নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করবেন যেভাবে

Telegram Group Join our Telegram channel
Join
Spread the love

এক নজরে: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই ফরম প্রযোজ্য নয়। একই নির্বাচনী এলাকার মধ্যে স্থানান্তরের জন্য ফরম-১৩ এবং অন্য ভোটার এলাকায় স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ও নিয়ম আগে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

নিজের ভোটার এলাকা পরিবর্তন করবেন যেভাবে

বাড়ি বদলানোর পর অনেকেই একটা বিষয় নিয়ে চিন্তায় পড়েন—ভোটার এলাকা কি আগের জায়গাতেই থাকবে, নাকি নতুন এলাকার ভোটার হওয়া যাবে? বাস্তবে স্থায়ীভাবে অন্য এলাকায় চলে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করা যায়। এর জন্য নতুন করে ভোটার হওয়ার দরকার নেই।

তবে শুধু বাসার ঠিকানা বদলালেই ভোটার এলাকা নিজে থেকে পরিবর্তন হয়ে যায় না। নির্দিষ্ট নিয়মে আবেদন করতে হয় এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস আপনার তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আগে তাই প্রথম কাজ হলো—আপনার নতুন ঠিকানাটি কোন নির্বাচনী এলাকার মধ্যে পড়ছে এবং আপনার ক্ষেত্রে কোন ফরম ব্যবহার করতে হবে, সেটি নিশ্চিত করা।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য কোন ফরম লাগবে?

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ফরম তালিকায় ভোটার এলাকা স্থানান্তরের জন্য আলাদা ফরম রয়েছে। একই নির্বাচনী এলাকার মধ্যে এক ভোটার এলাকা থেকে অন্য ভোটার এলাকায় স্থানান্তরের জন্য ফরম-১৩ ব্যবহার করা হয়। অন্য ধরনের ভোটার এলাকা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ফরম ও প্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে।

এই কারণে অনলাইনে পাওয়া পুরোনো কোনো তথ্য দেখে সরাসরি আবেদন না করে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ফরম তালিকাটি দেখে নেওয়া ভালো।

→ নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ভোটার ফরমগুলো দেখুন

ফরম-১৩ কোথা থেকে পাবেন?

ফরম-১৩ নির্বাচন কমিশন বা জাতীয় পরিচয়পত্রের সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যায়। চাইলে ফরমটি ডাউনলোড করে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করতে পারেন।

ফরম-১৩ পূরণ করার সময় কী তথ্য দিতে হবে?

ফরম পূরণ করার সময় তাড়াহুড়া না করাই ভালো। আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রে যেভাবে নাম, জন্মতারিখ ও অন্যান্য তথ্য রয়েছে, সেভাবেই লিখুন।

সাধারণত ফরমে আপনার নাম, NID নম্বর, জন্মতারিখ, বর্তমান ভোটার এলাকার তথ্য এবং যে এলাকায় যেতে চান সেই এলাকার তথ্য দিতে হয়। নতুন ঠিকানায় কতদিন ধরে বসবাস করছেন এবং কেন ভোটার এলাকা পরিবর্তন করতে চান, সেটিও উল্লেখ করতে হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ 

দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে সম্পূর্ণ তালিকা ২০২৬

বিশেষ করে নতুন এলাকার জেলা, উপজেলা বা থানা, ওয়ার্ড এবং ভোটার এলাকার তথ্য লেখার সময় ভুল হলে পরে সংশোধনের ঝামেলা হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে তথ্যটি মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের জন্য কী কী কাগজ লাগবে?

শুধু ফরম পূরণ করলেই সবসময় আবেদন সম্পন্ন হয় না। নতুন ঠিকানায় আপনি সত্যিই বসবাস করছেন—এমন প্রমাণও প্রয়োজন হতে পারে।

এর মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে হতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউটিলিটি বিল, বাড়ি ভাড়ার রসিদ, করের রসিদ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়নপত্রের মতো দলিল চাওয়া হতে পারে।

তবে সবার ক্ষেত্রে কাগজপত্রের তালিকা এক হবে এমন নয়। তাই আপনার আবেদনটি কোন নির্বাচন অফিসে জমা হবে, সেখানে আগে ফোন করে বা সরাসরি গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা জেনে নিলে ভালো হয়।

ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন করার ধাপ

১. আগে নতুন এলাকার তথ্য নিশ্চিত করুন

আপনি যে এলাকায় বসবাস করছেন সেটি কোন ওয়ার্ড ও ভোটার এলাকার মধ্যে পড়ে, তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে জেনে নিন। এই তথ্য নিশ্চিত না করে ফরম পূরণ করলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

২. প্রয়োজনীয় ফরম সংগ্রহ করুন

আপনার ক্ষেত্রে কোন ফরম প্রযোজ্য সেটি নিশ্চিত করে ফরম সংগ্রহ করুন। একই নির্বাচনী এলাকার মধ্যে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফরম-১৩ প্রযোজ্য হতে পারে।

→ নির্বাচন কমিশনের ফরম তালিকা দেখুন

৩. ফরমটি ঠিকভাবে পূরণ করুন

NID অনুযায়ী নিজের তথ্য লিখুন। বর্তমান ভোটার এলাকা এবং নতুন ভোটার এলাকার তথ্য আলাদা করে সঠিকভাবে পূরণ করুন। কোনো ঘর বুঝতে সমস্যা হলে অনুমান করে না লিখে নির্বাচন অফিসের সহায়তা নেওয়াই ভালো।

৪. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিন

ফরমের সঙ্গে NID-এর কপি এবং নতুন ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় দলিল প্রস্তুত রাখুন। মূল কাগজপত্রও সঙ্গে রাখা ভালো, কারণ যাচাইয়ের সময় সেগুলো দেখতে চাইতে পারে।

৫. সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে আবেদন জমা দিন

ফরম ও কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে জমা দিতে হয়। অফিস আপনার দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করার পর নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়।

একটি বিষয় মনে রাখবেন: ফরম জমা দেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ভোটার এলাকা পরিবর্তন হয়ে যায় না। আবেদন যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অফিসিয়াল প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর পরিবর্তন কার্যকর হয়।

ঠিকানা পরিবর্তন আর ভোটার এলাকা পরিবর্তন এক জিনিস নয়

এই জায়গাতেই অনেকের ভুল হয়। NID-তে ঠিকানা সংশোধন করা আর ভোটার এলাকা পরিবর্তন করা একই বিষয় নয়।

ধরুন, আপনার NID-তে বাড়ির নম্বর বা ঠিকানার কোনো অংশ ভুল লেখা আছে। সেটি সংশোধনের বিষয় হতে পারে। আবার আপনি আগের এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় দীর্ঘদিনের জন্য বসবাস শুরু করেছেন এবং নতুন এলাকার ভোটার তালিকায় যেতে চান—তাহলে ভোটার এলাকা স্থানান্তরের বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ

নতুন ভোটার হতে গেলে কি কি কাগজপত্র লাগবে জানুন

তাই শুধু NID-র ঠিকানা পরিবর্তন করলেই ভোটার এলাকা পরিবর্তন হয়ে যাবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সেবাটির জন্য আবেদন করতে হবে।

→ NID সংশোধন সংক্রান্ত সরকারি তথ্য দেখুন

আবেদন করার আগে এই বিষয়গুলো দেখে নিন

  • NID নম্বর ও জন্মতারিখ ঠিক আছে কি না মিলিয়ে নিন।
  • বর্তমান ভোটার এলাকার তথ্য সঠিকভাবে লিখুন।
  • নতুন এলাকার ওয়ার্ড ও ভোটার এলাকার তথ্য আগে নিশ্চিত করুন।
  • নতুন ঠিকানায় বসবাসের প্রমাণ হিসেবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন।
  • আপনার ক্ষেত্রে ফরম-১৩ নাকি অন্য কোনো ফরম লাগবে, তা নিশ্চিত করুন।
  • আবেদন জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসের বর্তমান নির্দেশনা জেনে নিন।

দরকারি সরকারি লিংক

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন:
ecs.gov.bd

ভোটার সংক্রান্ত ফরম:
ভোটার ফরমের তালিকা

ফরম-১৩:
ফরম-১৩ ডাউনলোড

জাতীয় পরিচয়পত্রের সরকারি ওয়েবসাইট:
NID Wing

নতুন এলাকায় যাওয়ার পর ভোটার তথ্যও যদি সেই এলাকার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে চান, তাহলে আগে স্থানীয় নির্বাচন অফিসে আপনার বর্তমান ভোটার এলাকা ও নতুন এলাকার তথ্য যাচাই করে নিন। সঠিক ফরম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অফিসের নির্দেশনা মেনে আবেদন করলে পরবর্তী কাজটি অনেকটাই পরিষ্কার থাকে। এই রকমের নিত্য নতুন তথ্য পেতে আমাদের forumbd24 এর সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

Telegram Group Join our Telegram channel
Join
SA Samim

আমি শামীম ইসলাম, Forumbd24.com এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন চাকরীজীবী। চাকুরীর পাশাপাশি forumbd24 এ লেখালিখি করি। আমি জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি (বিজ্ঞান) নিয়ে পড়াশুনা করেছি।

Leave a Comment

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com