ডিজিটাল প্রযুক্তির এই আধুনিক যুগে ব্যাংকিং সেবা এখন মানুষের হাতের মুঠোয় চলে এসেছে। বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবনে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অ্যাকাউন্ট খোলার দিন এখন শেষ। এখন যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো সময় মাত্র কয়েক মিনিটে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব। বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এবং অন্যতম প্রাচীন বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক পিএলসি (Pubali Bank PLC) তাদের গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছে একটি যুগান্তকারী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন—PI Banking App।
আপনি যদি একটি সম্পূর্ণ ঝামেলামুক্ত এবং আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খুলতে চান, তবে পূবালী ব্যাংকের এই অ্যাপটি হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ। আজকের এই বিস্তারিত নির্দেশিকাতে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন এবং কীভাবে অতি দ্রুত ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আপনার অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় করবেন। একজন সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে পেশাদার ফ্রিল্যান্সার বা চাকুরিজীবী—সবার জন্যই এই টিউটোরিয়ালটি অত্যন্ত সহজ ভাষায় সাজানো হয়েছে।
PI Banking APP কী?
PI Banking App হলো পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর অফিসিয়াল মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্ম। ‘PI’ (π) শব্দটি দ্বারা একদিকে যেমন পূবালী ইন্টারনেট ব্যাংকিং (Pubali Internet Banking)-কে বোঝায়, অন্যদিকে এটি গণিতের সেই বিখ্যাত পাই (π) চিহ্নের মতো অসীম সম্ভাবনা এবং আধুনিক আর্থিক সেবার প্রতীককে নির্দেশ করে।
এই অ্যাপটির মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি চমৎকার, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী বিকল্প প্রদান করা। অ্যান্ড্রয়েড এবং আইওএস (iOS) উভয় প্ল্যাটফর্মেই এই অ্যাপটি ব্যবহার করা যায়। PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন তা জানার পূর্বে এটি বোঝা জরুরি যে, এই প্ল্যাটফর্মটি মূলত একটি সমন্বিত সমাধান। এর মাধ্যমে গ্রাহক শুধু অ্যাকাউন্টই খুলতে পারেন না, বরং যেকোনো সময় রিয়েল-টাইম ব্যালেন্স চেক, ফান্ড ট্রান্সফার এবং ইউটিলিটি বিল পেমেন্টসহ যাবতীয় আর্থিক লেনদেন পরিচালনা করতে পারেন।
PI Banking APP দিয়ে ঘরে বসে অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা
ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং নিয়মের বাইরে গিয়ে পূবালী ব্যাংকের এই ডিজিটাল অ্যাপ ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলার পেছনে রয়েছে চমৎকার সব সুবিধা। নিচে প্রধান সুবিধাগুলো আলোচনা করা হলো:
- সময় এবং যাতায়াত খরচ সাশ্রয়: ব্যাংকে স্বশরীরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ট্রাফিক জ্যাম এড়িয়ে যেকোনো সময় ঘরে বসেই এই কাজ সম্পন্ন করা যায়।
- কাগজবিহীন সহজ প্রক্রিয়া: কোনো দীর্ঘ ফরম পূরণ বা কাগজের ছবির প্রয়োজন হয় না। স্মার্টফোনের ক্যামেরার সাহায্যে ইনস্ট্যান্ট ভেরিফিকেশন করা সম্ভব।
- ২৪/৭ ব্যাংকিং সুবিধা: ছুটির দিন কিংবা মাঝরাত—যেকোনো সময় আপনি নতুন অ্যাকাউন্টের আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
- তাত্ক্ষণিক বা রিয়েল-টাইম অ্যাক্টিভেশন: e-KYC ভেরিফিকেশন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর তৈরি হয়ে যায়।
- নিরাপদ লেনদেনের নিশ্চয়তা: অ্যাপটিতে উন্নত সিকিউরিটি এবং ওটিপি (OTP) ও ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন ফিচার থাকায় এটি অত্যন্ত সুরক্ষিত।
এই অসাধারণ সব সুবিধার কারণেই বর্তমান সময়ে মানুষ পূবালী ব্যাংকের PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন সে বিষয়ে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছে।
অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী লাগবে?
ডিজিটাল পদ্ধতিতে পূবালী ব্যাংকের গ্রাহক হতে হলে আপনাকে পূর্বেই কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস ও তথ্য নিজের কাছে গুছিয়ে রাখতে হবে। প্রক্রিয়াটি দ্রুত শেষ করতে নিচের তালিকাটি লক্ষ্য করুন:
- স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ: একটি সচল অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস চালিত স্মার্টফোন এবং ভালো গতির ইন্টারনেট সংযোগ।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card) হাতের কাছে থাকতে হবে। কোনো ফটোকপি বা স্ক্যান কপি দিয়ে সরাসরি কাজ হবে না, কারণ অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ছবি তুলতে হবে।
- সচল মোবাইল নম্বর: আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর, যাতে ওটিপি (OTP) কোড পাঠানো যায়।
- ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত আলো: সরাসরি নিজের লাইভ ছবি তোলার জন্য মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরাটি পরিষ্কার থাকতে হবে এবং ঘরে পর্যাপ্ত আলো থাকতে হবে।
- নমিনীর তথ্য: নমিনীর জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর এবং তার সাধারণ তথ্যাদি প্রস্তুত রাখতে হবে।
এই সাধারণ জিনিসগুলো প্রস্তুত রাখলে আপনি অতি সহজেই PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন সেই মূল ধাপগুলোতে প্রবেশ করতে পারবেন।

ধাপে ধাপে অ্যাকাউন্ট তৈরির নিয়ম
নিচে পূবালী ব্যাংকের PI Banking App ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেভিংস বা চলতি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার নিখুঁত প্র্যাকটিক্যাল গাইড দেওয়া হলো। মনোযোগ দিয়ে প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করুন:
ধাপ ১: অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টলেশন
প্রথমে আপনার স্মার্টফোনের গুগল প্লে স্টোর (Google Play Store) অথবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর (Apple App Store) এ যান। সার্চ বক্সে লিখুন “PI Banking” এবং পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর অফিসিয়াল অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন।
ধাপ ২: ইনস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্ট অপশন নির্বাচন
অ্যাপটি ওপেন করার পর হোম স্ক্রিনে আপনি বেশ কয়েকটি অপশন দেখতে পাবেন। নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য “Instant Account Opening (e-KYC)” অথবা “Open Account” বাটনে ট্যাপ করুন।
ধাপ ৩: মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি যাচাই
এবার আপনার সচল মোবাইল নম্বরটি লিখুন এবং অপারেটর সিলেক্ট করুন। আপনার দেওয়া নম্বরে তাৎক্ষণিকভাবে একটি ৬ ডিজিটের ওটিপি (OTP) বা ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে। নির্ধারিত স্থানে ওটিপি কোডটি বসিয়ে মোবাইল নম্বরটি যাচাই করুন।
ধাপ ৪: এনআইডি কার্ডের ছবি আপলোড
এই ধাপে আপনাকে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনের অংশ এবং পেছনের অংশের স্পষ্ট ছবি তুলতে হবে। মনে রাখবেন, কোনো ঝাপসা বা আলো কম থাকা ছবি সিস্টেম গ্রহণ করবে না। তাই সোজা করে সমান্তরাল রেখে ছবি তুলুন।
ধাপ ৫: ব্যক্তিগত তথ্য ও পেশা নির্বাচন
এনআইডি কার্ড সাবমিট করার পর আপনার নাম, জন্মতারিখ, পিতা ও মাতার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্ক্রিনে চলে আসবে। এরপর আপনার বর্তমান ঠিকানা, পেশা (যেমন: চাকুরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী বা ফ্রিল্যান্সার) এবং আয়ের উৎস সম্পর্কিত সাধারণ তথ্যগুলো সিলেক্ট করুন।
ধাপ ৬: লাইভ ফেস ভেরিফিকেশন ও সেলফি
এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আপনার মোবাইলের সামনের ক্যামেরা দিয়ে নিজের একটি লাইভ সেলফি তুলতে হবে। স্ক্রিনের নির্দেশনা অনুযায়ী চোখ পিটপিট (blink) করুন অথবা মাথা কিছুটা নাড়ান, যাতে সিস্টেম নিশ্চিত হতে পারে যে এটি কোনো স্থির ছবি নয়।
ধাপ ৭: নমিনীর তথ্য প্রদান
আপনার অ্যাকাউন্টের জন্য নমিনীর নাম, নমিনীর সাথে আপনার সম্পর্ক এবং তার এনআইডি নম্বর বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ইনপুট দিন।
ধাপ ৮: ব্রাঞ্চ নির্বাচন ও চূড়ান্ত সাবমিশন
আপনার সুবিধাজনক এলাকার নিকটস্থ পূবালী ব্যাংক শাখাটি সিলেক্ট করুন। সবকিছু পুনরায় চেক করে “Submit” বাটনে ক্লিক করুন। ব্যস, PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন তার মূল প্রক্রিয়া এখানে সম্পন্ন হলো।
e-KYC ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া
ডিজিটাল ব্যাংকিং জগতে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বৈপ্লবিক প্রযুক্তি হলো e-KYC (Electronic Know Your Customer)। এটি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কাগজের ফরম পূরণ বা সশরীরে ব্যাংকে উপস্থিত না হয়েও গ্রাহকের পরিচয় শতভাগ নির্ভুলভাবে যাচাই করা যায়।
পূবালী ব্যাংকের PI Banking App আপনার দেওয়া এনআইডি কার্ডের তথ্য এবং লাইভ ফেস ভেরিফিকেশনের ছবি সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (NID Database) তথ্যভাণ্ডারের সাথে রিয়েল-টাইম বা তাৎক্ষণিকভাবে মিলিয়ে দেখে। যখন ডেটাবেজের তথ্যের সাথে আপনার ফেস বায়োমেট্রিক হুবহু মিলে যায়, তখনই সিস্টেম আপনার অ্যাকাউন্টের অনুমোদন দেয়। এটি একদিকে যেমন জালয়াতি প্রতিরোধ করে, অন্যদিকে তেমনি অত্যন্ত সহজ উপায়ে ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট খোলার নিশ্চয়তা দেয়। তাই PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় ই-কেওয়াইসি হলো মূল ভিত্তি।
আবেদন অনুমোদন হতে কত সময় লাগতে পারে?
সাধারণত PI Banking App-এর মাধ্যমে e-KYC প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর রিয়েল-টাইমে অর্থাৎ মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই নতুন অ্যাকাউন্ট নম্বর তৈরি হয়ে যায়। তবে অনেক সময় বাড়তি নিরাপত্তা বা তথ্যের জটিলতার কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ম্যানুয়ালি তথ্যগুলো যাচাই করে থাকে।
Read Also:
জন্ম নিবন্ধন বাংলা থেকে ইংরেজি করার নিয়ম ২০২৬ | অনলাইন আবেদন গাইড
চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে ফুটবল বিশ্বকাপের আবহে নিজের ছবি তৈরির ১০টি সেরা AI Prompt (২০২৬)
ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি Download করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন ২০২৬
যদি আপনার এনআইডি তথ্যে কোনো সমস্যা না থাকে এবং ছবি একদম স্পষ্ট হয়, তবে সর্বোচ্চ ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার (১ থেকে ৩ কার্যদিবস) মধ্যে আপনার অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ সচল বা এক্টিভ হয়ে যাবে। আপনার অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় হওয়ার সাথে সাথেই আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে কনফার্মেশন ও অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
নিরাপত্তা ও সতর্কতা
ডিজিটাল পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট পরিচালনার ক্ষেত্রে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবচেয়ে জরুরি বিষয়। পূবালী ব্যাংক তার গ্রাহকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে অত্যাধুনিক সিকিউরিটি এনক্রিপশন সিস্টেম ব্যবহার করে থাকে। তবে গ্রাহক হিসেবে আপনাকেও সচেতন থাকতে হবে।
নিরাপত্তা বজায় রাখতে মাঝে মাঝে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা এবং কোনো অপরিচিত ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করে ব্যাংকিং লেনদেন না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন সেই ধাপগুলোতে সবসময় সচেতনতা বজায় রাখুন।
ধাপসমূহ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের তুলনামূলক টেবিল
নিচের টেবিলটি থেকে আপনি সংক্ষেপে অ্যাকাউন্ট খোলার মূল ধাপ এবং প্রতিটি ধাপে কোন বিষয়ে বেশি নজর দিতে হবে তার একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যাবেন:
| ধাপ নং | করণীয় | গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ |
|---|---|---|
| ০১ | অ্যাপ ডাউনলোড ও মোবাইল ওটিপি যাচাই | আপনার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করুন। |
| ০২ | NID কার্ডের সামনের ও পেছনের ছবি তোলা | টেবিলের ওপর সোজা করে রেখে পর্যাপ্ত আলোতে ছবি তুলুন যেন টেক্সটগুলো স্পষ্ট পড়া যায়। |
| ০৩ | লাইভ সেলফি বা ফেস ভেরিফিকেশন | ক্যামেরার সামনে চশমা বা টুপি খুলে বসুন এবং স্ক্রিনের নির্দেশ অনুযায়ী চোখের পলক ফেলুন। |
| ০৪ | ব্যক্তিগত ও নমিনীর তথ্য প্রদান | নমিনীর সঠিক জন্মতারিখ এবং এনআইডি নম্বরটি নির্ভুলভাবে পূরণ করুন। |
| ০৫ | ব্রাঞ্চ সিলেক্ট ও সাবমিট করা | আপনার বাড়ির সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থিত পূবালী ব্যাংকের শাখাটি নির্বাচন করুন। |
সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
অনলাইনে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সময় ব্যবহারকারীরা কিছু সাধারণ টেকনিক্যাল বা প্রক্রিয়াগত সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। নিচে এ ধরণের কিছু পরিচিত সমস্যা এবং সেগুলোর সহজ সমাধান দেওয়া হলো:
১. ওটিপি (OTP) কোড ফোনে আসছে না:
সমাধান: অনেক সময় নেটওয়ার্কের ত্রুটির কারণে এসএমএস পেতে দেরি হয়। আপনি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে পুনরায় ‘Resend OTP’ দিতে পারেন। এছাড়া মোবাইল নম্বরটি সঠিক এবং সচল আছে কি না তা চেক করুন।
২. এনআইডি (NID) কার্ডের ছবি রিজেক্ট হচ্ছে:
সমাধান: ছবি তোলার সময় এনআইডির ওপর লাইটের অতিরিক্ত ফ্ল্যাশ বা আলো যেন না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন। একটি সমতল ও এক রঙের সারফেসের ওপর কার্ডটি রেখে দিনের আলোতে ছবি তুলুন।
৩. ফেস ভেরিফিকেশন ফেইল দেখাচ্ছে:
সমাধান: লাইভ সেলফি নেওয়ার সময় আপনার মুখমণ্ডলে পর্যাপ্ত আলো থাকা দরকার। আপনার ফেস যেন ক্যামেরার বৃত্তের ঠিক মাঝখানে থাকে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী সঠিক সময়ে চোখের পলক ফেলুন।
৪. “Registration Failed” বা টেকনিক্যাল এরর দেখালে:
সমাধান: আপনার ইন্টারনেট কানেকশন চেক করুন। অনেক সময় ব্যাংকের সার্ভার মেইনটেন্যান্স বা আপগ্রেডের কাজের সময় এমন হতে পারে। কিছুক্ষণ পর নতুন করে চেষ্টা করুন অথবা অ্যাপের ক্যাশ মেমোরি ক্লিয়ার করে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. PI Banking APP কোন ব্যাংকের অফিশিয়াল অ্যাপ?
PI Banking App হলো পূবালী ব্যাংক পিএলসি (Pubali Bank PLC)-এর অফিশিয়াল ডিজিটাল এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন।
২. এই অ্যাপ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে কি ব্যাংকে যাওয়ার প্রয়োজন আছে?
না, PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন তার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াই ১০০% ডিজিটাল। আপনার কোনো কাজের জন্যই সশরীরে ব্যাংকে যেতে হবে না।
৩. অ্যাকাউন্ট খুলতে কোনো ফি বা চার্জ কাটে কি?
না, অ্যাপের মাধ্যমে ই-কেওয়াইসি ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলার প্রাথমিক প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়। তবে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক মেইনটেন্যান্স ফি বা কার্ডের চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
৪. স্মার্ট কার্ড ছাড়া কি সাধারণ এনআইডি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদত্ত যেকোনো বৈধ ও সচল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্ট আইডি কার্ড ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
৫. অ্যাকাউন্ট খোলার পর চেক বই বা এটিএম কার্ড কীভাবে পাবো?
অ্যাকাউন্ট সফলভাবে অ্যাক্টিভ হওয়ার পর আপনি আপনার নির্বাচিত শাখা বা ব্রাঞ্চে যোগাযোগ করে ডেবিট/এটিএম কার্ড এবং চেক বইয়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
৬. আমি কি একটি এনআইডি কার্ড দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবো?
সাধারণত পূবালী ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের অধীনে একজন গ্রাহকের জন্য একটিমাত্র মূল সঞ্চয়ী (Savings) অ্যাকাউন্ট খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়।
৭. প্রবাসী বা রেমিট্যান্স অ্যাকাউন্ট কি এই অ্যাপ দিয়ে খোলা যায়?
বর্তমানে পূবালী ব্যাংকের অফশোর ও রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সেবা ডিজিটাল অ্যাপে যুক্ত হচ্ছে। তবে সাধারণ সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট খোলার পর আপনি বিদেশ থেকে সহজেই রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারবেন।
৮. ওটিপি (OTP) এর মেয়াদ কতক্ষণ থাকে?
নিরাপত্তাজনিত কারণে PI Banking App থেকে পাঠানো প্রতিটি ওটিপি কোডের মেয়াদ সাধারণত ৩ থেকে ৫ মিনিট পর্যন্ত কার্যকর থাকে।
৯. ফেস ভেরিফিকেশনের সময় কেন চোখের পলক ফেলতে বলা হয়?
এটি একটি আধুনিক ‘Liveness Detection’ প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে সিস্টেম নিশ্চিত করে যে আবেদনকারী একজন জ্যান্ত মানুষ, কোনো প্রিন্ট করা ছবি বা ভুয়া স্ক্রিন ব্যবহার করা হচ্ছে না।
১০. কোনো জিজ্ঞাসা বা সমস্যার সম্মুখীন হলে পূবালী ব্যাংকের হেল্পলাইন নম্বর কত?
যেকোনো সমস্যা বা তথ্যের জন্য পূবালী ব্যাংকের কাস্টমার কেয়ার ১৬২৫২ অথবা +৮৮০৯৬১২৩১৬২৫২ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
উপসংহার
আধুনিক ব্যাংকিং সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে পূবালী ব্যাংকের এই ডিজিটাল উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। ঘরে বসে নিজের সুবিধাজনক সময়ে অ্যাকাউন্ট খোলার এই সহজ ও নিরাপদ পদ্ধতি আমাদের প্রাত্যহিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে অনেকটাই সহজ করে তুলেছে। আমরা আশা করছি, এই পোস্টটি পড়ার পর PI Banking APP দিয়ে যে ভাবে ঘরে বসেই ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরী করবেন সে বিষয়ে আপনার মনের সকল প্রশ্ন ও জটিলতার অবসান ঘটেছে।
তাহলে আর দেরি কেন? আজই আপনার স্মার্টফোনে অ্যাপটি ডাউনলোড করুন এবং নিজের একটি আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট তৈরি করে ফেলুন। এই তথ্যবহুল ও কাজের টিউটোরিয়ালটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করে তাদেরকেও ঘরে বসে ঝামেলাহীন ব্যাংকিং শুরু করতে সাহায্য করুন। প্রযুক্তি ও ফিনটেক সম্পর্কিত যেকোনো নতুন তথ্যের জন্য নিয়মিত আমাদের সাইটটি ভিজিট করতে পারেন। ধন্যবাদ!

One Reply
[…] […]