ল্যাপটপ কিনতে গেলে অনেকেই একসঙ্গে কয়েকটি বিষয় দেখতে চান—ভালো পারফরম্যান্স, বড় ও উন্নত মানের ডিসপ্লে, দীর্ঘ সময় ব্যাটারি চালানোর সুবিধা এবং ওজনে হালকা হওয়া। বিশেষ করে অফিসের কাজ বা নিয়মিত ভ্রমণের ক্ষেত্রে ল্যাপটপ বেশি ভারী হলে সেটি বহন করাও ঝামেলার হয়ে যায়। এই বিষয়গুলো মাথায় রেখেই বাংলাদেশের বাজারে ASUS ExpertBook B9 Ultra সিরিজের নতুন ল্যাপটপ এনেছে গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসি।
ল্যাপটপটি মূলত করপোরেট ব্যবস্থাপনা, এক্সিকিউটিভ, ব্যবসায়ী এবং শক্তিশালী কম্পিউটিং সুবিধা প্রয়োজন এমন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে বাজারে আনা হয়েছে। এর সবচেয়ে নজরকাড়া বিষয়গুলোর একটি হলো মাত্র ৯৯০ গ্রাম ওজন। অর্থাৎ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বহনযোগ্যতার দিকেও এখানে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ExpertBook B9 Ultra-তে কী প্রসেসর আছে
ASUS ExpertBook B9 Ultra সিরিজে কনফিগারেশন অনুযায়ী Intel Core Ultra 5 325, Core Ultra X7 358H এবং Core Ultra X9 388H প্রসেসর ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে রয়েছে Intel Arc GPU। ফলে সাধারণ অফিসের কাজের পাশাপাশি AI-ভিত্তিক কম্পিউটিংয়ের জন্যও ল্যাপটপটিকে তৈরি করা হয়েছে।
তবে নির্দিষ্ট মডেলভেদে প্রসেসর ও অন্যান্য হার্ডওয়্যারের কনফিগারেশন আলাদা হতে পারে। তাই কেনার সময় কোন ভ্যারিয়েন্টটি দেওয়া হচ্ছে, সেটি দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
৩কে OLED ডিসপ্লে
ল্যাপটপটির ডিসপ্লের দিকেও ASUS বেশ গুরুত্ব দিয়েছে। এতে রয়েছে ১৪ ইঞ্চির WQXGA+ 3K Tandem OLED Touch ডিসপ্লে, যার রেজল্যুশন ২৮৮০×১৮০০ পিক্সেল। ডিসপ্লেটিতে সর্বোচ্চ ৬০০ থেকে ১৪০০ নিটস পর্যন্ত উজ্জ্বলতা এবং ১২০Hz রিফ্রেশ রেট রয়েছে।
স্ক্রিনের সুরক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে কর্নিং গরিলা গ্লাস ভিকটাস ও গরিলা ম্যাট। ডিসপ্লেটি ল্যাপটপের প্রায় ৯১ শতাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে। ফলে তুলনামূলক কম জায়গায় বড় স্ক্রিনের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
RAM ও স্টোরেজ
ExpertBook B9 Ultra-তে কনফিগারেশন অনুযায়ী ১৬GB অথবা ৩২GB RAM এবং ৫১২GB অথবা ১TB SSD পাওয়া যায়। ফলে একাধিক সফটওয়্যার একসঙ্গে চালানো, বড় ফাইল নিয়ে কাজ করা কিংবা নিয়মিত অফিসের কাজের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী কনফিগারেশন বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
স্টোরেজের ক্ষেত্রে ১TB SSD ভ্যারিয়েন্টটি যাদের নিয়মিত বড় ফাইল, প্রজেক্ট বা অন্যান্য ডেটা সংরক্ষণ করতে হয়, তাদের জন্য বেশি জায়গা দেবে।
Wi-Fi 7 ও Thunderbolt 4
সংযোগের ক্ষেত্রেও নতুন প্রযুক্তির বেশ কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। ল্যাপটপটিতে রয়েছে ওয়াইফাই ৭, ব্লুটুথ ৬.০, থান্ডার বোল্ট ৪, ইউএসবি ৩.২ জেন ২ টাইপ-এ এবং HDMI 2.1। ফলে দ্রুতগতির ওয়্যারলেস সংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক ডিভাইস ও ডিসপ্লে ব্যবহারের সুযোগ থাকছে।
ওজন মাত্র ৯৯০ গ্রাম
এই ল্যাপটপের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ওজন। ASUS ExpertBook B9 Ultra-এর ওজন প্রায় ৯৯০ গ্রাম। অফিসে যাতায়াত, ব্যবসায়িক মিটিং কিংবা ভ্রমণের সময় যাদের ল্যাপটপ নিয়মিত সঙ্গে রাখতে হয়, তাদের জন্য এই কম ওজনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
আরো পড়ুনঃ
Google TV নাকি Android TV আপনার জন্য কোনটি সেরা কেনার আগে জানুন
ল্যাপটপটির বডিতে ম্যাগনেসিয়াম-অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি এতে ন্যানো সিরামিক প্রযুক্তি এবং স্ক্র্যাচ প্রতিরোধের সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ল্যাপটপটি মুন গ্রে ও জেট ফগ রঙে পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যাটারি ও চার্জিং
ব্যাটারির জন্য এতে রয়েছে ৭০Wh ক্ষমতার ব্যাটারি এবং এর সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ৯০W চার্জিং অ্যাডাপ্টার। ফলে কাজের সময় ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে দ্রুত চার্জ দেওয়ার সুবিধাও রয়েছে।
এখানে মনে রাখা দরকার, বাস্তবে ব্যাটারি কতক্ষণ চলবে তা কাজের ধরন, ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা, সফটওয়্যার ব্যবহার এবং অন্যান্য সেটিংসের ওপর নির্ভর করবে।
নিরাপত্তার জন্য যেসব সুবিধা আছে
করপোরেট ব্যবহারকারীদের কথা মাথায় রেখে ল্যাপটপটিতে একাধিক নিরাপত্তা সুবিধা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আই আর ক্যামেরা, প্রাইভেসি শাটার, উইন্ডোজ হেলো, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর, BIOS প্রোটেকশন এবং TPM 2.0।
ভিডিও মিটিংয়ের সময় ক্যামেরা ব্যবহারের পাশাপাশি উইন্ডোজ হেলো দিয়ে দ্রুত লগইন করার সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে প্রাইভেসি শাটার ক্যামেরা ব্যবহারের সময় গোপনীয়তার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে।
আরো পড়ুনঃ
কিবোর্ড, টাচপ্যাড ও অডিও
টাইপ করার সুবিধার জন্য এতে রয়েছে ব্যাকলিট কিবোর্ড। পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে হ্যাপটিক টাচপ্যাড। অডিওর জন্য রয়েছে ছয়টি স্পিকার, যেখানে Dolby এটমস-এর সমর্থন রয়েছে। ফলে অফিসের কাজের পাশাপাশি ভিডিও দেখা বা অনলাইন মিটিংয়ের সময়ও ল্যাপটপটির বিল্ট-ইন অডিও ব্যবহার করা যাবে।
বাংলাদেশে ASUS ExpertBook B9 Ultra-এর দাম
বাংলাদেশের বাজারে ASUS ExpertBook B9 Ultra-এর দাম ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ল্যাপটপটির সঙ্গে তিন বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে এবং এটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড পিএলসির মাধ্যমে দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।
এই দামের ল্যাপটপে মূলত হালকা ওজনের সঙ্গে শক্তিশালী প্রসেসর, 3K OLED টাচ ডিসপ্লে, পর্যাপ্ত র্যাম ও এসএসডি, আধুনিক কানেক্টিভিটি এবং ব্যবসায়িক নিরাপত্তা সুবিধাগুলো একসঙ্গে দেওয়া হয়েছে। তাই কেনার আগে নিজের কাজের ধরন অনুযায়ী কোন প্রসেসর, RAM ও স্টোরেজ কনফিগারেশন প্রয়োজন, সেটি মিলিয়ে নেওয়াই ভালো।