বাংলাদেশের বাজারে নতুন এইচ সিরিজের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন এনেছে স্যামসাং। এই সিরিজে একসঙ্গে রাখা হয়েছে ভিন্ন ধরনের পর্দা প্রযুক্তির টেলিভিশন। সবচেয়ে উন্নত মাইক্রো আরজিবি প্রযুক্তির মডেলের পাশাপাশি রয়েছে ওএলইডি, মিনি এলইডি এবং ৪কে ইউএইচডি প্রযুক্তির টেলিভিশন। সাধারণ ব্যবহারের জন্য তুলনামূলক কম দামের মডেলও রাখা হয়েছে।
ফলে একই সিরিজের মধ্যে কেউ উন্নত ছবির মান চাইলে একটি মডেল বেছে নিতে পারবেন, আবার বড় পর্দায় সিনেমা দেখা, খেলাধুলা দেখা, ভিডিও খেলা কিংবা প্রতিদিনের সাধারণ ব্যবহারের জন্যও আলাদা বিকল্প রয়েছে।
মাইক্রো আরজিবি প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় মডেল
এইচ সিরিজের সবচেয়ে উচ্চমূল্যের মডেলগুলোর মধ্যে রয়েছে আর৯৫এইচ। এতে মাইক্রো আরজিবি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে পর্দার পেছনে থাকা ক্ষুদ্র আলোক উৎসের মাধ্যমে লাল, সবুজ ও নীল রঙ আলাদাভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে ছবিতে রঙের সূক্ষ্মতা, উজ্জ্বলতা ও বৈপরীত্য নিয়ন্ত্রণে উন্নত ফল পাওয়ার লক্ষ্য থাকে।
৮৫ ইঞ্চি পর্দার আর৯৫এইচ মডেলটির বাংলাদেশি মূল্য ৮ লাখ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা।
এটি মূলত এমন ক্রেতাদের জন্য, যাদের কাছে বড় পর্দার পাশাপাশি ছবির মানও গুরুত্বপূর্ণ। এত বড় পর্দার টেলিভিশন ছোট ঘরে বসানোর আগে অবশ্যই ঘরের আকার এবং বসার জায়গা থেকে পর্দার দূরত্ব বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এই মডেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ছবি উন্নত করার প্রযুক্তি এবং আলো প্রতিফলন কমানোর সুবিধাও রয়েছে। ঘরে জানালা বা বাতির আলো সরাসরি পর্দায় পড়লে যে ঝলকানি তৈরি হয়, তা কমাতে আলো প্রতিফলন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কাজে আসতে পারে।
ওএলইডি প্রযুক্তিতে দুটি মডেল
যারা সিনেমা, নাটক বা উচ্চমানের দৃশ্য দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এইচ সিরিজে ওএলইডি প্রযুক্তির এস৯৫এইচ ও এস৮৫এইচ মডেল রয়েছে।
ওএলইডি পর্দার একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো—প্রতিটি বিন্দু আলাদাভাবে আলো তৈরি করতে পারে। ফলে কালো দৃশ্য দেখানোর সময় প্রয়োজনীয় অংশের আলো বন্ধ রাখা সম্ভব হয়। এর কারণে ছবিতে কালো রঙ তুলনামূলক গভীর এবং উজ্জ্বল ও অন্ধকার অংশের পার্থক্য স্পষ্ট দেখা যায়।
৭৭ ইঞ্চি এস৯৫এইচ মডেলের বাংলাদেশি মূল্য ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৯০০ টাকা।
তবে শুধু পর্দার আকার দেখে ওএলইডি টেলিভিশন বেছে নেওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ সময় একই ধরনের স্থির ছবি দেখানোর অভ্যাস থাকলে পর্দার যত্ন ও ব্যবহারের নিয়মও মাথায় রাখা প্রয়োজন।
খেলাধুলা ও ভিডিও খেলার জন্য মিনি এলইডি
এইচ সিরিজের এম৭০এইচ মডেলে মিনি এলইডি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। দ্রুতগতির দৃশ্যের ক্ষেত্রে পর্দার প্রতিক্রিয়া, উজ্জ্বলতা এবং দৃশ্যের মসৃণতা যারা গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য এই ধরনের টেলিভিশন আকর্ষণীয় হতে পারে।
৬৫ ইঞ্চি এম৭০এইচ মডেলের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৯০০ টাকা।
স্যামসাংয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই সিরিজের নির্দিষ্ট মডেলে সর্বোচ্চ ১৬৫ হার্টজ পর্যন্ত পর্দা নবায়নের হার পাওয়া যায়। পাশাপাশি এনভিডিয়া জি-সিঙ্ক ও এএমডি ফ্রিসিঙ্কের মতো প্রযুক্তির সমর্থনও রয়েছে। দ্রুতগতির ভিডিও খেলায় ছবির ছিঁড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা কমাতে এসব প্রযুক্তি ভূমিকা রাখতে পারে।
খেলাধুলা দেখার ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ফুটবল বা অন্যান্য খেলার দৃশ্যকে আরও উপযোগীভাবে দেখানোর জন্য স্যামসাংয়ের বিশেষ চিত্র ও শব্দ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৪কে পর্দার বড় টেলিভিশন
সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির টেলিভিশন না কিনেও বড় পর্দায় উচ্চ মানের ছবি পাওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে ইউ৮৫০০এইচ এবং ইউ৯০০০এইচ মডেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে।
এই মডেলগুলোতে ৪কে অতি উচ্চ স্পষ্টতার পর্দা রয়েছে। সাধারণ উচ্চ স্পষ্টতার তুলনায় ৪কে পর্দায় অনেক বেশি সংখ্যক ছবি-বিন্দু থাকে। ফলে উপযুক্ত মানের ভিডিও দেখার সময় দৃশ্যের সূক্ষ্ম অংশগুলো তুলনামূলক পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
আরো পড়ুনঃ ASUS ExpertBook B9 Ultra: ৯৯০ গ্রাম ওজনের AI ল্যাপটপ, দাম ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা
৯৮ ইঞ্চি ইউ৯০০০এইচ মডেলের দাম ৪ লাখ ৪৪ হাজার ৯০০ টাকা।
এত বড় পর্দার টেলিভিশন কেনার ক্ষেত্রে দেয়ালের জায়গা এবং দর্শকের বসার দূরত্ব আগে মেপে নেওয়া ভালো। শুধু বড় পর্দা হলেই দেখার অভিজ্ঞতা ভালো হবে—বিষয়টি এমন নয়।
সাধারণ ব্যবহারের জন্য কম দামের বিকল্প
প্রতিদিনের সংবাদ দেখা, নাটক, ইউটিউব, সিনেমা কিংবা সাধারণ বিনোদনের জন্য সবচেয়ে বেশি দামের টেলিভিশন প্রয়োজন হয় না। এই বিষয়টি মাথায় রেখে স্যামসাংয়ের নতুন সিরিজে এফ৬০০০এফ এবং এফ৫০০০এফ মডেলও রাখা হয়েছে।
এসব মডেলে পূর্ণ উচ্চ স্পষ্টতা ও উচ্চ স্পষ্টতার পর্দার বিকল্প পাওয়া যায়। যারা সীমিত বাজেটের মধ্যে পরিচিত ব্র্যান্ডের টেলিভিশন কিনতে চান, তাদের জন্য এই মডেলগুলো তুলনামূলক বাস্তবসম্মত হতে পারে।
টেলিভিশন কেনার আগে যে বিষয়গুলো দেখবেন
নতুন টেলিভিশন কেনার সময় শুধু দাম বা পর্দার আকার দেখলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হবে না। প্রথমে ঠিক করতে হবে টেলিভিশনটি কী কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হবে।
যদি প্রধান ব্যবহার হয় সিনেমা ও ধারাবাহিক দেখা, তাহলে ছবির বৈপরীত্য, কালো রঙের গভীরতা এবং আলো প্রতিফলনের বিষয়গুলো গুরুত্ব দেওয়া উচিত। খেলাধুলা বা দ্রুতগতির ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে পর্দা নবায়নের হার এবং দ্রুত দৃশ্য পরিবর্তনের সময় ছবির স্থিরতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে পরিবারের সাধারণ ব্যবহারের জন্য টেলিভিশন কিনলে অপ্রয়োজনীয় অতিরিক্ত সুবিধার জন্য বেশি টাকা খরচ করার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
আরো দেখুন: Google TV নাকি Android TV আপনার জন্য কোনটি সেরা কেনার আগে জানুন
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘরের আকার। ৯৮ ইঞ্চির মতো বিশাল পর্দা কেনার আগে দেয়ালে সেটি বসানোর জায়গা আছে কি না, দর্শকের বসার জায়গা থেকে দূরত্ব যথেষ্ট কি না এবং বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না—এসব যাচাই করা দরকার।
দাম একবার যাচাই করে কেনা ভালো
বাংলাদেশের বাজারে টেলিভিশনের দাম বিক্রেতা, মডেল, পর্দার আকার এবং চলমান অফারের কারণে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই অনলাইনে কোনো মূল্য দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবর্তে কেনার সময় অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে বর্তমান মূল্য, নিশ্চয়তা এবং বিক্রয়োত্তর সেবা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
নতুন এইচ সিরিজে একেবারে শীর্ষ পর্যায়ের মাইক্রো আরজিবি থেকে শুরু করে সাধারণ ব্যবহারের তুলনামূলক সাশ্রয়ী মডেল পর্যন্ত বেশ কয়েকটি স্তর রাখা হয়েছে। তাই একই সিরিজের নাম দেখে সব মডেলকে এক ধরনের টেলিভিশন মনে করার সুযোগ নেই; পর্দার প্রযুক্তি, আকার এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্রতিটি মডেলের পার্থক্য রয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্যামসাং বাংলাদেশ ও প্রথম আলো।