In this article
Spread the love

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা ধারাবাহিকের চতুর্থ পর্বে আপনাকে স্বাগতম। আগের তিনটি পর্বে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ধারণা, এর বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। তাই ধারাবাহিকটি শুরু থেকে পড়তে চাইলে আগের পর্বগুলো দেখে নিতে পারেন।

আগের পর্বগুলো:

এবার আসা যাক আজকের মূল বিষয়ে—এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন।

আপনি হয়তো অনেক সময় এমন একটি ওয়েবসাইটের লেখা পড়েছেন, যেটি খুব ভালোভাবে লেখা হলেও গুগলে খুঁজে পাওয়া কঠিন। আবার কোনো সাধারণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে এমন কিছু ওয়েবসাইটও সামনে এসেছে, যেখানে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য খুব দ্রুত পাওয়া গেছে। এই পার্থক্যের পেছনে কনটেন্টের মানের পাশাপাশি ওয়েবপেজকে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে বোধ্য ও আবিষ্কারযোগ্য করে তোলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

এই কাজের সামগ্রিক প্রক্রিয়াই হলো এসইও। তবে এসইওকে শুধু “গুগলের প্রথম পাতায় ওঠার কৌশল” হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এর মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যবহারকারীর প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য তৈরি করা এবং সার্চ ইঞ্জিনকে সেই তথ্য বুঝতে সাহায্য করা।

গুগল সার্চে ওয়েবপেজ খুঁজে পাওয়া, তথ্য সংগ্রহ ও ফলাফল দেখানোর প্রক্রিয়ার চিত্র

এসইও আসলে কী?

এসইও-এর পূর্ণরূপ সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন। সহজ ভাষায়, ওয়েবসাইট ও তার কনটেন্টকে এমনভাবে তৈরি ও সাজানোর প্রক্রিয়াকে এসইও বলা যায়, যাতে সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবপেজটির বিষয়বস্তু বুঝতে পারে এবং প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে সেটিকে ব্যবহারকারীর সামনে দেখানোর সুযোগ পায়।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখা দরকার—এসইও করলেই কোনো ওয়েবপেজ নির্দিষ্ট অবস্থানে বা গুগলের প্রথম স্থানে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সার্চ ফলাফল বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে তৈরি হয়। তাই এসইওর লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু অবস্থান পাওয়ার চেষ্টা নয়; বরং সঠিক মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছানোর মতো একটি ভালো ওয়েবপেজ তৈরি করা।

সার্চ ইঞ্জিন কী?

সার্চ ইঞ্জিন হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে থাকা বিপুল পরিমাণ তথ্যের মধ্য থেকে ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। গুগল, বিং এবং ইয়াহু এর পরিচিত উদাহরণ।

আপনি যখন গুগলে কোনো প্রশ্ন বা শব্দ লিখে অনুসন্ধান করেন, তখন গুগল সেই মুহূর্তে পুরো ইন্টারনেট নতুন করে পড়ে ফলাফল তৈরি করে না। আগে থেকে সংগৃহীত ও বিশ্লেষণ করা তথ্যের মধ্য থেকে আপনার অনুসন্ধানের সঙ্গে সম্পর্কিত ফলাফল নির্বাচন করে দেখায়।

এই কারণেই একটি ওয়েবসাইটের পেজ সার্চ ইঞ্জিনের কাছে আবিষ্কারযোগ্য এবং বিষয়বস্তুর দিক থেকে পরিষ্কার হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি ভালো লেখা তৈরি করলেই কাজ শেষ হয় না। পাঠক যদি সেটি খুঁজেই না পান, তাহলে সেই লেখার ব্যবহারিক মূল্য অনেকটাই সীমিত হয়ে যায়। এসইও ওয়েবসাইটের কনটেন্টকে অনুসন্ধান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

এর গুরুত্ব কয়েকটি জায়গায় বোঝা যায়:

  • স্বাভাবিকভাবে পাঠক পাওয়ার সুযোগ: মানুষ কোনো বিষয় অনুসন্ধান করলে প্রাসঙ্গিক কনটেন্টের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে আসতে পারে।
  • বিষয়বস্তু বোঝানো: পরিষ্কার কাঠামো ও অর্থপূর্ণ তথ্য সার্চ ইঞ্জিনকে একটি পেজের বিষয় বুঝতে সহায়তা করতে পারে।
  • সঠিক পাঠকের কাছে পৌঁছানো: ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য অনুযায়ী লেখা হলে প্রয়োজনীয় পাঠকের সঙ্গে কনটেন্টের মিল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
  • দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা: উপকারী কোনো লেখা প্রকাশের পরও মানুষ সেটি অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে পেতে পারে। তবে এর অবস্থান ও দৃশ্যমানতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে একটি ওয়েবপেজ খুঁজে পায়?

এসইও বুঝতে হলে সার্চ ইঞ্জিনের মৌলিক কাজের ধাপগুলো জানা দরকার। সহজভাবে বিষয়টি তিনটি পর্যায়ে বোঝা যায়—তথ্য খোঁজা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ, এবং অনুসন্ধানের সময় ফলাফল দেখানো।

১. ক্রলিং বা তথ্য খোঁজা

সার্চ ইঞ্জিনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ওয়েবে থাকা নতুন ও পরিবর্তিত পেজ খুঁজে বের করে। কোনো পেজের ঠিকানা অন্য কোনো পরিচিত পেজের লিংক, সাইটের মানচিত্রসহ বিভিন্ন উপায়ে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে পৌঁছাতে পারে।

তবে নতুন কোনো লেখা প্রকাশ করলেই সেটি সঙ্গে সঙ্গে খুঁজে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ওয়েবসাইটের কাঠামো, পেজে প্রবেশের সুযোগ, অভ্যন্তরীণ সংযোগ এবং অন্যান্য বিষয়ও এখানে ভূমিকা রাখে।

২. তথ্য বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ

একটি পেজ খুঁজে পাওয়ার পর সার্চ ইঞ্জিন তার বিষয়বস্তু ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ করে। উপযুক্ত হলে সেই তথ্য সার্চ ইঞ্জিনের বিশাল সূচিতে সংরক্ষিত হতে পারে। এই প্রক্রিয়াকে সাধারণভাবে ইনডেক্সিং বলা হয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখুন—কোনো পেজ খুঁজে পাওয়া এবং সেই পেজের তথ্য সূচিতে সংরক্ষিত হওয়া একই বিষয় নয়।

৩. অনুসন্ধানের সময় ফলাফল দেখানো

ব্যবহারকারী যখন কোনো বিষয় অনুসন্ধান করেন, তখন সার্চ ইঞ্জিন তার সংরক্ষিত তথ্যের মধ্য থেকে অনুসন্ধানের সঙ্গে সম্পর্কিত ফলাফল নির্বাচন করে দেখায়। কোন পেজ কী অবস্থানে থাকবে, তা বিভিন্ন প্রাসঙ্গিকতা ও গুণগত সংকেতের ওপর নির্ভর করে।

তাই “ইনডেক্স হয়েছে” মানেই “প্রথমে দেখা যাবে”—এমন ধারণা ঠিক নয়। আবার একটি পেজের অবস্থান একবার পাওয়া গেলে সেটি চিরস্থায়ীও নয়।

এসইওর প্রধান ক্ষেত্রগুলো কী?

এসইও একটি মাত্র কাজের নাম নয়। ওয়েবসাইটের পেজের ভেতরের তথ্য, কারিগরি কাঠামো এবং ওয়েবসাইটের বাইরের পরিচিতি—সব মিলিয়ে এর বিস্তৃত ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। শেখার সুবিধার জন্য বিষয়গুলোকে কয়েকটি ভাগে দেখা যায়।

অন-পেজ এসইও

ওয়েবপেজের নিজের কনটেন্ট ও কাঠামো নিয়ে যে অপ্টিমাইজেশনের কাজ করা হয়, সেটিকে অন-পেজ এসইও বলা হয়। পেজের বিষয়, পাঠকের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য, শিরোনাম, উপশিরোনাম, কনটেন্টের বিন্যাস, অভ্যন্তরীণ সংযোগসহ অনেক বিষয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত।

এই পোস্টে অন-পেজ এসইওর প্রতিটি উপাদান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হচ্ছে না। কারণ সেটি আলাদা একটি ব্যবহারিক নির্দেশিকায় দেখানো হয়েছে।

অন-পেজ এসইও কীভাবে করবেন—সম্পূর্ণ ব্যবহারিক নির্দেশিকা পড়ুন

অফ-পেজ এসইও

ওয়েবসাইটের নিজের পেজের বাইরে তার পরিচিতি ও প্রাসঙ্গিকতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে সাধারণভাবে অফ-পেজ এসইওর আওতায় আলোচনা করা হয়। অন্য ওয়েবসাইট থেকে স্বাভাবিকভাবে পাওয়া প্রাসঙ্গিক উল্লেখ বা সংযোগ এর একটি অংশ হতে পারে।

তবে শুধু বেশি সংযোগ সংগ্রহ করাই অফ-পেজ এসইওর উদ্দেশ্য নয়। নিম্নমানের বা কৃত্রিমভাবে তৈরি সংযোগের ওপর নির্ভর না করে ভালো কনটেন্ট ও স্বাভাবিক পরিচিতি তৈরির দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

কারিগরি এসইও

ওয়েবসাইটের কারিগরি কাঠামো সার্চ ইঞ্জিন ও ব্যবহারকারীর জন্য ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, সেটি কারিগরি এসইওর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পেজে প্রবেশের সুযোগ, সূচিভুক্ত হওয়ার উপযোগিতা, ওয়েবসাইটের কাঠামো, মোবাইল ব্যবহারযোগ্যতা, পেজের কার্যকারিতা ইত্যাদি এর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কারিগরি এসইও একটি বিস্তৃত বিষয়। তাই এই পোস্টে এর প্রতিটি কারিগরি সমাধান না দিয়ে পরবর্তী আলাদা নির্দেশিকায় নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

এসইও শেখার আগে একটি বিষয় বুঝুন: পাঠকের উদ্দেশ্য

কেউ “কম্পিউটার ধীর কেন” লিখে অনুসন্ধান করলে সে হয়তো সমস্যার কারণ জানতে চাইছে। আবার কেউ “কম্পিউটার ধীর হলে কীভাবে ঠিক করব” লিখলে সে সমাধানের ধাপ খুঁজছে। শব্দ দুটি কাছাকাছি হলেও অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য এক নয়।

এই পার্থক্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শুধু একটি শব্দকে কেন্দ্র করে লেখা তৈরি করলেই হবে না; পাঠক সেই শব্দটি ব্যবহার করে আসলে কী জানতে চাইছেন, সেটিও বিবেচনা করতে হবে।

এই বিষয়টি বুঝে নেওয়ার পরের ধাপ হলো কীওয়ার্ড গবেষণা।

কীওয়ার্ড গবেষণা কীভাবে করবেন—পরবর্তী ধাপের বিস্তারিত নির্দেশিকা

নতুনদের এসইও শেখার সঠিক ক্রম

একেবারে শুরুতে সবকিছু একসঙ্গে শেখার প্রয়োজন নেই। বরং বিষয়গুলো একটি নির্দিষ্ট ক্রমে বুঝলে শেখা সহজ হয়।

  1. এসইওর মৌলিক ধারণা ও সার্চ ইঞ্জিনের কাজ বোঝা
  2. ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য বোঝা
  3. কীওয়ার্ড গবেষণার পদ্ধতি শেখা
  4. অন-পেজ এসইওর ব্যবহারিক প্রয়োগ শেখা
  5. কারিগরি এসইওর প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বোঝা
  6. অফ-পেজ এসইও ও স্বাভাবিক সংযোগ তৈরির ধারণা শেখা
  7. সার্চ ফলাফলের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী কনটেন্ট উন্নত করা

এই ধারাবাহিকতায় এগোলে প্রতিটি বিষয়কে আলাদা করে বোঝা যায় এবং একই তথ্য বারবার পড়ার প্রয়োজন কমে।

এসইও করতে গিয়ে নতুনরা যে ভুলগুলো করেন

একই শব্দ বারবার ব্যবহার করা

একটি শব্দ যত বেশি বার লেখা হবে, পেজ তত ভালো অবস্থানে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। স্বাভাবিক ভাষায় বিষয়টি ব্যাখ্যা করুন। পাঠককে বিরক্ত করে এমনভাবে একই শব্দ বারবার ব্যবহার করা উচিত নয়।

শুধু অবস্থান পাওয়ার জন্য লেখা

সার্চ ফলাফলে জায়গা পাওয়ার উদ্দেশ্যে এমন লেখা তৈরি করা ঠিক নয়, যেখানে পাঠকের প্রশ্নের উত্তরই পরিষ্কার নয়। একটি পেজের প্রথম কাজ হলো প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া।

ইনডেক্সিংকে র‍্যাংকিং মনে করা

পেজ সূচিতে থাকা এবং কোনো অনুসন্ধানে ভালো অবস্থানে থাকা দুটি আলাদা বিষয়। একটি পেজ ইনডেক্স হওয়ার পরও সেটি বিভিন্ন অনুসন্ধানে বিভিন্ন অবস্থানে থাকতে পারে বা কোনো নির্দিষ্ট অনুসন্ধানে দৃশ্যমান নাও হতে পারে।

শুধু সংযোগের সংখ্যার দিকে নজর দেওয়া

অন্য ওয়েবসাইটের সংযোগ পাওয়া মানেই ভালো অবস্থান নিশ্চিত নয়। সংযোগের প্রাসঙ্গিকতা, স্বাভাবিকতা এবং ওয়েবসাইটের সামগ্রিক মান গুরুত্বপূর্ণ।

এসইওকে একবারের কাজ মনে করা

ওয়েবসাইট প্রকাশের পর এসইওর কাজ শেষ হয়ে যায় না। প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো তথ্য পর্যালোচনা, প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা এবং ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী কনটেন্ট উন্নত করার প্রয়োজন হতে পারে।

এসইও শেখার সময় কোন সরঞ্জামগুলো কাজে লাগতে পারে?

শুরুতেই অনেক অর্থের সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি বিনামূল্যের সরঞ্জাম দিয়েই নতুনরা এসইওর মৌলিক কাজ পর্যবেক্ষণ ও শেখা শুরু করতে পারেন।

  • গুগল সার্চ কনসোল: আপনার ওয়েবসাইটের গুগল অনুসন্ধান-সংক্রান্ত উপস্থিতি, অনুসন্ধান থেকে পাওয়া ফল এবং সূচিভুক্তির বিভিন্ন তথ্য পর্যবেক্ষণে কাজে লাগে।
  • গুগল অ্যানালিটিক্স: ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীদের আগমন ও তাদের আচরণ সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণে ব্যবহার করা যায়।
  • গুগল ট্রেন্ডস: বিভিন্ন বিষয়ের অনুসন্ধান-আগ্রহ সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা বোঝার জন্য কাজে লাগে।
  • গুগল কীওয়ার্ড পরিকল্পনাকারী: কীওয়ার্ড গবেষণার সময় অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য ও বিজ্ঞাপন-ভিত্তিক পরিসংখ্যান বোঝার কাজে ব্যবহার করা যায়।

তবে কোনো সরঞ্জামের একটি সংখ্যা দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যবহারকারীর উদ্দেশ্য, বিষয়টির প্রাসঙ্গিকতা এবং বাস্তব অনুসন্ধান ফলাফল একসঙ্গে বিবেচনা করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এসইও নিয়ে কয়েকটি প্রচলিত ভুল ধারণা

এসইও করলেই প্রথম অবস্থান পাওয়া যায়

না। এসইও কোনো নির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করার পদ্ধতি নয়। এটি ওয়েবসাইট ও কনটেন্টকে অনুসন্ধানের জন্য আরও উপযোগী করার একটি চলমান প্রক্রিয়া।

শুধু বেশি সংযোগ থাকলেই ভালো ফল পাওয়া যায়

না। সংযোগের সংখ্যা একাই একটি ওয়েবসাইটের অবস্থান নির্ধারণ করে না। কৃত্রিমভাবে সংযোগ তৈরি করার বদলে প্রাসঙ্গিক ও স্বাভাবিক পরিচিতি তৈরির দিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

এসইও করতে হলে অবশ্যই প্রোগ্রামিং জানতে হবে

শুরু করার জন্য প্রোগ্রামিং জানা বাধ্যতামূলক নয়। তবে কারিগরি এসইওর কিছু বিষয় বুঝতে গেলে HTML, ওয়েবসাইটের কাঠামো, সার্ভার বা অন্যান্য প্রযুক্তিগত ধারণা কাজে লাগতে পারে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লেখা হলেই সেটি ভালো বা খারাপ

কোনো লেখা কীভাবে তৈরি হয়েছে—শুধু সেটি দিয়ে তার উপযোগিতা বিচার করা যায় না। তথ্য সঠিক কি না, পাঠকের প্রয়োজন পূরণ করছে কি না, যথেষ্ট মৌলিক ও উপকারী কি না—এসব বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করলে তথ্য যাচাই ও সম্পাদনা করা জরুরি।

এসইওর পরবর্তী ধাপে কী শিখবেন?

এই পর্বে আমরা এসইওর ভিত্তি, সার্চ ইঞ্জিনের কাজের মৌলিক ধাপ এবং এসইওর বড় ক্ষেত্রগুলো বুঝলাম। এখন পরবর্তী ধাপে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—মানুষ কী লিখে অনুসন্ধান করছে এবং সেই অনুসন্ধানের পেছনে তার উদ্দেশ্য কী।

এর জন্য প্রয়োজন কীওয়ার্ড গবেষণা।

কীওয়ার্ড গবেষণা শেখার পরবর্তী নির্দেশিকাটি পড়ুন

এরপর সেই গবেষণার ভিত্তিতে একটি ওয়েবপেজের ভেতরের বিভিন্ন অংশ কীভাবে সাজানো ও উন্নত করা যায়, সেটি জানতে পড়ুন:

অন-পেজ এসইও সম্পূর্ণ ব্যবহারিক নির্দেশিকা

সাধারণ জিজ্ঞাসা

এসইও করে গুগলের প্রথম পাতায় আসতে কতদিন লাগে?

এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। নতুন ওয়েবসাইট বা নতুন পেজের ক্ষেত্রে অনুসন্ধান ইঞ্জিনের মাধ্যমে তথ্য খুঁজে পাওয়া, সূচিভুক্ত হওয়া এবং দৃশ্যমানতা তৈরি হতে সময় ভিন্ন হতে পারে। প্রতিযোগিতা, ওয়েবসাইটের অবস্থা, বিষয় এবং কনটেন্টসহ অনেক বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। তাই “নির্দিষ্ট তিন মাস বা ছয় মাসের মধ্যে প্রথম পাতায় আসব”—এমন নিশ্চয়তা ধরে এগোনো ঠিক নয়।

ইনডেক্স না হলে কি পেজের কোনো মূল্য নেই?

সার্চ ইঞ্জিনে পেজটি সূচিভুক্ত না হলে সেই সার্চ ইঞ্জিনের স্বাভাবিক অনুসন্ধান ফলাফলে সেটির উপস্থিতির সুযোগ থাকে না। তাই সূচিভুক্তির সমস্যা থাকলে কারণটি খুঁজে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

এসইও শিখে কি পেশাগতভাবে কাজ করা যায়?

হ্যাঁ। এসইওর জ্ঞান ব্যবহার করে ওয়েবসাইট পরিচালনা, কনটেন্ট উন্নয়ন, অনুসন্ধান বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের দৃশ্যমানতা উন্নয়নের কাজে যুক্ত হওয়া যায়। তবে দক্ষতা তৈরি করতে বাস্তব অনুশীলন ও নিয়মিত শেখার প্রয়োজন রয়েছে।

স্থানভিত্তিক এসইও কী?

কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের অনুসন্ধানের সঙ্গে একটি ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের তথ্যকে প্রাসঙ্গিকভাবে যুক্ত করার কাজকে স্থানভিত্তিক এসইও বলা হয়। যেমন, কোনো এলাকার মানুষ কাছাকাছি চিকিৎসক, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো সেবা খুঁজলে স্থানীয় তথ্যের গুরুত্ব বেড়ে যায়।

এসইও কি অর্থ দিয়ে করা বিজ্ঞাপনের বিকল্প?

এসইও এবং অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞাপন দুটি আলাদা পদ্ধতি। বিজ্ঞাপনে অর্থ ব্যয় করে নির্দিষ্ট দর্শকের কাছে দ্রুত পৌঁছানো যায়, আর এসইও মূলত স্বাভাবিক অনুসন্ধান ফলাফলে ওয়েবসাইটের দৃশ্যমানতা উন্নত করার দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা। কোন পদ্ধতি উপযোগী হবে তা ব্যবসা, লক্ষ্য এবং পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।

এই পর্ব থেকে যা মনে রাখবেন

  • এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিন ও ব্যবহারকারীর জন্য ওয়েবসাইটকে আরও বোধ্য ও উপযোগী করার প্রক্রিয়া।
  • সার্চ ইঞ্জিন ওয়েবে থাকা তথ্য খুঁজে, বিশ্লেষণ ও সূচিভুক্ত করে এবং অনুসন্ধানের সময় প্রাসঙ্গিক ফলাফল দেখায়।
  • সূচিভুক্ত হওয়া এবং ভালো অবস্থানে থাকা এক বিষয় নয়।
  • এসইওর বিভিন্ন ক্ষেত্র রয়েছে; সবকিছু এক পোস্টে বিস্তারিত শেখানোর প্রয়োজন নেই।
  • কনটেন্ট তৈরির আগে ব্যবহারকারীর অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ।
  • এসইও কোনো একদিনের কাজ নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট পর্যালোচনা করতে হয়।

এসইও শেখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি হলো একসঙ্গে সবকিছু না শিখে ধাপে ধাপে এগোনো। এই পর্বে ভিত্তিটা পরিষ্কার করার পর এখন কীওয়ার্ড গবেষণা এবং তারপর অন-পেজ এসইও শেখার দিকে এগিয়ে যেতে পারেন।