ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৩ | ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার আগে যা জানা জরুরি

আমাদের ফেসবুক পেজে যুক্ত হয়ে নতুন সব টেক আপডেট ও গাইডলাইন পান সবার আগে। পেজে জয়েন করুন

আসসালামুআলাইকুম বন্ধুগন, দীর্ঘ অপেক্ষা পর আবারো আপনাদেরকে স্বাগতম জানায় Digital Marketing বাংলা ধারাবাহিক টিউটোরিয়াল এর তৃতীয় পর্বে। আমরা ইতিমধ্যে digital marketing এর দুটি পর্ব সম্পূর্ণ করেছি। আপনারা যদি সেগুলি এখনো না দেখে থাকনে, তাহলে নিচের দেওয়া লিংকে গিয়ে দেখে নিবেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ১ | ডিজিটাল মার্কেটিং কী? সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ পরিচিতি

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ২ | ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ধরন ও কোনটি আগে শিখবেন

কেননা ধারাবাহিক টিউটোরিয়াল এর ক্ষেত্রে একটি পর্বের সাথে আরেকটি পর্বের অনেক গুরুত্বপুর্ণ বিষয়ে মিল থাকে। তাই একটি না বুঝলে অন্যটি বুঝা মুশকিল। আশাকরি Digital Marketing এর আগের পর্ব দুটি দেখে নিয়েছেন। তাহলে বন্ধুগন আজকের পর্বের আলোচনা শুরু করা যাক।

বন্ধুরা ,ইউটিউবে একটি মোটিভেশনাল ভিডিও দেখে কিংবা ফেসবুকে কারও আয়ের স্ক্রিনশট দেখে হুট করেই অনেকে ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। প্রথম দু-তিন দিন বেশ উৎসাহের সাথে কিছু টিউটোরিয়াল দেখাও হয়। কিন্তু সমস্যাটা তৈরি হয় যখন চার-পাঁচ দিন পর তারা বুঝতে পারেন যে কিছু মৌলিক জিনিস আগে থেকে জানা না থাকায় শেখার গতি অনেক কমে যাচ্ছে। কেউ হয়তো ব্রাউজার এক্সটেনশন সেটআপ করতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন, কেউ আবার গুগলে সঠিক তথ্য খুঁজে পাচ্ছেন না। এই প্রাথমিক ধাক্কার কারণে অনেকেই মনে করেন যে এই কাজ তাদের জন্য নয় এবং মাঝপথেই হাল ছেড়ে দেন। ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা সিরিজের ৩য় পর্বে আজ আমরা আলোচনা করব এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে, যা আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার আগে যা জানা জরুরি

একজন শিক্ষার্থী ল্যাপটপে Digital Marketing শেখার Illustration

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার আগে কেন প্রস্তুতি দরকার?

যেকোনো বড় কাজের আগে যেমন একটি পূর্বপ্রস্তুতির প্রয়োজন হয়, ঠিক তেমনি অনলাইন মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক। আপনি যদি ড্রাইভ করতে না জেনে সরাসরি হাইওয়েতে গাড়ি নিয়ে নেমে পড়েন, তবে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাই বেশি। ঠিক একইভাবে, একদম বেসিক জিনিসগুলো না জেনে সরাসরি অ্যাডভান্সড কোনো মার্কেটিং মেথড বা SEO শেখার প্রস্তুতি নিতে গেলে আপনি খেই হারিয়ে ফেলবেন। সঠিক মানসিক ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি থাকলে আপনার শেখার সময় অনেক বাঁচবে এবং জটিল বিষয়গুলোও খুব সহজে মাথায় ঢুকবে। এটি আপনার লার্নিং জার্নিকে অনেক বেশি মসৃণ ও আনন্দদায়ক করে তুলবে।

কোন কোন দক্ষতা আগে থাকলে শেখা সহজ হবে?

ডিজিটাল মার্কেটার হওয়ার জন্য আপনাকে কোনো রকেট সায়েন্স জানতে হবে না, তবে কিছু মৌলিক দক্ষতা আপনার ভেতরে থাকা প্রয়োজন। এই দক্ষতাগুলো থাকলে আপনি অন্যদের চেয়ে অনেক দ্রুত কাজ শিখতে পারবেন:

  • ইন্টারনেট ব্যবহারের মৌলিক ধারণা: ইন্টারনেট কীভাবে কাজ করে, একটি ওয়েবসাইট কীভাবে চলে এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের বেসিক ব্যবহার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে।
  • ব্রাউজার ব্যবহার: গুগল ক্রোম বা মজিলা ফায়ারফক্সের মতো ব্রাউজারগুলোর সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। কীভাবে বুকমার্ক করতে হয়, কীভাবে ব্রাউজার এক্সটেনশন ইনস্টল বা ব্যবহার করতে হয়—এই বিষয়গুলো জানা জরুরি।
  • গুগলে তথ্য খোঁজা: একজন মার্কেটারের সবচেয়ে বড় গুণ হলো সে গুগলে সার্চ করে যেকোনো সমস্যার সমাধান বের করতে পারে। একে বলা হয় গুগল সার্চিং স্কিল। আপনি যত নিখুঁতভাবে গুগলে সার্চ করতে পারবেন, আপনার কাজ তত সহজ হবে।
  • বাংলা ও সাধারণ ইংরেজি পড়ার দক্ষতা: এই সেক্টরে ভালো করতে হলে নিয়মিত বিভিন্ন ইন্টারন্যাশনাল ব্লগ এবং আর্টিকেল পড়তে হবে। তাই অন্তত ইংরেজি পড়ে তার অর্থ সঠিকভাবে বোঝার মতো সাধারণ জ্ঞান থাকা দরকার।
  • ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলন: মার্কেটিংয়ের নিয়মগুলো প্রতিদিন পরিবর্তিত হয়। তাই ধৈর্য ধরে প্রতিদিন অন্তত কিছুটা সময় নতুন বিষয় শেখা ও তা প্র্যাকটিস করার মানসিকতা থাকতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য কী কী লাগবে?

অনেকেই মনে করেন শুরুতেই হয়তো অনেক দামী জিনিসপত্রের প্রয়োজন হয়। আসলে বিষয়টি তেমন নয়। আপনার ফ্রিল্যান্সিং প্রস্তুতি বা লার্নিং পিরিয়ডের জন্য নিচের জিনিসগুলো থাকলেই চলবে:

Digital Marketing শেখার জন্য প্রয়োজনীয় Tools-এর আইকনসহ গ্রাফিক

মোবাইল নাকি কম্পিউটার?

নতুনদের মধ্যে এই প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। পরিষ্কার ভাষায় বলতে গেলে, শুধুমাত্র একটি স্মার্টফোন দিয়ে আপনি Digital Marketing Beginner Guide এর ভিডিওগুলো দেখতে পারবেন বা কিছু থিওরি বুঝতে পারবেন। কিন্তু প্রফেশনাল কাজ যেমন—গুগল অ্যাড ক্যাম্পেইন রান করা, ওয়েবসাইটের এসিও অডিট করা কিংবা ফেসবুকের বিজনেস ম্যানেজার সেটআপ করার জন্য একটি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থাকা আবশ্যক। খুব হাই-কনফিগারেশনের পিসি লাগবে না, সাধারণ একটি ল্যাপটপ হলেই আপনি অনায়াসে কাজ শুরু করতে পারবেন।

আরো পড়ুনঃ YouTube SEO বাংলা গাইড পর্ব ৪: Low Competition Keyword কীভাবে খুঁজবেন? (২০২৬ সালের বাস্তব ও কার্যকর পদ্ধতি)

ইন্টারনেট সংযোগ

অনলাইন মার্কেটিংয়ের মূল ভিত্তিই হলো ইন্টারনেট। তাই আপনার একটি ভালো ও স্থিতিশীল ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে। মোবাইল ডেটা দিয়ে কাজ চালানো গেলেও, ব্রডব্যান্ড বা ওয়াইফাই কানেকশন থাকলে কোনো বাধা ছাড়াই লাইভ প্রোজেক্ট ও বড় বড় টিউটোরিয়াল ফাইল নিয়ে কাজ করা সহজ হয়।

Gmail Account এবং Google Drive

আপনার একটি প্রফেশনাল এবং ফ্রেশ জিমেইল অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, যা আপনি শুধুমাত্র আপনার কাজের জন্য ব্যবহার করবেন। এই জিমেইলের সাথে যুক্ত গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করে আপনি আপনার ক্লায়েন্টের কাজ, প্র্যাকটিস ফাইল, শিট এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট অনলাইনে গুছিয়ে রাখতে পারবেন।

Note নেওয়ার অভ্যাস

ভিডিও দেখার সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ টার্ম বা টেকনিক্যাল নাম সামনে আসবে। সেগুলো সাথে সাথে নোট করার অভ্যাস করুন। এর জন্য আপনি খাতা-কলম ব্যবহার করতে পারেন অথবা কম্পিউটারের নোটপ্যাড বা গুগল ডক ব্যবহার করতে পারেন। নোট রাখার অভ্যাস আপনাকে পরবর্তীতে দ্রুত রিভিশন দিতে সাহায্য করবে।

নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা

সোশ্যাল মিডিয়ার চটকদার বিজ্ঞাপনের কারণে নতুন শিক্ষার্থীদের মনে বেশ কিছু ভুল ধারণা তৈরি হয়। এই ভুল ধারণাগুলো আগে থেকেই মন থেকে ঝেড়ে ফেলা উচিত:

  • ১. প্রথম মাস থেকেই আয় করা যায়: এটি একটি বড় ভুল ধারণা। ডিজিটাল মার্কেটিং একটি গভীর স্কিল। এটি ভালোভাবে শিখতে এবং প্র্যাক্টিক্যাল প্রজেক্ট করতে অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস সময় লাগে। আয়ের চিন্তা শুরুতেই করলে কাজ শেখা হবে না।
  • ২. এটি খুব সহজ কাজ: অনেকে মনে করেন শুধু ফেসবুকে পোস্ট দিলেই বোধহয় মার্কেটিং হয়ে যায়। আসলে এর পেছনে অনেক ডাটা অ্যানালাইসিস, কাস্টমার বিহেভিয়ার এবং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে কাজ করতে হয়, যা বেশ পরিশ্রমের।
  • ৩. সব স্কিল একসাথে শিখতে হবে: আপনি যদি একই সাথে এসিও, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইমেইল মার্কেটিং শিখতে যান, তবে কোনোটিই শিখতে পারবেন না। যেকোনো একটি নির্দিষ্ট Digital Marketing Learning Path ধরে এগোতে হবে।
  • ৪. ইংরেজি না জানলেও সব করা সম্ভব: লোকাল মার্কেটে বাংলা দিয়ে কাজ চালানো গেলেও, বড় বড় ইন্টারন্যাশনাল ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করতে এবং আপডেটেড থাকতে হলে ইংরেজি জানা অত্যন্ত জরুরি।
  • ৫. শুধু কোর্স করলেই সফল হওয়া যায়: কোনো প্রতিষ্ঠান বা মেন্টর আপনাকে সফল করে দিতে পারবে না, যদি না আপনি নিজে প্র্যাকটিস করেন। কোর্স আপনাকে শুধু রাস্তা দেখাবে, হাঁটতে হবে আপনাকে নিজেকেই।

প্রতিদিন কত সময় দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়?

এটি নির্ভর করে আপনার বর্তমান ব্যস্ততার ওপর। আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী বা চাকরিজীবী হন, তবে প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ডেডিকেটেড সময় দেওয়া উচিত। এই সময়ের মধ্যে ১ ঘণ্টা নতুন কোনো টপিকের ভিডিও বা আর্টিকেল দেখতে পারেন এবং বাকি ২ ঘণ্টা সেই টপিকটি নিজের কম্পিউটারে প্র্যাক্টিক্যালি অ্যাপ্লাই করে দেখতে পারেন। আর আপনি যদি সম্পূর্ণ ফ্রি থাকেন, তবে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় দিলে খুব দ্রুত এই স্কিল আয়ত্ত করা সম্ভব। তবে মনে রাখবেন, সপ্তাহে একদিন ১০ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে নিয়মিত পড়া অনেক বেশি কার্যকর।

আরো পড়ুনঃ SSC রেজাল্ট দেখার নিয়ম ২০২৬ | মোবাইল, SMS ও Online-এ ফলাফল দেখার সম্পূর্ণ গাইড

ফ্রি রিসোর্স দিয়ে শেখা সম্ভব কি?

হ্যাঁ, বর্তমান যুগে ইন্টারনেট একটি উন্মুক্ত লাইব্রেরি। ইউটিউব এবং গুগলে সার্চ করলে আপনি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ডিজিটাল মার্কেটিং বেসিক থেকে শুরু করে অ্যাডভান্সড লেভেলের হাজার হাজার ফ্রি টিউটোরিয়াল এবং গাইডলাইন পেয়ে যাবেন।

সুবিধা: এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো আপনার কোনো টাকা খরচ হচ্ছে না এবং আপনি নিজের সুবিধাজনক সময়ে যেকোনো মেন্টরের ভিডিও দেখে শিখতে পারছেন। আপনি ভুল করলে অন্য আরেকটি ভিডিও দেখে তা সংশোধন করে নিতে পারছেন।

সীমাবদ্ধতা: ফ্রি রিসোর্সের প্রধান সমস্যা হলো এখানে তথ্যের কোনো ধারাবাহিকতা বা সিকোয়েন্স থাকে না। অনেক সময় অনেক পুরনো বা ব্যাকডেটেড তথ্য সামনে চলে আসে। এছাড়া কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি কারও কাছ থেকে সাপোর্ট বা গাইডলাইন পাওয়া যায় না। তাই ধৈর্য এবং নিজে নিজে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা থাকলে ফ্রি রিসোর্স দিয়েই চমৎকারভাবে শেখা সম্ভব।

শুরু করার আগে চেকলিস্ট

  • প্রয়োজনীয় Gmail Account তৈরি
  • নোট রাখার ব্যবস্থা
  • নিয়মিত শেখার সময় নির্ধারণ
  • বিশ্বস্ত শেখার উৎস নির্বাচন
  • প্র্যাকটিস করার মানসিক প্রস্তুতি

শেখার সময় যেসব অভ্যাস গড়ে তুলবেন

একজন প্রফেশনাল ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হলে শুরু থেকেই কিছু ভালো অভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন:

  • প্রতিদিন অন্তত একটি নতুন টেকনিক্যাল শব্দ বা মার্কেটিং টার্ম সম্পর্কে জানা।
  • যা শিখছেন, তা নিজের কোনো ডেমো সোশ্যাল মিডিয়া পেজ বা ওয়েবসাইটে সরাসরি পরীক্ষা করে দেখা।
  • ফেসবুকে বা ইন্টারনেটে বিভিন্ন বড় বড় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনগুলো কীভাবে সাজানো হচ্ছে, তা মনোযোগ দিয়ে খেয়াল করা।
  • বিভিন্ন ফোরাম এবং কমিউনিটি গ্রুপে যুক্ত থাকা, যেখানে এই কাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাস্তব অভিজ্ঞতানিলয় নামের এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী কোনো পেইড কোর্স ছাড়াই প্রতিদিন ২ ঘণ্টা করে গুগলের ফ্রি গাইড এবং ইউটিউব ভিডিও দেখতে শুরু করেন। তিনি যা শিখতেন, তা একটি ফ্রি ব্লগ সাইট খুলে সেখানে পরীক্ষা করতেন। ৬ মাসের মাথায় তিনি এসিও এবং কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজে এতটাই দক্ষ হয়ে ওঠেন যে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি লোকাল এজেন্সিতে রিমোটলি কাজ শুরু করেন। সঠিক প্রস্তুতি এবং জেদ থাকলে এভাবেই সফল হওয়া সম্ভব।

আরো পড়ুনঃ HTML Tutorial Bangla পর্ব ০৪ | HTML Heading Tags

বিশেষ পরামর্শশুধু ভিডিও দেখে বা বই পড়ে মার্কেটিং শেখা যায় না। আপনি যদি ১০০টি ভিডিও দেখেন আর একটিও প্র্যাক্টিক্যাল কাজ না করেন, তবে আপনার শেখার মূল্য শূন্য। তাই শেখার পাশাপাশি বাস্তবে সেটি প্রয়োগ করুন, ভুল করুন এবং সেই ভুল থেকে আবার শিখুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

১. ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য কি আগে থেকে কোনো গ্রাফিক্স ডিজাইনের কাজ জানা দরকার?

না, বাধ্যতামূলক নয়। তবে ক্যানভা (Canva) এর মতো সহজ টুল ব্যবহার করে বেসিক ব্যানার বা ইমেজ ডিজাইন করার সামান্য ধারণা থাকলে আপনার কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।

২. আমার যদি কোনো নিজস্ব ওয়েবসাইট না থাকে, তবে আমি এসিও প্র্যাকটিস করব কীভাবে?

আপনি ব্লগার ডটকম (Blogger) বা ওয়ার্ডপ্রেস ডটকম (WordPress) এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে সম্পূর্ণ ফ্রিতে একটি সাব-ডোমেইন ওয়েবসাইট তৈরি করে অন-পেইজ এসিও এবং কনটেন্ট রাইটিংয়ের কাজগুলো খুব সহজেই প্র্যাকটিস করতে পারেন।

৩. এই কাজে সফল হতে হলে কি গণিত বা হিসাবনিকাশে খুব ভালো হতে হয়?

খুব জটিল কোনো গণিত জানার প্রয়োজন নেই। তবে বিজ্ঞাপনের বাজেট হিসাব করা, কনভার্সন রেট বোঝা এবং ডেটা বা পরিসংখ্যান দেখে সাধারণ লাভ-ক্ষতির হিসাব করার মতো বেসিক গাণিতিক বুদ্ধি থাকলেই চলবে।

৪. নতুনদের কি শুরুতেই পেইড টুলস কিনতে হবে?

একদমই না। শেখার শুরুতে বা বিগিনার লেভেলে গুগলের নিজস্ব অনেক ফ্রি টুলস রয়েছে (যেমন: গুগল কিওয়ার্ড প্ল্যানার, গুগল ট্রেন্ডস, গুগল অ্যানালিটিক্স)। এগুলো ব্যবহার করেই আপনি কাজ শিখতে পারবেন। অ্যাডভান্সড বা পেইড টুলস ক্লায়েন্টের কাজের সময় প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত ক্লায়েন্ট নিজেই প্রদান করে থাকে।

৫. ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার সঠিক বয়স কত?

এই কাজ শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে যেকোনো বয়সের চাকুরিজীবী বা গৃহিণী—যারা ইন্টারনেটের বেসিক ব্যবহার বোঝেন এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহ রাখেন, তারা সবাই এটি শিখতে পারেন।

উপসংহার

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো একটি ডাইনামিক এবং সম্ভাবনাময় ফিল্ডে ক্যারিয়ার গড়ার সিদ্ধান্তটি নিঃসন্দেহে চমৎকার। তবে তাড়াহুড়ো না করে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করা এবং প্রয়োজনীয় টুলসগুলো গুছিয়ে নেওয়াটাই হবে আপনার প্রথম কাজ। সঠিক প্রস্তুতি নিয়ে ময়দানে নামলে আপনার সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের এই ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা সিরিজের আজকের পর্বে আমরা শেখার আগের প্রস্তুতি ও ভুল ধারণাগুলো নিয়ে বিস্তারিত জানলাম। আগামী তথা ৪র্থ পর্বে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ডিমান্ডিং শাখা “SEO কী এবং ওয়েবসাইটে SEO করার বেসিক নিয়ম” নিয়ে একদম প্র্যাক্টিক্যাল আলোচনা শুরু করব। নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকুন এবং পরবর্তী পর্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখুন।

SA Samim

Simple persion with simple Thought.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *