্ট করুন। মনে রাখবেন, আপনি যে ঠিকানায় ভোটার হতে চান, সেই এলাকার নির্বাচন অফিসেই আপনাকে বায়োমেট্রিক দিতে হবে।
- কাগজপত্র আপলোড: আপনার অনলাইন জন্ম সনদ, এসএসসি পরীক্ষার সার্টিফিকেট এবং ইউটিলিটি বিলের স্ক্যান কপি বা স্পষ্ট ছবি ওয়েবসাইটে আপলোড করুন।
- ফরম ডাউনলোড ও প্রিন্ট: সম্পূর্ণ আবেদনটি সাবমিট করার পর তৈরি হওয়া ‘নিবন্ধন ফরম-২’ (Reg Form-2) পিডিএফ ফাইলটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন।
- অফিসে যোগাযোগ ও বায়োমেট্রিক প্রদান: প্রিন্ট করা ফরমটি এবং মূল নথিপত্রসহ আপনার সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন। সেখানে আপনার আঙুলের ছাপ (Fingersprint), চোখের আইরিশ স্ক্যান এবং ছবি তোলার মাধ্যমে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ধাপগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজেই আপনি ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ এর আওতায় নিজের নাম রেজিস্টার্ড করতে পারবেন।
ইসির গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
নির্বাচন কমিশন (ইসি) মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি এবং সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে কিছু কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করেছে। ইসির এনআইডি শাখা থেকে জানানো হয়েছে যে, ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে ভুয়া তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে:
- সনদ তদারকিতে কঠোরতা: আবেদনকারী মাধ্যমিক পাস হলে তার এসএসসি সনদ জমা দেওয়া শতভাগ বাধ্যতামূলক। আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিয়মিত দৈবচয়নের (Random Selection) ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের নথি যাচাই করবেন যাতে কোনো জাল সনদ ব্যবহার না হয়।
- দ্বৈত ভোটার প্রতিরোধ: আগে কোনো নাগরিক ভোটার হয়ে থাকলে পুনরায় ভোটার হওয়ার চেষ্টা করলে তা আইনি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ইসির কেন্দ্রীয় সার্ভারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আঙুলের ছাপ ম্যাচিংয়ের মাধ্যমে দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করা হবে।
- মৃত ভোটার কর্তন: নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য ফরম-১২ পূরণ করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং, ইসির নির্দেশনা মেনে চললে আপনার আবেদনটি কোনো ঝামেলা ছাড়াই অনুমোদিত হবে এবং ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ আপনার জন্য ফলপ্রসূ হবে।
তথ্য টেবিল: নতুন ভোটার নিবন্ধন নির্দেশিকা ২০ – ২৬
পাঠকদের দ্রুত ও সহজে বোঝার সুবিধার্থে নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলীর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ নিচে টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | তথ্য ও প্রয়োজনীয়তা |
|---|---|
| সর্বশেষ সময়সীমা | ৩১ জুলাই (বর্ধিত সময়) |
| ন্যূনতম বয়স | ১৮ বছর (যাদের জন্ম ০১ জানুয়ারি ২০০৮ বা তার পূর্বে) |
| শিক্ষিতদের জন্য বাধ্যতামূলক ডকুমেন্ট | এসএসসি (SSC) বা সমমানের মূল বা ফটোকপি সনদ |
| আবেদন ফি | নতুন ভোটারদের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রি/বিনামূল্যে |
| আবেদনের মাধ্যম | অনলাইন পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস |
| ভোটের অধিকার | এই সময়ের মধ্যে নিবন্ধিতরা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন |
আবেদন করার সময় সাধারণ ভুল
অনেক সময় অসচেতনতার কারণে নতুন ভোটারদের আবেদন বাতিল বা পেন্ডিং হয়ে যায়। ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ চলাকালীন আবেদন করার সময় নিচের সাধারণ ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন:
১. নাম ও জন্মতারিখের অমিল: অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং এসএসসির সনদের নামের বানানে বা জন্মতারিখে অমিল থাকা। দুটি নথিতে তথ্য একই রকম হতে হবে।
২. পুরাতন বা হাতে লেখা জন্ম সনদ ব্যবহার: ডিজিটাল বা অনলাইন কপি না দিয়ে অ্যানালগ সনদ আপলোড করা।
৩. ভুল ঠিকানা নির্বাচন: বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার ইউটিলিটি বিলের তথ্যের সাথে ফর্মের তথ্যের অমিল থাকা।
৪. অস্পষ্ট ছবি বা ডকুমেন্ট আপলোড: মোবাইল থেকে ডকুমেন্টের ছবি তোলার সময় অস্পষ্ট বা কেটে যাওয়া অংশ আপলোড করা।
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ :
আবেদনের শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ অনলাইন আবেদন সম্পন্ন করুন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক প্রদান করুন। শেষ মুহূর্তে সার্ভারে অতিরিক্ত চাপের কারণে কারিগরি জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা আপনার নিবন্ধনে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
নতুন ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত সাধারণ জিজ্ঞাসাবলি
১. নতুন ভোটার হওয়ার শেষ তারিখ কবে?
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
২. ভোটার হতে কত টাকা ফি দিতে হয়?
নতুন ভোটার নিবন্ধন এবং প্রথমবার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বা ফ্রি। কোনো ফি দিতে হয় না।
৩. এসএসসি সনদ কি আসলেই বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, ইসির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারী যদি মাধ্যমিক পাস করে থাকেন, তবে তার জন্ম তারিখ ও নাম যাচাইয়ের জন্য এসএসসি পাসের সনদ আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
৪. অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ছাড়া কি ভোটার হওয়া যাবে?
না, নতুন ভোটার হওয়ার জন্য অবশ্যই ১৭ ডিজিটের অনলাইন ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকতে হবে।
৫. আমি কি ৩১ জুলাইয়ের পর আবেদন করলে আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে পারব?
৩১ জুলাইয়ের পর আবেদন করলে আপনি ভোটার হতে পারলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় আপনার নাম অন্তর্ভুক্ত নাও হতে পারে। তাই ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগটি ব্যবহার করা উচিত।
৬. প্রবাসী বাংলাদেশিরা কীভাবে ভোটার হবেন?
প্রবাসী বাংলাদেশিরা বৈধ পাসপোর্টের কপি, বাংলাদেশে আগমনের সীল এবং নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র দেখিয়ে দেশে এসে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে নতুন ভোটার হতে পারবেন।
৭. আঙ্গুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক দেওয়ার কতদিন পর এনআইডি কার্ড পাওয়া যায়?
সাধারণত বায়োমেট্রিক ও তথ্য যাচাই সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে অনলাইনে সাময়িক এনআইডি কার্ড বা কপি ডাউনলোড করা যায়।
৮. ভুল তথ্য দিলে কী ধরনের শাস্তি হতে পারে?
ভোটার তালিকায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য প্রদান বা দ্বৈত ভোটার হওয়ার চেষ্টা করলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন অনুযায়ী জরিমানা এবং জেলের বিধান রয়েছে।
একটি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে এবং নিজের নাগরিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে ভোটার হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ মূলত সেই সমস্ত নাগরিকদের জন্য একটি বড় স্বস্তি, যারা নানা ব্যস্ততা বা তথ্যের অভাবে এতদিন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেননি। জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড শুধু ভোট দেওয়ার জন্যই নয়, বরং ব্যাংকে হিসাব খোলা, পাসপোর্ট তৈরি, সিম কার্ড ক্রয় এবং সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য দলিল।
তাই অবহেলা না করে এবং শেষ দিনের ভিড় এড়াতে আজই আপনার অনলাইন জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র গুছিয়ে অনলাইন আবেদনটি করে ফেলুন। মনে রাখবেন, ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার সুযোগ এর পর ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার মূল প্রক্রিয়াটি বন্ধ হয়ে যাবে। সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নিন।
Source / Reference Links (উৎস ও তথ্যসূত্র)
নতুন ভোটার নিবন্ধন, এনআইডি আবেদন এবং নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ নির্দেশনা ও তথ্যের জন্য নিচের অফিশিয়াল সরকারি ওয়েবসাইটগুলো ভিজিট করতে পারেন:
- বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পোর্টাল: ecs.gov.bd
- জাতীয় পরিচয়পত্র অনুবিভাগ (NID Wing) অনলাইন সেবা: services.nidw.gov.bd
- বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন: bangladesh.gov.bd
