রাত তখন প্রায় পৌনে তিনটা। হঠাৎ করেই ষাটোর্ধ্ব বাবার বুক চেপে ধরে তীব্র যন্ত্রণা। গ্রাম থেকে নিকটস্থ জেলা শহরের দূরত্ব প্রায় বিশ কিলোমিটার। এমন নিস্তব্ধ রাতে কীভাবে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাবেন, সেই চিন্তায় স্বজনদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। আশপাশে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি নেই, স্থানীয় চালকদের ফোন করেও সাড়া মিলছে না। ঠিক সেই মুহূর্তে অনেকেই বুঝতে পারেন না কোথায় ফোন করলে দ্রুত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাবে। অথচ হাতের কাছে সঠিক নম্বরটি থাকলে অত্যন্ত কম খরচে এবং দ্রুততম সময়ে রোগীকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা সম্ভব হতো। এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতেই প্রস্তুত করা হয়েছে দেশের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবার বিস্তারিত ও হালনাগাদকৃত এই নির্দেশিকা।
জরুরি স্বাস্থ্য সংকটে সঠিক সময়ে সঠিক সরকারি সেবা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। অনেক সময় সঠিক তথ্যের অভাবে সাধারণ মানুষ চড়া দামে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে বাধ্য হন। আজকের এই গাইডলাইনটি আপনার মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখলে যেকোনো স্বাস্থ্যগত জরুরি মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কী এবং কীভাবে কাজ করে?
বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল, জাতীয় জরুরি সেবা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীনে পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্স পরিবহন ব্যবস্থাকেই বলা হয় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা। এটি প্রধানত দেশের সাধারণ জনগণকে স্বল্প খরচে বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা মূলত সরকারি হাসপাতালগুলোর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণকক্ষে চালিত হয়। আপনি যখন কোনো সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জেলা হাসপাতালে যোগাযোগ করেন, তখন সেখানকার নির্দিষ্ট অ্যাম্বুলেন্স কন্ট্রোল রুম থেকে গাড়ি বণ্টন করা হয়। সরকারি নীতি অনুযায়ী, প্রতিটি হাসপাতালে নির্দিষ্ট সংখ্যক অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ থাকে, যার মধ্যে কিছু সাধারণ পরিবহন এবং কিছু আইসিইউ বা সিসিইউ সুবিধাযুক্ত।
কারা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পেতে পারেন?
বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক জরুরি প্রয়োজনে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা গ্রহণ করতে পারেন। তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেবা প্রদান করা হয়। নিচে নির্দিষ্ট তালিকা দেওয়া হলো:
- জরুরি রোগী: হৃদরোগ, স্ট্রোক, গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা বা কোনো বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পান।
- গর্ভবতী নারী: প্রসূতি মায়েদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে এবং প্রসবজনিত জটিলতা সামলাতে জরুরি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কার্যকর ভূমিকা রাখে।
- নবজাতক ও শিশু: আশঙ্কাজনক অবস্থায় থাকা শিশুদের দ্রুত এনআইসিইউ বা বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে।
- দরিদ্র ও দুঃস্থ পরিবার: নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ও চিকিৎসকের সুপারিশক্রমে সুবিধাবঞ্চিত রোগীরা নামমাত্র মূল্যে বা বিনামূল্যে এই সুবিধা পেতে পারেন।
- স্থানান্তরিত রোগী (Referral Cases): উপজেলা বা জেলা হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে যখন বিভাগীয় বা জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
কোন পরিস্থিতিতে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ডাকবেন?
সব ধরনের শারীরিক সমস্যায় অ্যাম্বুলেন্স ডাকার প্রয়োজন হয় না। অযথা অ্যাম্বুলেন্স বুক করলে অন্য একজন মুমূর্ষু রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। প্রধানত নিচের পরিস্থিতিগুলোতে অবিলম্বে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা গ্রহণ করা উচিত:
- হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট শুরু হলে।
- কোনো ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়লে বা তার সংজ্ঞাহীনতা দীর্ঘায়িত হলে।
- গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া বা উপর থেকে নিচে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আঘাত পেলে।
- গর্ভবতী নারীর অতিরিক্ত রক্তস্রাব বা প্রসব বেদনা শুরু হলে।
- প্রচণ্ড খিঁচুনি বা শরীরে হঠাৎ পক্ষাঘাত (প্যারালাইসিস)-এর লক্ষণ দেখা দিলে।
সরকারি বনাম বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবার পার্থক্য
জরুরি মুহূর্তে অনেক সময়ই মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন যে সরকারি নাকি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ডাকবেন। নিচে প্রধান পার্থক্যগুলো তুলে ধরা হলো:
- ভাড়া বা খরচ
- সরকার নির্ধারিত অত্যন্ত সাশ্রয়ী সরকারি রেট (দূরত্ব অনুযায়ী নির্দিষ্ট)।
- তুলনামূলক অনেক বেশি এবং অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
- প্রাপ্যতা
- চাহিদা বেশি থাকায় অনেক সময় গাড়ি খালি পাওয়া কঠিন হয়।
- সহজেই পাওয়া যায় তবে খরচ তুলনামূলক বেশি।
- লাইফ সাপোর্ট সুবিধা
- বেসিক লাইফ সাপোর্ট বেশি, কিছু ক্ষেত্রে আইসিইউ সুবিধা থাকে।
- উচ্চমানের লাইফ সাপোর্ট ও আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের প্রাচুর্য বেশি।
- পরিচালনা
- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক সরাসরি নিয়ন্ত্রিত।
- ব্যক্তিগত বা বেসরকারি সংস্থা দ্বারা পরিচালিত।
- কভারেজ এলাকা
- উপজেলা, জেলা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত।
- প্রধানত মেট্রোপলিটন শহর ও বড় জেলা কেন্দ্রিক।
| বিষয় | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা | বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা |
|---|
জরুরি নম্বরে কল করার আগে কী কী তথ্য প্রস্তুত রাখবেন?
অ্যাম্বুলেন্সের কন্ট্রোল রুমে কল করার সময় নার্ভাস না হয়ে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সঠিক তথ্য দিলে চালক বা প্রতিনিধি দ্রুত আপনার কাছে পৌঁছাতে পারবেন। কলের সময় নিচের তথ্যগুলো গুছিয়ে বলুন:
- রোগীর বর্তমান অবস্থা: রোগী জ্ঞান হারিয়েছেন কি না, শ্বাসকষ্ট আছে কি না বা কী ধরনের আঘাত পেয়েছেন।
- সঠিক অবস্থান: আপনার বর্তমান ঠিকানা, আশেপাশের কোনো পরিচিত ল্যান্ডমার্ক বা ভবনের নাম।
- রোগীর বয়স ও সংখ্যা: কতজন রোগী এবং তাদের আনুমানিক বয়স কত।
- যোগাযোগের নম্বর: আপনার বা সঙ্গে থাকা অন্য কারো সচল মোবাইল নম্বর।
- গন্তব্য হাসপাতাল: রোগীকে কোন হাসপাতালে নিয়ে যেতে চান তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখা।
বাংলাদেশের বিভাগভিত্তিক সরকারি অ্যাম্বুলেন্স যোগাযোগের তালিকা
নিচে বাংলাদেশের আটটি বিভাগের প্রধান সরকারি হাসপাতাল এবং তাদের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কন্ট্রোল রুম ও জরুরি যোগাযোগের যাচাইকৃত আপডেট নম্বর প্রদান করা হলো। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি এই নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করতে পারেন।
ঢাকা বিভাগ
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- বক্সীবাজার, ঢাকা
- ০২-৫৫১৬৫১৩০ (এক্সচেঞ্জ), ০১৯৭০০১৫১২৬
- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড)
- পুরান ঢাকা, ঢাকা
- ০২-৫৭৩৯০৪০০
- জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল
- শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা
- ০২-৯১২২৫৬৩
- জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল (পঙ্গু হাসপাতাল)
- শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা
- ০২-৯১৪০৪১৯
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- শের-ই-বাংলা নগর, ঢাকা
- ০২-৯১২২১৪৫
- কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল
- বিমানবন্দর সড়ক, ঢাকা
- ০২-৫৫০৬২৩৭১
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
চট্টগ্রাম বিভাগ
- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- পাঁচলাইশ, চট্টগ্রাম
- ০২৩৩৩৩৫০১৮০, ০৩১-৬১৯৫৮১
- ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল
- আন্দরকিল্লা, চট্টগ্রাম
- ০৩১-৬১৫৯৬১
- কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল
- হাসপাতাল সড়ক, কক্সবাজার
- ০৩৪১-৬২১৬৪
- কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- কুচাইতলী, কুমিল্লা
- ০৮১-৭৬২৮৪
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
রাজশাহী বিভাগ
- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- লক্ষ্মীপুর, রাজশাহী
- ০১৩২১-১৮০৫১৬ (অ্যাম্বুলেন্স), ০১৩২১-১৮০৫১৪ (জরুরি)
- পাবনা জেলা সদর হাসপাতাল
- হাসপাতাল রোড, পাবনা
- ০৭৩১-৬৬০৬৪
- বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ
- সিলিমপুর, বগুড়া
- ০৫১-৫৮০১০
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
খুলনা বিভাগ
- খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- বয়রা, খুলনা
- ০৪১-৭৬০৯১১, ০৪১-৭৬০৯৫১
- ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল
- হাসপাতাল রোড, খুলনা
- ০৪১-৭২২৩৬৮
- যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল
- জেল রোড, যশোর
- ০৪২১-৬৮১০৮
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
বরিশাল বিভাগ
- শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- বান্দ রোড, বরিশাল
- ০৪৩১-২১৭৩১৫৪, ০৪৩১-৫২১৪১
- পটুয়াখালী জেলা সদর হাসপাতাল
- সদর রোড, পটুয়াখালী
- ০৪৪১-৬২১৪৮
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
সিলেট বিভাগ
- সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
- কাজলশাহ, সিলেট
- ০৮২১-৭১৩৬৩৭, ০৮২১-৭১৭০১৫
- মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতাল
- হাসপাতাল রোড, মৌলভীবাজার
- ০৮৬১-৫২৫৬০
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
রংপুর বিভাগ
- রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- মেডিকেল মোড়, রংপুর
- ০৫২১-৬২১৫০, ০৫২১-৬৪৮২৪
- দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ
- উপশহর, দিনাজপুর
- ০৫৩১-৬৫২০০
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
ময়মনসিংহ বিভাগ
- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
- চরপাড়া, ময়মনসিংহ
- ০১৭৩০৫৬৪৮৮১ (অ্যাম্বুলেন্স চালক), ০১৭৬৮-০২৭০১৫ (জরুরি)
- জামালপুর জেলা সদর হাসপাতাল
- হাসপাতাল রোড, জামালপুর
- ০৯৮১-৬৩৯৭৩
| হাসপাতালের নাম | অবস্থান | সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ও ইমার্জেন্সি নম্বর |
|---|
জেলা সদর হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নম্বর
উপজেলা বা জেলা পর্যায় থেকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর রোগীদের বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ বা রাজধানীতে স্থানান্তরের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা সদর হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হলো:
- গাজীপুর জেলা সদর হাসপাতাল
- ০২-৯২৬১৫৮৬
- ২৪ ঘণ্টা সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স সেবা
- নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতাল
- ০২-৭৬৪৮২৪৩
- জরুরি রোগী পরিবহন
- টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল
- ০৯২১-৬৩১৭৯
- জেলা ও আন্তঃজেলা সেবা
- ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ
- ০৬৩১-৬৩৪২১
- ২৪ ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্স ও আইসিইউ ট্রান্সপোর্ট
- নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল
- ০৩২১-৬১৬৯৫
- জরুরি সার্ভিস ও রেফারাল সেবা
| জেলা হাসপাতাল | যোগাযোগ নম্বর | সেবার ধরন |
|---|
জাতীয় জরুরি সেবা ও স্বাস্থ্য হটলাইন
যদি নির্দিষ্ট কোনো সরকারি হাসপাতালের নম্বর আপনার সংগ্রহে না থাকে অথবা হাসপাতালে সরাসরি যোগাযোগ করে সাড়া না পান, তবে জাতীয় স্বাস্থ্য হটলাইন এবং জরুরি সেবা নম্বরে কল করতে পারেন। এই সংযোগগুলো সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে।
- জাতীয় জরুরি সেবা
- ৯৯৯
- পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা একত্রিত করতে।
- স্বাস্থ্য বাতায়ন
- ১৬২৬৩
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত ২৪/৭ সরাসরি ডাক্তারের পরামর্শ ও সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য।
- জাতীয় কল সেন্টার
- ৩৩৩
- সরকারি তথ্য ও জেলা স্বাস্থ্য সেবা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য।
- আইসিডিডিআর,বি
- ০২-৯৮৪০০২১
- কলেরা ও সংক্রামক রোগের জরুরি অ্যাম্বুলেন্স সহায়তা।
| সেবার নাম | হটলাইন নম্বর | কাজ ও সুবিধা |
|---|
কখন এবং কীভাবে ৯৯৯-এ কল করে অ্যাম্বুলেন্স খুঁজবেন?
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ কেবল পুলিশি সহায়তার জন্য নয়, এটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়ারও একটি প্রধান মাধ্যম। যখন স্থানীয় হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স খালি থাকে না বা চালকের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না, তখন ৯৯৯-এ কল করা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
Read also:
ফ্যামিলি কার্ড কিভাবে পাবেন: আবেদনের বিস্তারিত নিয়ম (২০২৬ সম্পূর্ণ গাইড)
ভোটার আইডি কার্ডের অনলাইন কপি Download করার সম্পূর্ণ গাইডলাইন ২০২৬
জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন করতে কী কী লাগে? (সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬)
৯৯৯-এ কলের সঠিক নিয়ম:
- আপনার ফোন থেকে ‘999’ ডায়াল করুন (এটি সম্পূর্ণ টোল ফ্রি, কোনো ব্যালেন্স লাগবে না)।
- কলটি যুক্ত হলে প্রতিনিধিকে বলুন আপনার অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রয়োজন।
- আপনার বর্তমান জেলা, উপজেলা এবং এলাকা পরিষ্কারভাবে জানান।
- রোগীর শারীরিক অবস্থা কেমন (যেমন: অজ্ঞান, স্ট্রোক বা অ্যাক্সিডেন্ট) তা সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন।
- প্রতিনিধি আপনাকে নিকটস্থ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা বা ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্স কন্ট্রোল রুমের সাথে সরাসরি যুক্ত করে দেবেন।
জরুরি পরামর্শ: ৯৯৯ এর প্রতিনিধিকে ফোন রাখার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স চালকের নম্বর এবং গাড়ির আনুমানিক পৌঁছানোর সময় জেনে নিন।
অ্যাম্বুলেন্স ডাকতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেসব ভুল করেন
জরুরি মুহূর্তে আতঙ্কের কারণে অনেকেই কিছু ভুল পদক্ষেপ নেন, যার ফলে অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে দেরি হয় অথবা রোগীর ঝুঁকি বেড়ে যায়। সচেতনতার জন্য নিচে প্রধান ভুলগুলো উল্লেখ করা হলো:
- সঠিক ঠিকানা দিতে না পারা: হন্তদন্ত হয়ে ফোন করে পুরো ঠিকানা না বলেই ফোন কেটে দেওয়া। ল্যান্ডমার্ক (যেমন: বড় মসজিদ, স্কুল বা মোড়) না বলা।
- রোগীর বিস্তারিত তথ্য না লুকানো: রোগী করোনা, যক্ষ্মা বা অন্য কোনো ছোঁয়াচে রোগে আক্রান্ত কি না বা তার আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে কি না তা অ্যাম্বুলেন্স বুকিংয়ের সময় গোপন রাখা।
- একাধিক স্থানে কল করে বিভ্রান্তি তৈরি: একই সাথে ৯৯৯, স্থানীয় হাসপাতাল এবং বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে কল দিয়ে রাখা। এতে সরকারি সম্পদ অপচয় হয় এবং অপ্রয়োজনে চালকরা বিভ্রান্ত হন।
- প্রস্তুত না হয়েই কল করা: অ্যাম্বুলেন্স এসে বাড়ির দরজায় পৌঁছানোর পর রোগীর জিনিসপত্র গোছানো শুরু করা। এর ফলে মহামূল্যবান সময় নষ্ট হয়।
রোগী পরিবহনের আগে ও চলাকালীন প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি
অ্যাম্বুলেন্স আসার আগে এবং গাড়িতে ওঠার পর কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চললে রোগীর ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
- মেডিক্যাল ফাইল ও কাগজপত্র গোছানো: রোগীর পূর্বের প্রেসক্রিপশন, টেস্ট রিপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং হাসপাতালের ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্র একটি ব্যাগে গুছিয়ে নিন।
- জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখা: রোগী নিয়মিত যে ওষুধ খান (যেমন: ইনসুলিন, প্রেসারের ওষুধ বা ইনহেলার) তা হাতের কাছে রাখুন।
- সহকারীর সংখ্যা সীমিত রাখা: অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য ও অক্সিজেনের প্রবাহ ঠিক রাখতে সর্বোচ্চ ১ থেকে ২ জন স্বজন উঠুন। অতিরিক্ত ভিড় করবেন না।
- পথ সুগম রাখা: বাড়ি যদি গলি বা সরু রাস্তায় হয়, তবে অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই রোগীকে স্ট্রেচার বা চাদরে করে প্রধান সড়কে নিয়ে আসার প্রস্তুতি রাখুন।
- চালককে শান্ত রাখা: চালককে অযথা দ্রুত গাড়ি চালাতে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং করতে চাপ দেবেন না। রোগীর নিরাপত্তার কথা আগে চিন্তা করুন।
গ্রামীণ এলাকায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেলে কী করবেন?
গ্রামাঞ্চল বা দূরবর্তী উপজেলাগুলোতে অনেক সময়ই সময়মতো সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা উপলব্ধ নাও থাকতে পারে। অথবা হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি হয়তো অন্য কোনো রেফারাল ডিউটিতে থাকতে পারে। এ রকম পরিস্থিতিতে সময় নষ্ট না করে নিচের বিকল্প ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা উচিত:
- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কমিউনিটি অ্যাম্বুলেন্স: অনেক উপজেলায় স্থানীয় ইউপি পরিষদ বা সরকারি অনুদানে চলা ছোট অ্যাম্বুলেন্স থাকে, সেগুলোর খোঁজ নিন।
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স: স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে যোগাযোগ করুন। তাদের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস রয়েছে যা জরুরি রোগী পরিবহনে কাজ করে।
- স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা (NGO): রেড ক্রিসেন্ট, আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পরিচালিত অ্যাম্বুলেন্সের সাহায্য নিতে পারেন।
- মাইক্রোবাস বা সিএনজি রূপান্তর: খুব জরুরি হলে এবং অ্যাম্বুলেন্স একেবারেই পাওয়া না গেলে ফ্ল্যাট সিটের কোনো মাইক্রোবাস ভাড়া করে রোগীকে শুইয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
১. সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা কীভাবে বুক করতে হয়?
সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স কন্ট্রোল রুমে সরাসরি ফোন করে অথবা ৯৯৯ ও ১৬২৬৩ নম্বরে কল করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বুক করা যায়।
২. সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কত?
সরকারি নীতি অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটার হিসেবে নির্দিষ্ট সাশ্রয়ী ভাড়া ধরা হয়। শহরের মধ্যে এটি সাধারণত খুব সামান্য এবং আন্তঃজেলা পরিবহনে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের তুলনায় অর্ধেকেরও কম।
৩. সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে কি অক্সিজেন ও লাইফ সাপোর্ট পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, প্রায় সকল সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে প্রাথমিক অক্সিজেন সুবিধা থাকে। এ ছাড়া কিছু আধুনিক ও বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধাযুক্ত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবাও পাওয়া যায়।
৪. ১৬২৬৩ নম্বরটি কী এবং এটি কি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে?
১৬২৬৩ হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘স্বাস্থ্য বাতায়ন’ হটলাইন। এটি প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এবং এখান থেকে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের তথ্য পাওয়া যায়।
৫. ৯৯৯ নম্বরে কল করলে কি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত পাওয়া যায়?
৯৯৯ আপনাকে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা ফায়ার সার্ভিস অ্যাম্বুলেন্সের সাথে যুক্ত করে। নিকটস্থ স্থানে গাড়ি খালি থাকা সাপেক্ষে অ্যাম্বুলেন্স নিশ্চিত করা হয়।
৬. উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকে?
হ্যাঁ, দেশের প্রায় প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অন্তত একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ থাকে।
৭. গর্ভবতী মায়েদের জন্য কি ফ্রি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা আছে?
কিছু নির্দিষ্ট সরকারি প্রকল্প ও প্রসূতি স্বাস্থ্য সেবার অধীনে গর্ভবতী নারীরা বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে এই সেবা পেতে পারেন।
৮. সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কি যেকোনো প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী পৌঁছে দেবে?
সাধারণত সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এক সরকারি হাসপাতাল থেকে অন্য সরকারি হাসপাতালে রোগী পরিবহনে অগ্রাধিকার দেয়। তবে জরুরি প্রয়োজনে নির্ধারিত ভাড়া প্রদান করে নির্দিষ্ট নিয়মে প্রাইভেট হাসপাতালেও নেওয়া সম্ভব।
৯. ফায়ার সার্ভিস কি অ্যাম্বুলেন্স সেবা প্রদান করে?
হ্যাঁ, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্স বহর রয়েছে, যা সরকারি জরুরি সেবার অংশ হিসেবে কাজ করে।
১০. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স নম্বর কত?
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক্সচেঞ্জ নম্বর ০২-৫৫১৬স১৩০ এবং সরাসরি জরুরি যোগাযোগের নম্বর ০১৯৭০০১৫১২৬।
১১. অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো না পৌঁছালে কী করা উচিত?
বিলম্ব হলে অবিলম্বে চালক বা কন্ট্রোল রুমে পুনরায় কল করে বর্তমান অবস্থান জানুন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে বিকল্প হিসেবে ফায়ার সার্ভিস বা স্থানীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করুন।
১২. সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার যদি বেশি টাকা দাবি করে তবে কী করণীয়?
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্দিষ্ট রসিদ বা সরকারি রেট চার্ট থাকে। কেউ অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে হাসপাতালের তদারকি কর্মকর্তা (MS/UHFAO) বা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হটলাইনে (১৬২৬৩) অভিযোগ জানাতে পারেন।
১৩. দূরপাল্লার বা আন্তঃজেলা রোগী পরিবহনে কি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, জেলা হাসপাতাল বা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত (Referral) রোগীদের ক্ষেত্রে আন্তঃজেলা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যায়।
১৪. অ্যাম্বুলেন্সে কি ডাক্তার বা নার্স থাকেন?
সাধারণ সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সাধারণত কেবল চালক ও সহকারী থাকেন। তবে আইসিইউ বা বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বা নার্স থাকেন।
১৫. রাত ২টা বা ৩টায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা পাওয়া যাবে কি?
হ্যাঁ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবা ২৪ ঘণ্টাই চালু থাকে। জরুরি কন্ট্রোল রুম রাতেও খোলা থাকে।
১৬. মৃতদেহ পরিবহনের জন্য কি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা যায়?
সাধারণত রোগীর চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে লাশ পরিবহন নিরুৎসাহিত করা হয়। তবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা হাসপাতালের নির্দিষ্ট মফস্বল বাহন ব্যবহার করা যেতে পারে।
১৭. রোড এক্সিডেন্টের রোগীদের জন্য দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পেতে কী করবেন?
সরাসরি ৯৯৯-এ কল করুন। তারা নিকটস্থ ফায়ার সার্ভিস এবং হাইওয়ে পুলিশের অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটকে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পাঠাবে।
১৮. আইসিইউ সরকারি অ্যাম্বুলেন্স কীভাবে বুক করব?
বিভাগীয় বা বিশেষায়িত মেডিকেল কলেজ (যেমন: ঢামেক, সোহরাওয়ার্দী, হৃদরোগ ইনস্টিটিউট) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সুপারিশক্রমে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়।
১৯. সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়া গেলে কি টাকা ফেরত পাওয়া যাবে?
সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্রিম বুকিং ফি নেওয়া হয় না। সেবা গ্রহণের পর সরকারি রসিদ অনুযায়ী টাকা পরিশোধ করতে হয়।
২০. সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবার মান উন্নত করতে সাধারণ নাগরিক হিসেবে করণীয় কী?
সেবা পাওয়ার পর কোনো অনিয়ম বা ভালো অভিজ্ঞতা থাকলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পোর্টালে বা ১৬২৬৩-তে ফিডব্যাক দিন, যা সেবার মান বাড়াতে সহায়তা করে।
তথ্যসূত্র ও নির্ভরযোগ্য উৎস (Sources & References)
এই নির্দেশিকা তৈরিতে ও অ্যাম্বুলেন্স যোগাযোগের নম্বরসমূহ যাচাইয়ে নিচের সরকারি, জাতীয় জরুরি সেবা এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশ্বস্ত উৎসসমূহ ব্যবহার করা হয়েছে:
- স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (DGHS): গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত অফিসিয়াল তথ্য ও নির্দেশিকা। (ওয়েবসাইট: dghs.gov.bd)
- জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ (National Emergency Service 999): বাংলাদেশ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিচালিত ২৪/৭ জাতীয় জরুরি অ্যাম্বুলেন্স কল সেন্টার। (ওয়েবসাইট: nhd.gov.bd)
- স্বাস্থ্য বাতায়ন (১৬২৬৩): স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত সার্বক্ষণিক জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা ও অ্যাম্বুলেন্স ইনফরমেশন ডেক্স। (ওয়েবসাইট: 16263.dghs.gov.bd)
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (DMCH): ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিজস্ব প্রশাসনিক তথ্য ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। (ওয়েবসাইট: dmc.gov.bd)
- ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর: জরুরি রোগী পরিবহন ও অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ইউনিট। (ওয়েবসাইট: fireservice.gov.bd)
- জাতীয় তথ্য বাতায়ন (Bangladesh National Portal): সংশ্লিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল ও বিভাগীয় মেডিকেল কলেজগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক পোর্টালে প্রকাশিত নম্বরসমূহ। (ওয়েবসাইট: bangladesh.gov.bd)
