ওয়েবসাইটে অনেকগুলো পোস্ট থাকা সত্ত্বেও Google AdSense থেকে Low Value Content সমস্যার কারণে অনুমোদন না পাওয়ার কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। শুধু পোস্টের সংখ্যা বেশি হলেই Google কোনো ওয়েবসাইটকে বিজ্ঞাপন দেখানোর উপযুক্ত মনে করে না। বরং পোস্টগুলোতে পাঠকের প্রশ্নের যথাযথ উত্তর আছে কি না, তথ্যগুলো কতটা কাজে লাগে, লেখার মধ্যে নিজস্ব বিশ্লেষণ বা বাস্তব উদাহরণ আছে কি না এবং পুরো ওয়েবসাইটটি ব্যবহারকারীদের জন্য কতটা উপযোগী—এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমেই ওয়েবসাইটের প্রতিটি পোস্ট ভালোভাবে পর্যালোচনা করা উচিত। কিছু পোস্টে হয়তো বিষয়বস্তু খুব কম, কোথাও একই কথা বারবার বলা হয়েছে, আবার কিছু পোস্টে অন্য ওয়েবসাইটের তথ্য সামান্য পরিবর্তন করে প্রকাশ করা হয়েছে। এমন পোস্ট দেখতে আলাদা মনে হলেও পাঠকের জন্য নতুন কোনো মূল্য তৈরি নাও করতে পারে। তাই শুধু শব্দসংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে প্রতিটি পোস্টে বিষয়টির পরিষ্কার ব্যাখ্যা, প্রয়োজনীয় তথ্য, বাস্তব উদাহরণ এবং পাঠকের সম্ভাব্য সমস্যার সমাধান যোগ করতে হবে।
একই ধরনের একাধিক পোস্ট আছে কি না, সেটিও পরীক্ষা করা জরুরি। যেমন, একই বিষয় নিয়ে শুধু শিরোনাম ও কয়েকটি শব্দ পরিবর্তন করে একাধিক পোস্ট প্রকাশ করলে সেগুলোর মধ্যে বিষয়বস্তুর পুনরাবৃত্তি তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি পোস্টের উদ্দেশ্য আলাদা কি না, তা যাচাই করুন। দুটি পোস্টের তথ্য ও উদ্দেশ্য প্রায় একই হলে সেগুলো একত্র করা, অপ্রয়োজনীয় পোস্ট বাদ দেওয়া অথবা আলাদা পাঠক-চাহিদা অনুযায়ী নতুনভাবে সাজানো যেতে পারে। তবে শুধু পোস্টের সংখ্যা কমানোর জন্য ভালো ও প্রয়োজনীয় কনটেন্ট মুছে ফেলা উচিত নয়।
কম ব্যবহারকারী-উপযোগী পেজ শনাক্ত করার জন্য নিজেকে একজন সাধারণ পাঠকের জায়গায় রেখে ওয়েবসাইটটি দেখুন। কোনো পোস্টে প্রবেশ করার পর পাঠক কি সহজে তাঁর প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন? শিরোনামে যে বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, পোস্টে কি সেই বিষয়ের যথাযথ উত্তর রয়েছে? তথ্যগুলো কি পরিষ্কারভাবে সাজানো, নাকি অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা ও একই কথার পুনরাবৃত্তিতে মূল উত্তর খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে দুর্বল পোস্টগুলো চিহ্নিত করা সহজ হবে।
কপি করা তথ্য শনাক্ত করার জন্য নিজের পোস্টের গুরুত্বপূর্ণ বাক্যগুলো Google-এ উদ্ধৃতি চিহ্নের মধ্যে দিয়ে অনুসন্ধান করতে পারেন। একই বাক্য অন্য ওয়েবসাইটে পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও যাচাই করুন। তবে একই তথ্য একাধিক ওয়েবসাইটে থাকলেই সেটি কপি করা প্রমাণিত হয় না। সরকারি তথ্য, সাধারণ সংজ্ঞা বা প্রচলিত নিয়ম একাধিক জায়গায় একই হতে পারে। আসল বিষয় হলো, আপনার পোস্টে তথ্যের নির্ভুলতা যাচাই, নিজস্ব ব্যাখ্যা, প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট এবং পাঠকের জন্য বাড়তি সুবিধা রয়েছে কি না।
ওয়েবসাইটের নেভিগেশনও পরীক্ষা করা দরকার। হোমপেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ ও পোস্টে সহজে যাওয়া যায় কি না, বিভাগগুলোর নাম স্পষ্ট কি না, অপ্রয়োজনীয় বা ভাঙা লিংক আছে কি না এবং About Us, Contact, Privacy Policy-এর মতো প্রয়োজনীয় পেজগুলো সহজে পাওয়া যায় কি না, তা দেখুন। মোবাইল ফোনে ওয়েবসাইট খুলে মেনু, সার্চ, পোস্টের লেখা এবং অন্যান্য লিংক ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটিও যাচাই করুন।
পুনরায় AdSense-এর জন্য আবেদন করার আগে প্রথমে Google Search Console থেকে কোন পোস্টগুলোতে ইমপ্রেশন বা ক্লিক আসছে, কোন পেজ ইনডেক্স হয়েছে এবং কোথায় ইনডেক্সিং সমস্যা রয়েছে, তা পর্যালোচনা করুন। এরপর সাইটের প্রতিটি পোস্টকে তিনটি ভাগে ভাগ করতে পারেন—যেসব পোস্ট ভালো আছে, যেগুলো উন্নত করা দরকার এবং যেগুলো অন্য পোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বা পাঠকের জন্য খুব কম মূল্য তৈরি করে। এই পর্যালোচনার ভিত্তিতে পোস্টগুলো সম্পাদনা করুন, প্রয়োজন হলে একই বিষয়ের পোস্ট একত্র করুন এবং অসম্পূর্ণ তথ্য পূরণ করুন।
সবশেষে, পুরো ওয়েবসাইটটি আবার পরীক্ষা করুন। গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলো সচল আছে কি না, সাইটের নকশা ও নেভিগেশন পরিষ্কার কি না, কনটেন্ট মৌলিক ও পাঠককেন্দ্রিক কি না এবং কোনো পেজে অপ্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন বা বিভ্রান্তিকর উপাদান রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন। সব পরিবর্তন করার পরই পুনরায় আবেদন করা ভালো। মনে রাখতে হবে, নির্দিষ্ট সংখ্যক পোস্ট প্রকাশ করা বা নির্দিষ্ট কিছু পেজ তৈরি করলেই AdSense অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা, যেখানে পাঠক তাঁর প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ভরযোগ্যভাবে পান এবং অন্য ওয়েবসাইটের তুলনায় আপনার কনটেন্ট থেকে বাস্তব উপকার লাভ করেন।

২ টি মন্তব্য
লগইন করুন মন্তব্য করতে।