In this article
Spread the love

আসসালামু আলাইকুম বন্ধুরা। ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা ধারাবাহিকের ষষ্ঠ পর্বে আপনাদের স্বাগতম।

একই বিষয়ে দুজন লেখক প্রায় সমান মানের দুটি লেখা তৈরি করলেন। দুজনের লেখাতেই প্রয়োজনীয় তথ্য আছে, উদাহরণ আছে এবং পাঠকের সমস্যার সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু প্রকাশের কয়েক মাস পর দেখা গেল, একটি লেখা সার্চ ফলাফলে ভালো জায়গা তৈরি করেছে, অন্যটি তেমন মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি।

এর পেছনে শুধু লেখার মান নয়, একটি ওয়েবপেজ কীভাবে সাজানো হয়েছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পাঠক যেন সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং সার্চ ইঞ্জিন যেন পৃষ্ঠাটির বিষয়বস্তু, কাঠামো ও সম্পর্কিত তথ্য বুঝতে পারে—এই দুই দিক মাথায় রেখে ওয়েবপেজের ভেতরে যে কাজগুলো করা হয়, সেগুলোর সমষ্টিই অন-পেজ এসইও।

আমাদের ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা ধারাবাহিকের প্রথম পাঁচটি পর্বে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভিত্তি, এসইও এবং কীওয়ার্ড গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেখেছি। আগের পর্বগুলো না পড়লে ধারাবাহিকভাবে পড়ে নিতে পারেন।

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ১ | ডিজিটাল মার্কেটিং কী? সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ পরিচিতি
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ২ | ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ধরন ও কোনটি আগে শিখবেন
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৩ | ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার আগে যা জানা জরুরি
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৪ | এসইও কী এবং ওয়েবসাইটে এসইও করার বেসিক নিয়ম
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৫ | কীওয়ার্ড গবেষণা করার সহজ উপায়

আগের পর্বে আমরা শিখেছি কীভাবে একটি বিষয় নিয়ে গবেষণা করে উপযুক্ত কীওয়ার্ড ও পাঠকের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য বোঝা যায়। এবার সেই তথ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি ওয়েবপেজ কীভাবে সাজাতে হয় সেটিই দেখব।

একটি অন-পেজ এসইও উপযোগী লেখার বিভিন্ন অংশ দেখানো চিত্র

অন-পেজ এসইও কী?

একটি ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট পৃষ্ঠার ভেতরের লেখা, শিরোনাম, ঠিকানা, উপশিরোনাম, ছবি, সংযোগ এবং অন্যান্য উপাদানকে এমনভাবে সাজানো, যাতে পাঠক সহজে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং সার্চ ইঞ্জিনও পৃষ্ঠাটির বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পায়—এটাই অন-পেজ এসইওর মূল ধারণা।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অন-পেজ এসইও মানে শুধু একটি শব্দ বারবার লেখার কৌশল নয়। একটি পৃষ্ঠার বিষয়বস্তু কী, সেটি কোন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে, তথ্যগুলো কীভাবে সাজানো হয়েছে এবং পাঠকের জন্য পৃষ্ঠাটি কতটা ব্যবহারযোগ্য—এসব বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

অন-পেজ এসইও কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি ভালো লেখা তৈরি করার পর সেটিকে পাঠযোগ্য ও সুসংগঠিত ওয়েবপেজে রূপ দেওয়ার প্রয়োজন হয়। সঠিকভাবে সাজানো পৃষ্ঠা পাঠকের জন্য যেমন সুবিধাজনক, তেমনি সার্চ ইঞ্জিনের জন্যও বিষয়বস্তু বোঝা সহজ হয়।

  • বিষয় পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করা যায়: শিরোনাম ও উপশিরোনামের মাধ্যমে লেখাটির কাঠামো স্পষ্ট হয়।
  • পাঠকের পড়ার অভিজ্ঞতা ভালো হয়: ছোট অনুচ্ছেদ, তালিকা ও প্রয়োজনীয় বিভাজন দীর্ঘ লেখাকেও পড়ার উপযোগী করে।
  • সার্চ ফলাফলের তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা যায়: উপযুক্ত শিরোনাম ও বর্ণনা ব্যবহার করে পৃষ্ঠাটির বিষয় সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া যায়।
  • সম্পর্কিত লেখা খুঁজে পাওয়া সহজ হয়: প্রাসঙ্গিক অভ্যন্তরীণ সংযোগ পাঠককে একই ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় অন্য তথ্যের কাছে নিয়ে যায়।
  • ছবি ও অন্যান্য উপাদান অর্থবহ হয়: সঠিক নাম, বিকল্প বর্ণনা ও উপযুক্ত আকার ব্যবহার করলে ছবি পৃষ্ঠার অংশ হিসেবে আরও কার্যকর হয়।

একটি অন-পেজ এসইও উপযোগী লেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ

অন-পেজ এসইওকে একটি মাত্র কৌশল হিসেবে দেখলে বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। আসলে একটি পৃষ্ঠার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আলাদা করে দেখলে কাজটি অনেক পরিষ্কার হয়।

১. শিরোনাম

একটি লেখার প্রধান শিরোনাম পাঠককে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বুঝিয়ে দেবে লেখাটি কী নিয়ে। শিরোনামে বিষয়টি পরিষ্কার থাকা জরুরি, তবে শুধু সার্চে জায়গা পাওয়ার জন্য অস্বাভাবিকভাবে কীওয়ার্ড বসানো উচিত নয়।

শিরোনাম এমন হওয়া ভালো, যা সত্যিই লেখার ভেতরের বিষয়বস্তুকে প্রতিনিধিত্ব করে। অতিরঞ্জিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঠককে ক্লিক করিয়ে পরে ভিন্ন তথ্য দেওয়া উচিত নয়।

২. সার্চ ফলাফলের বর্ণনা

একটি পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা সার্চ ফলাফলে দেখানো হতে পারে। এটি সার্চ ইঞ্জিন সবসময় আপনার নির্ধারিত বর্ণনা হুবহু দেখাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তবু পৃষ্ঠাটির বিষয়, প্রধান উপকারিতা এবং পাঠক কী পাবেন তা সংক্ষেপে তুলে ধরা ভালো অভ্যাস।

শুধু কীওয়ার্ডের তালিকা না বানিয়ে মানুষের পড়ার উপযোগী একটি স্বাভাবিক বাক্য লিখুন।

৩. ওয়েব ঠিকানা

একটি পৃষ্ঠার ওয়েব ঠিকানা যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত, পরিষ্কার ও বিষয়ভিত্তিক রাখা ভালো। অপ্রয়োজনীয় সংখ্যা, অস্পষ্ট শব্দ বা দীর্ঘ বাক্য এড়িয়ে চলুন।

যেমন কোনো লেখা যদি অন-পেজ এসইও নিয়ে হয়, তাহলে ঠিকানায় সেই বিষয়টি সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে। ওয়েব ঠিকানা পরিবর্তন করার আগে পুরোনো ঠিকানার সঙ্গে নতুন ঠিকানার সঠিক ব্যবস্থা করা জরুরি।

৪. উপশিরোনামের কাঠামো

একটি দীর্ঘ লেখাকে ছোট ছোট অর্থপূর্ণ অংশে ভাগ করতে উপশিরোনাম ব্যবহার করুন। প্রধান বিষয়কে একটি স্তরে এবং তার অধীন ছোট বিষয়গুলোকে পরবর্তী স্তরে সাজালে পাঠক সহজে প্রয়োজনীয় অংশ খুঁজে পান।

শুধু এসইওর জন্য একাধিক উপশিরোনামে একই শব্দ বসানোর প্রয়োজন নেই। উপশিরোনাম দেখেই যেন পাঠক বুঝতে পারেন পরের অংশে কী আলোচনা করা হবে।

৫. লেখার মান

অন-পেজ এসইও কোনো দুর্বল লেখাকে ভালো লেখায় পরিণত করে না। পৃষ্ঠার ভেতরের কাঠামো ঠিক করার পাশাপাশি তথ্যের নির্ভুলতা, সম্পূর্ণতা, নিজস্ব উপস্থাপন এবং পাঠকের সমস্যার সমাধান দেওয়ার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ।

অন্য ওয়েবসাইটের লেখা সামান্য শব্দ পরিবর্তন করে প্রকাশ করার পরিবর্তে নিজের গবেষণা, অভিজ্ঞতা, উদাহরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা যোগ করুন।

৬. অভ্যন্তরীণ সংযোগ

আপনার একটি লেখার সঙ্গে একই ওয়েবসাইটের অন্য প্রাসঙ্গিক লেখার সংযোগ তৈরি করাকে অভ্যন্তরীণ সংযোগ বলা হয়। এর মাধ্যমে পাঠক সম্পর্কিত তথ্যের কাছে যেতে পারেন এবং একটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পৃষ্ঠার মধ্যে বিষয়ভিত্তিক সম্পর্ক তৈরি হয়।

তবে শুধু সংযোগের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য লিংক দেওয়া উচিত নয়। যে জায়গায় পাঠকের পরবর্তী তথ্য প্রয়োজন, সেখানেই প্রাসঙ্গিক লেখার সংযোগ দিন।

৭. প্রয়োজনীয় বহিরাগত সংযোগ

কোনো তথ্যের উৎস দেখানো প্রয়োজন হলে বা পাঠককে নির্ভরযোগ্য অতিরিক্ত তথ্য দিতে চাইলে প্রাসঙ্গিক বাইরের ওয়েবসাইটের সংযোগ দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে সরকারি তথ্য, গবেষণা, পরিসংখ্যান বা মূল নথির ক্ষেত্রে সরাসরি নির্ভরযোগ্য উৎস দেখানো উপকারী।

তবে শুধু কোনো সংযোগ দিলেই লেখার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ে না। উৎসটি আসলেই প্রাসঙ্গিক ও নির্ভরযোগ্য কি না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

৮. ছবির সঠিক ব্যবহার

ছবি শুধু সাজানোর জন্য ব্যবহার না করে লেখার বিষয় বোঝাতে ব্যবহার করুন। প্রতিটি ছবির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থবহ বিকল্প বর্ণনা দিন এবং অপ্রয়োজনীয় বড় ফাইল ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।

লেখার ভেতরের কাঠামো কীভাবে সাজাবেন?

অন-পেজ এসইওর একটি বড় অংশ হলো পাঠককে একটি স্বাভাবিক পড়ার পথ দেওয়া। শুরুতেই দীর্ঘ ভূমিকা না করে প্রথম দিকেই লেখাটি কোন সমস্যার সমাধান করবে তা পরিষ্কার করুন। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী বিষয়গুলো একে একে সাজান।

একটি সাধারণ কাঠামো হতে পারে:

  • সমস্যা বা প্রশ্নটি পরিষ্কার করা
  • প্রথমেই প্রয়োজনীয় উত্তর দেওয়া
  • বিষয়টি ব্যাখ্যা করা
  • বাস্তব উদাহরণ দেওয়া
  • প্রয়োজনীয় ধাপ বা নির্দেশনা দেওয়া
  • সাধারণ ভুলগুলো দেখানো
  • প্রয়োজনীয় সম্পর্কিত তথ্যের দিকে পাঠককে নেওয়া

এই কাঠামো প্রতিটি লেখায় হুবহু ব্যবহার করতে হবে এমন নয়। বিষয় অনুযায়ী কাঠামো পরিবর্তন করাই স্বাভাবিক।

পাঠকের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে লেখা মিলিয়ে নিন

পর্ব ৫-এ আমরা অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা করেছি। এবার সেটিকে লেখার ভেতরে প্রয়োগ করতে হবে। কেউ যদি কোনো নিয়ম জানতে চান, তাকে অপ্রয়োজনীয় ভূমিকা না দিয়ে নিয়মটি পরিষ্কারভাবে জানান। কেউ যদি দুটি পণ্য তুলনা করতে চান, তাহলে তুলনাটি সহজে বোঝার মতো করে সাজান।

অর্থাৎ একটি শব্দকে কেন্দ্র করে লেখা তৈরি করলেই কাজ শেষ নয়। সেই শব্দের পেছনে পাঠক কী জানতে চাইছেন, লেখাটিকে সেই প্রয়োজনের সঙ্গে মিলতে হবে।

ছোট অনুচ্ছেদ কেন সুবিধাজনক?

মোবাইল ফোনে পড়ার সময় বড় বড় অনুচ্ছেদ চোখের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দীর্ঘ লেখাকে ছোট অনুচ্ছেদে ভাগ করা ভালো। তবে প্রতিটি বাক্য আলাদা লাইনে ভেঙে দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।

একটি অনুচ্ছেদে একটি মূল ভাব রাখলে লেখার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে এবং পাঠক সহজে বুঝতে পারেন কোন অংশে কী বলা হচ্ছে।

ছবির অন-পেজ অপ্টিমাইজেশন

ছবির বিকল্প বর্ণনা, ফাইলের নাম ও আকার ঠিক করার উদাহরণ

ছবি ব্যবহার করার সময় কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখলে পৃষ্ঠার ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ে।

  • বিকল্প বর্ণনা: ছবিতে কী দেখা যাচ্ছে তা সংক্ষেপে ও স্বাভাবিকভাবে লিখুন।
  • অর্থবহ ফাইলের নাম: আপলোডের আগে ছবির নাম এমন রাখুন যাতে বিষয়টি বোঝা যায়।
  • উপযুক্ত আকার: ওয়েবপেজের প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক বড় ছবি ব্যবহার করবেন না।
  • উপযুক্ত বিন্যাস: ছবির মান ঠিক রেখে আধুনিক ও কার্যকর ফাইল বিন্যাস ব্যবহার করতে পারেন।
  • অপ্রয়োজনীয় ছবি এড়িয়ে চলুন: শুধু পৃষ্ঠাকে বড় দেখানোর জন্য ছবি যোগ করার প্রয়োজন নেই।

ছবির বিকল্প বর্ণনায় একই কীওয়ার্ড বারবার বসানোও ঠিক নয়। ছবিটি বাস্তবে কী দেখাচ্ছে সেটিই স্বাভাবিকভাবে লিখুন।

অভ্যন্তরীণ সংযোগ কীভাবে দেবেন?

ধরুন আপনি একটি লেখায় কীওয়ার্ড গবেষণার কথা সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। সেখানে পাঠকের জন্য যদি বিষয়টি আরও বিস্তারিতভাবে জানার প্রয়োজন হয়, তাহলে আমাদের কীওয়ার্ড গবেষণা নিয়ে আগের পর্বটি দেখাতে পারেন।

একইভাবে, এসইওর মৌলিক ধারণা না জানা পাঠকের জন্য এসইওর ভিত্তি নিয়ে চতুর্থ পর্বটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

এখানে লক্ষ্য করুন, দুইটি সংযোগই লেখার আলোচনার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। শুধু ওয়েবসাইটে আরও বেশি লিংক দেখানোর জন্য কোনো অপ্রাসঙ্গিক লেখা যুক্ত করা হয়নি।

অভ্যন্তরীণ সংযোগ দেওয়ার সময় যে ভুলগুলো এড়াবেন

  • একই লিংক বারবার অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যবহার করা
  • আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কহীন লেখা যুক্ত করা
  • শুধু “এখানে ক্লিক করুন” ধরনের অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করা
  • একটি অনুচ্ছেদে অতিরিক্ত লিংক ঢুকিয়ে দেওয়া
  • পুরোনো লেখার সঙ্গে নতুন লেখার সম্পর্ক না বুঝে সংযোগ তৈরি করা

লিংকের শব্দ এমন হওয়া ভালো, যাতে পাঠক ক্লিক করার আগেই বুঝতে পারেন সেখানে কী তথ্য পাওয়া যাবে।

নতুনরা অন-পেজ এসইওতে যে ভুলগুলো বেশি করেন

  • শুধু সার্চে জায়গা পাওয়ার জন্য একই শব্দ বারবার ব্যবহার করা
  • শিরোনাম ও লেখার বিষয়বস্তুর মধ্যে অমিল রাখা
  • খুব দীর্ঘ ও অস্পষ্ট ওয়েব ঠিকানা ব্যবহার করা
  • লেখাকে কোনো উপশিরোনাম ছাড়া বড় একটি অংশে রেখে দেওয়া
  • পাঠকের প্রয়োজনের বদলে শুধু সার্চ ইঞ্জিনের কথা চিন্তা করা
  • অপ্রাসঙ্গিক অভ্যন্তরীণ সংযোগ যোগ করা
  • ছবির বিকল্প বর্ণনা ভুলভাবে ব্যবহার করা
  • অপ্রয়োজনীয় বড় ছবি দিয়ে পৃষ্ঠা ভারী করা
  • একই তথ্য নিজের একাধিক লেখায় প্রায় একই ভাষায় পুনরাবৃত্তি করা
গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

অন-পেজ এসইওকে একটি নম্বর পাওয়ার পরীক্ষা হিসেবে দেখবেন না। কোনো সরঞ্জামে সবুজ চিহ্ন পাওয়া মানেই লেখাটি পাঠকের জন্য ভালো হয়েছে—এমন নয়। আগে দেখুন তথ্যটি প্রয়োজনীয় কি না, লেখাটি পরিষ্কার কি না এবং পাঠক তার প্রশ্নের উত্তর পাচ্ছেন কি না।

প্রকাশের আগে অন-পেজ এসইও যাচাই তালিকা

লেখা প্রকাশের আগে নিচের বিষয়গুলো একবার দেখে নিতে পারেন:

  • শিরোনাম কি লেখার আসল বিষয়টি পরিষ্কার করছে?
  • সার্চ ফলাফলের জন্য সংক্ষিপ্ত বর্ণনা কি স্বাভাবিকভাবে লেখা হয়েছে?
  • ওয়েব ঠিকানা কি পরিষ্কার ও সংক্ষিপ্ত?
  • উপশিরোনামগুলো কি লেখার কাঠামো বোঝাচ্ছে?
  • লেখায় কি পাঠকের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর রয়েছে?
  • প্রয়োজনীয় জায়গায় কি সম্পর্কিত অভ্যন্তরীণ সংযোগ দেওয়া হয়েছে?
  • ছবির বিকল্প বর্ণনা কি অর্থবহ?
  • ছবির আকার কি প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক বড়?
  • লেখায় কি অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি রয়েছে?
  • মোবাইল ফোনে পুরো লেখাটি পড়তে সুবিধা হচ্ছে কি?
  • প্রকাশের আগে বানান ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে কি?

অন-পেজ এসইও নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. অন-পেজ এসইও করার জন্য কি আলাদা কোনো সরঞ্জাম প্রয়োজন?

অবশ্যই নয়। মূল কাজগুলো বোঝার জন্য আলাদা কোনো সরঞ্জাম বাধ্যতামূলক নয়। তবে ওয়েবসাইট পরিচালনার ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেতে পারে। এগুলো মূল ধারণার বিকল্প নয়।

২. শিরোনামে প্রধান কীওয়ার্ড কি অবশ্যই প্রথমে রাখতে হবে?

না। শিরোনাম স্বাভাবিক ও অর্থবহ হওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টির সঙ্গে সম্পর্কিত শব্দ স্বাভাবিকভাবে শিরোনামে থাকলে ভালো, কিন্তু শুধু অবস্থান ঠিক রাখার জন্য অস্বাভাবিক বাক্য তৈরি করার প্রয়োজন নেই।

৩. একটি লেখায় কতগুলো অভ্যন্তরীণ সংযোগ দেওয়া উচিত?

এর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। যেখানে পাঠকের পরবর্তী তথ্য প্রয়োজন এবং আপনার ওয়েবসাইটে সেই বিষয়ের প্রাসঙ্গিক লেখা আছে, সেখানে সংযোগ দিন। ছোট লেখায় কম এবং বড় লেখায় প্রয়োজন অনুযায়ী বেশি হতে পারে।

৪. শুধু অন-পেজ এসইও করলেই কি প্রথম অবস্থানে থাকা নিশ্চিত?

না। সার্চ ফলাফলের অবস্থান নির্ধারণে অনেক বিষয় কাজ করে এবং কোনো অন-পেজ কৌশলই নির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করে না। অন-পেজ এসইওর লক্ষ্য হলো পৃষ্ঠাটিকে পরিষ্কার, প্রাসঙ্গিক ও ব্যবহারযোগ্য করে তোলা।

৫. ছবির বিকল্প বর্ণনায় কি কীওয়ার্ড দিতে হবে?

ছবিটি সত্যিই যদি সেই বিষয়কে প্রকাশ করে, তাহলে স্বাভাবিকভাবে প্রাসঙ্গিক শব্দ থাকতে পারে। কিন্তু শুধু সার্চে জায়গা পাওয়ার জন্য ছবির বর্ণনায় অপ্রাসঙ্গিক কীওয়ার্ড ঢোকানো উচিত নয়।

৬. একটি লেখার প্রথম অংশে কীওয়ার্ড রাখা কি বাধ্যতামূলক?

কোনো নির্দিষ্ট শব্দ নির্দিষ্ট সংখ্যকবার বা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতেই হবে—এমন নিয়ম অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। লেখার শুরুতেই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বলা থাকলে পাঠক ও সার্চ ইঞ্জিন উভয়ের জন্যই তা সহায়ক।

অন-পেজ এসইও শেখার পর পরবর্তী ধাপ

এখন পর্যন্ত আমরা ধারাবাহিকভাবে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পার করেছি—এসইওর ভিত্তি, কীওয়ার্ড গবেষণা এবং অন-পেজ এসইও। এর পরের ধাপে ওয়েবসাইটের এমন কিছু বিষয় আসে যেগুলো সরাসরি লেখার ভেতরের বিষয় নয়, বরং ওয়েবসাইটের প্রযুক্তিগত কাঠামো, গতি ও অনুসন্ধানযোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

সেই বিষয়গুলো নিয়ে পরবর্তী পর্বে কারিগরি এসইও, ওয়েবসাইটের গতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত বিষয় আলোচনা করা হবে।

তাই এই পর্ব থেকে একটি বিষয় মনে রাখুন—অন-পেজ এসইও মানে শুধু কীওয়ার্ড বসানো নয়। একটি ওয়েবপেজের বিষয়, কাঠামো, লেখা, ছবি ও অভ্যন্তরীণ সংযোগকে পাঠকের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিকভাবে সাজানোই এর মূল উদ্দেশ্য।