In this article
Spread the love

প্রতি মাসে বেতন বা ব্যবসার আয় থেকে কিছু টাকা জমিয়ে ভবিষ্যতের জন্য একটি ভালো অঙ্কের সঞ্চয় গড়ে তুলতে চান? সে ক্ষেত্রে ব্যাংকের ডিপিএস হতে পারে আপনার বিবেচনার একটি বিকল্প। কিন্তু ডিপিএস খোলার আগে যে প্রশ্নটি সবার আগে আসে, সেটি হলো—কোন ব্যাংকের ডি পি এস রেট ২০২৬ কত এবং কোথায় টাকা রাখলে মেয়াদ শেষে তুলনামূলক ভালো অঙ্ক পাওয়া যেতে পারে?

সমস্যা হচ্ছে, সব ব্যাংকের ডিপিএসের নিয়ম এক নয়। কোনো ব্যাংকে স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয়ের সুযোগ রয়েছে, কোনো ব্যাংকে দীর্ঘমেয়াদি স্কিম বেশি জনপ্রিয়। আবার ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মুনাফাভিত্তিক স্কিমের হিসাবও প্রচলিত সুদভিত্তিক ডিপিএসের মতো নয়। তাই শুধু একটি শতাংশ দেখে সিদ্ধান্ত নিলে পরে প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্ত টাকার পার্থক্য হতে পারে।

এই লেখায় বাংলাদেশের ডিপিএসের মুনাফার হার যাচাই করার পদ্ধতি, বিভিন্ন ব্যাংকের স্কিম সম্পর্কে ধারণা, মাসিক কিস্তির হিসাব, মেয়াদ শেষে সম্ভাব্য সঞ্চয় এবং ডিপিএস খোলার আগে যেসব শর্ত জানা দরকার, সেগুলো একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে।

ডি পি এস রেট ২০২৬: এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। বাংলাদেশে সব ব্যাংকের জন্য একই ডিপিএস রেট নির্ধারিত নেই। ব্যাংক, স্কিমের ধরন, মেয়াদ, গ্রাহকের শ্রেণি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত অনুযায়ী মুনাফার হার আলাদা হতে পারে। ব্যাংকগুলো তাদের আমানত পণ্যের হার পরিবর্তনও করতে পারে।

তাই ২০২৬ সালের জন্য কোনো একটি হারকে বাংলাদেশের সব ব্যাংকের ডিপিএস রেট বলা সঠিক হবে না। নিচের ছকটি বিভিন্ন ব্যাংকের স্কিম খুঁজে দেখার একটি প্রাথমিক নির্দেশিকা। এটি কোনো হালনাগাদ সুদের হার তালিকা নয়।

ব্যাংকের নাম যে বিষয়টি যাচাই করবেন হার কোথায় যাচাই করবেন
ব্র্যাক ব্যাংক ডিপোজিট প্রিমিয়াম স্কিম, মেয়াদ ও গ্রাহকভিত্তিক শর্ত ব্যাংকের সর্বশেষ ডিপোজিট রেট শিট
ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মাসিক সঞ্চয় স্কিম, কিস্তি ও মেয়াদপূর্তির অঙ্ক ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা শাখা
সিটি ব্যাংক মাসিক সঞ্চয় স্কিমের মুনাফা ও আগাম ভাঙার নিয়ম সর্বশেষ স্কিমের শর্ত ও রেট শিট
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ মুদারাবা সঞ্চয় স্কিম ও মুনাফা বণ্টনের নিয়ম ব্যাংকের বর্তমান মুনাফার হার ও নীতিমালা
সোনালী ব্যাংক সোনালী সঞ্চয় ও অন্যান্য মাসিক কিস্তিভিত্তিক স্কিম ব্যাংকের প্রকাশিত স্কিমের তালিকা

উপরের তালিকা থেকে কোনো ব্যাংককে সর্বোচ্চ মুনাফাদাতা ধরে নেওয়া উচিত নয়। স্কিমগুলোর মেয়াদ, কিস্তির পরিমাণ এবং হিসাবের পদ্ধতি এক না হলে শুধু নামের পাশে একটি হার বসিয়ে তুলনা করলেও প্রকৃত চিত্র বোঝা যায় না।

ডিপিএস কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে?

ডিপিএস হলো নির্দিষ্ট সময় ধরে নিয়মিত বিরতিতে টাকা জমিয়ে সঞ্চয় গড়ে তোলার একটি ব্যবস্থা। বাংলাদেশে ব্যাংকভেদে এই ধরনের স্কিমের নাম আলাদা হতে পারে। সাধারণত গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট মাসিক কিস্তি বেছে নেন এবং নির্ধারিত তারিখে সেই টাকা জমা করেন। মেয়াদ শেষে স্কিমের শর্ত অনুযায়ী মূল জমার সঙ্গে প্রাপ্য সুদ বা মুনাফা দেওয়া হয়।

ধরুন, আপনি প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা জমাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাঁচ বছর ধরে নিয়মিত জমা দিলে মোট ৬০টি কিস্তি হবে। অর্থাৎ আপনার নিজের জমা টাকা দাঁড়াবে ১,২০,০০০ টাকা। এর সঙ্গে প্রযোজ্য মুনাফা যোগ হলে মেয়াদ শেষে পাওয়া অর্থ আরও বেশি হতে পারে।

read also: ১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি

তবে ১,২০,০০০ টাকা জমা দিলেই যে নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক পাওয়া যাবে, তা বলা যায় না। প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে ব্যাংকের ঘোষিত হার, কিস্তি জমার সময়, মুনাফা গণনার নিয়ম, কর এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্তের ওপর।

কোন ব্যাংকের ডিপিএস ভালো হবে?

ডিপিএস বেছে নেওয়ার সময় শুধু বেশি মুনাফার হার দেখলে চলবে না। আপনার সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য, মাসিক আয়, কত বছর টাকা জমাতে পারবেন এবং প্রয়োজনে টাকা তোলার দরকার হতে পারে কি না—এসব বিষয়ও বিবেচনা করা জরুরি।

১. ব্র্যাক ব্যাংক ডিপিএস

বেসরকারি ব্যাংকে মাসিক সঞ্চয় করতে চাইলে ব্র্যাক ব্যাংকের ডিপোজিট প্রিমিয়াম স্কিম সম্পর্কে খোঁজ নিতে পারেন। স্কিম খোলার আগে সাধারণ গ্রাহকের জন্য প্রযোজ্য হার, মেয়াদের বিকল্প, সর্বনিম্ন কিস্তি এবং আগাম ভাঙার নিয়ম জেনে নিন। কোনো বিশেষ গ্রাহকশ্রেণির জন্য বাড়তি সুবিধা থাকলে সেটির যোগ্যতার শর্তও যাচাই করুন।

ব্র্যাক ব্যাংকের অফিসিয়াল ডিপোজিট ইন্টারেস্ট রেট পেজ থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ রেট শিট দেখে নিতে পারবেন। সেখানে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্কিমের নির্দিষ্ট শর্ত আছে কি না, সেটিও মিলিয়ে নিন।

২. ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ডিপিএস

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় স্কিম বিবেচনা করলে প্রথমে জেনে নিন কোন স্কিমে কত টাকা দিয়ে শুরু করা যায় এবং কত বছরের জন্য হিসাব খোলা যায়। এরপর একই কিস্তি ও একই মেয়াদে সম্ভাব্য মেয়াদপূর্তির টাকা অন্য ব্যাংকের সঙ্গে তুলনা করুন।

শুধু বার্ষিক মুনাফার হার দেখার পরিবর্তে ব্যাংক যে ম্যাচিউরিটি বা মেয়াদপূর্তির অঙ্ক জানায়, সেটি লিখে রাখুন। এতে তুলনা করার সময় হিসাবের পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি কম হবে।

৩. সিটি ব্যাংক ডিপিএস

সিটি ব্যাংকের মাসিক সঞ্চয় স্কিম বিবেচনা করার সময় কিস্তির বিকল্প, মেয়াদ, মুনাফা গণনার নিয়ম এবং নির্ধারিত সময়ের আগে হিসাব বন্ধ করলে কী হবে, তা জেনে নিন। কোনো স্কিমের নামের সঙ্গে নির্দিষ্ট মুনাফার হার উল্লেখ থাকলেও সেটি বর্তমানে কার্যকর কি না, নিশ্চিত হওয়া দরকার।

একই ব্যাংকের একাধিক সঞ্চয় পণ্য থাকলে সবগুলোর শর্ত এক নাও হতে পারে। তাই শুধু ডিপিএস শব্দটি দেখে একটি স্কিমের নিয়ম অন্যটির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করবেন না।

৪. ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা সঞ্চয় স্কিম

ইসলামী ব্যাংকিং পদ্ধতিতে সঞ্চয় করতে আগ্রহী হলে মুদারাবাভিত্তিক মাসিক সঞ্চয় স্কিম সম্পর্কে জানতে পারেন। এ ধরনের স্কিমে মুনাফা বণ্টনের নিয়ম প্রচলিত সুদভিত্তিক ডিপিএস থেকে আলাদা হতে পারে।

এখানে শুধু একটি নির্দিষ্ট শতাংশকে নিশ্চিত আয় ধরে নেওয়ার আগে ব্যাংকের মুনাফা বণ্টন নীতিমালা, ঘোষিত হারটি সাময়িক নাকি চূড়ান্ত এবং মেয়াদ শেষে কীভাবে হিসাব হবে, তা বুঝে নিন।

৫. সোনালী ব্যাংকের সঞ্চয় স্কিম

সরকারি ব্যাংকে সঞ্চয় করতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের বিভিন্ন সঞ্চয় স্কিমের শর্ত দেখতে পারেন। সব স্কিমের কিস্তি, মেয়াদ ও মুনাফার নিয়ম এক নয়। আপনার লক্ষ্য যদি সন্তানের পড়াশোনা, ভবিষ্যতের চিকিৎসা ব্যয় বা দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক সঞ্চয় হয়, তাহলে উদ্দেশ্যের সঙ্গে মানানসই স্কিম খুঁজে দেখা ভালো।

সোনালী ব্যাংকের কোনো স্কিমে কম কিস্তির সুযোগ থাকলেই সেটি সবার জন্য সেরা হবে, এমন নয়। একই মেয়াদে মোট কত টাকা জমা হবে এবং শর্ত অনুযায়ী কত পাওয়া যাবে, তা হিসাব করে সিদ্ধান্ত নিন।

মাসে ১,০০০ টাকা ডিপিএস করলে কত টাকা জমবে?

ডিপিএসের সম্ভাব্য ফল বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রথমে নিজের জমার হিসাব বের করা। এরপর ব্যাংকের দেওয়া মেয়াদপূর্তির অঙ্কের সঙ্গে সেটি তুলনা করা।

মাসিক কিস্তি ৩ বছরে মোট জমা ৫ বছরে মোট জমা ১০ বছরে মোট জমা
৫০০ টাকা ১৮,০০০ টাকা ৩০,০০০ টাকা ৬০,০০০ টাকা
১,০০০ টাকা ৩৬,০০০ টাকা ৬০,০০০ টাকা ১,২০,০০০ টাকা
২,০০০ টাকা ৭২,০০০ টাকা ১,২০,০০০ টাকা ২,৪০,০০০ টাকা
৫,০০০ টাকা ১,৮০,০০০ টাকা ৩,০০,০০০ টাকা ৬,০০,০০০ টাকা
১০,০০০ টাকা ৩,৬০,০০০ টাকা ৬,০০,০০০ টাকা ১২,০০,০০০ টাকা

মনে রাখবেন: ছকের অঙ্কগুলো কেবল আপনার নিজের মোট জমা। এখানে কোনো সুদ বা মুনাফা যোগ করা হয়নি। মেয়াদ শেষে কত টাকা পাবেন, তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের স্কিমের শর্ত অনুযায়ী হিসাব করতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে, মাসে ১,০০০ টাকা করে পাঁচ বছর জমালে নিজের জমা হবে ৬০,০০০ টাকা। ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী মেয়াদপূর্তির টাকা যদি ৭৫,০০০ হয়, তাহলে মোট পার্থক্য হবে ১৫,০০০ টাকা। তবে এই উদাহরণটি কেবল হিসাব বোঝানোর জন্য; এটি কোনো ব্যাংকের ঘোষিত মুনাফা বা নিশ্চিত রিটার্ন নয়।

ডিপিএসের মুনাফা কীভাবে হিসাব করবেন?

ডিপিএসের মেয়াদপূর্তির টাকা বের করতে শুধু বার্ষিক হার জানলেই সব সময় যথেষ্ট হয় না। মাসিক কিস্তির টাকা বিভিন্ন সময়ে জমা হয় বলে প্রতিটি কিস্তি সমান সময় ধরে মুনাফা অর্জন করে না। ব্যাংকের ব্যবহৃত হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী চূড়ান্ত অঙ্ক নির্ধারিত হয়।

সাধারণভাবে হিসাবটি বুঝতে নিচের তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখুন:

  • মোট জমা: মাসিক কিস্তি × মোট কিস্তির সংখ্যা।
  • মোট প্রাপ্য: ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মূল জমা ও প্রযোজ্য মুনাফা মিলিয়ে মেয়াদপূর্তির অঙ্ক।
  • মুনাফার পার্থক্য: মোট প্রাপ্য থেকে নিজের মোট জমা বাদ দিলে কর ও অন্যান্য কর্তনের আগের আনুমানিক পার্থক্য বোঝা যায়।

ব্যাংকের কাছ থেকে একটি লিখিত মেয়াদপূর্তি হিসাব নিন। সেখানে কিস্তির পরিমাণ, মেয়াদ, প্রযোজ্য হার, সম্ভাব্য মুনাফা এবং কর বা অন্যান্য কর্তনের বিষয়গুলো পরিষ্কার থাকা উচিত। শুধু মৌখিকভাবে বলা একটি অঙ্কের ওপর নির্ভর না করাই ভালো।

ডিপিএস খোলার আগে যে ৭টি বিষয় যাচাই করবেন

১. বর্তমান মুনাফার হার

আপনি যে ব্যাংক ও যে স্কিম বেছে নিয়েছেন, সেটির সর্বশেষ কার্যকর হার যাচাই করুন। পুরোনো ব্লগ পোস্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি বা অন্য কারও ডিপিএসের হার দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। একই ব্যাংকের বিভিন্ন স্কিমেও হার আলাদা হতে পারে।

২. মাসিক কিস্তি দেওয়ার সামর্থ্য

মাসের সব খরচ মেটানোর পর যে টাকা নিয়মিত সঞ্চয় করতে পারবেন, সেই পরিমাণের কিস্তি বেছে নিন। বেশি টাকা জমাতে গিয়ে কয়েক মাস পর কিস্তি বন্ধ হয়ে গেলে পরিকল্পনাটিই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৩. মেয়াদপূর্তির অঙ্ক

ব্যাংককে জিজ্ঞাসা করুন, নির্দিষ্ট কিস্তি ও মেয়াদে আনুমানিক কত টাকা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে জানতে চান, এই অঙ্ক কর কাটার আগের নাকি পরের। সম্ভব হলে লিখিত হিসাব সংগ্রহ করুন।

৪. কিস্তি দিতে দেরি হলে কী হবে

কোনো মাসে নির্ধারিত সময়ে টাকা জমা দিতে না পারলে জরিমানা, অতিরিক্ত ফি, বকেয়া কিস্তি বা হিসাবের অবস্থার ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা আগে জানুন। ব্যাংকভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।

৫. মেয়াদের আগে টাকা তুলতে পারবেন কি না

জরুরি প্রয়োজনে ডিপিএস বন্ধ করতে হলে কত মুনাফা পাওয়া যাবে, কোনো ফি কাটা হবে কি না এবং কত দিনের মধ্যে টাকা হাতে পাওয়া যাবে, তা বুঝে নিন। দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের পাশাপাশি জরুরি খরচের জন্য আলাদা টাকা রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

৬. কর ও অন্যান্য কর্তন

মুনাফার ওপর প্রযোজ্য উৎসে কর, আবগারি শুল্ক বা অন্যান্য চার্জের কারণে হাতে পাওয়া টাকা কমতে পারে। এগুলো আপনার হিসাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না এবং কীভাবে কাটা হবে, তা ব্যাংক থেকে জেনে নিন। করসংক্রান্ত নিয়ম পরিবর্তিত হলে আগের বছরের তথ্যের সঙ্গে বর্তমান নিয়মের পার্থক্যও যাচাই করুন।

৭. নমিনি ও হিসাব পরিচালনার নিয়ম

ডিপিএস খোলার সময় নমিনির তথ্য সঠিকভাবে দিন। কিস্তি কোন হিসাব থেকে কাটা হবে, মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব দেখা যাবে কি না এবং মেয়াদ শেষে টাকা পাওয়ার প্রক্রিয়া কী, তা জেনে নিন।

ডিপিএস নাকি এফডিআর—কোনটি বেছে নেবেন?

ডিপিএস ও এফডিআর দুটিই সঞ্চয়ের মাধ্যম, তবে টাকা জমা দেওয়ার ধরন আলাদা। আপনার হাতে একসঙ্গে একটি বড় অঙ্কের টাকা আছে, নাকি প্রতি মাসে অল্প অল্প করে সঞ্চয় করতে চান, সেটিই সিদ্ধান্তের অন্যতম প্রধান বিষয়।

বিষয় ডিপিএস এফডিআর
টাকা জমা নিয়মিত কিস্তিতে সাধারণত এককালীন
কার জন্য উপযোগী মাসিক সঞ্চয় করতে চান এমন ব্যক্তি একসঙ্গে টাকা জমা রাখতে চান এমন ব্যক্তি
মুনাফার হিসাব কিস্তি ও স্কিমের শর্ত অনুযায়ী জমার পরিমাণ, মেয়াদ ও প্রযোজ্য হার অনুযায়ী
আগে বন্ধ করার নিয়ম স্কিমের শর্ত অনুযায়ী আমানতের শর্ত অনুযায়ী

একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, এফডিআরে পুরো অর্থ প্রথম দিন থেকেই জমা থাকে। ডিপিএসে কিস্তির টাকা ধাপে ধাপে জমা হয়। তাই দুই পণ্যের ঘোষিত হার একই হলেও মেয়াদ শেষে পাওয়া টাকার হিসাব এক হবে, এমন নয়।

ডিপিএস খোলার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ব্যাংক ও স্কিম অনুযায়ী আবেদনপদ্ধতি আলাদা হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে আবেদন করা যায়; কিছু ব্যাংকে যোগ্য গ্রাহকের জন্য ডিজিটাল মাধ্যমেও সঞ্চয় স্কিম খোলার সুযোগ থাকে।

সাধারণভাবে নিচের তথ্য বা কাগজপত্র লাগতে পারে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্র।
  • ব্যাংক হিসাবের তথ্য, যেখান থেকে কিস্তি জমা হবে।
  • গ্রাহকের ছবি, যদি প্রয়োজন হয়।
  • নমিনির পরিচয় ও প্রয়োজনীয় তথ্য।
  • ব্যাংকের আবেদনপত্র ও অন্যান্য প্রযোজ্য নথি।

সব গ্রাহকের জন্য একই কাগজপত্র প্রয়োজন হয় না। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কাছ থেকে হালনাগাদ তালিকা সংগ্রহ করুন।

ডি পি এস রেট ২০২৬ সম্পর্কে সাধারণ প্রশ্ন

২০২৬ সালে কোন ব্যাংকের ডিপিএস রেট সবচেয়ে বেশি?

এটি নির্দিষ্ট করে বলতে হলে একই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের কার্যকর রেট শিট ও সংশ্লিষ্ট স্কিমের শর্ত তুলনা করতে হবে। শুধু একটি ব্যাংকের বিজ্ঞাপিত হার দেখে সেটিকে সবার চেয়ে বেশি বলা ঠিক নয়। মেয়াদ, কিস্তি, মুনাফা গণনার পদ্ধতি এবং কর-পরবর্তী প্রাপ্ত অঙ্কও তুলনা করুন।

মাসে ৫০০ টাকা দিয়ে কি ডিপিএস করা যায়?

কিছু ব্যাংকের সঞ্চয় স্কিমে ছোট অঙ্কের কিস্তির সুযোগ থাকতে পারে। তবে সর্বনিম্ন কিস্তি ব্যাংক ও স্কিমভেদে আলাদা। তাই ৫০০ টাকা দিয়ে হিসাব খোলা যাবে কি না, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বর্তমান নিয়ম দেখে নিশ্চিত হন।

মাসে ১,০০০ টাকা করে পাঁচ বছর জমালে কত টাকা পাব?

পাঁচ বছরে ৬০টি কিস্তিতে আপনার নিজের জমা হবে ৬০,০০০ টাকা। এর সঙ্গে ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী মুনাফা যোগ হবে। নির্দিষ্ট অঙ্ক জানতে নির্বাচিত ব্যাংকের বর্তমান হার ও মেয়াদপূর্তির হিসাব দেখতে হবে।

ডিপিএস মাঝপথে ভাঙলে কি পুরো মুনাফা পাওয়া যায়?

সব ক্ষেত্রে নয়। কোনো ব্যাংক নির্দিষ্ট সময়ের আগে হিসাব বন্ধ করলে কম হারে মুনাফা দিতে পারে; কোনো স্কিমে অন্য শর্ত থাকতে পারে। ডিপিএস খোলার আগে আগাম বন্ধ করার নিয়ম লিখিতভাবে জেনে নিন।

ডিপিএসের মুনাফার হার কি সব সময় একই থাকে?

স্কিমের চুক্তি ও ব্যাংকের নীতিমালার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। কোনো স্কিমে খোলার সময়ের হার পুরো মেয়াদে প্রযোজ্য হতে পারে, আবার কোনো পণ্যে ঘোষিত বা প্রত্যাশিত মুনাফার হিসাব ভিন্নভাবে নির্ধারিত হতে পারে। আপনার নির্বাচিত স্কিমে কোন নিয়ম প্রযোজ্য, সেটি নিশ্চিত করুন।

ডিপিএস খোলার আগে কোন তথ্যটি সবচেয়ে জরুরি?

মাসিক কিস্তি, মেয়াদ, মুনাফার হার, মেয়াদপূর্তির অঙ্ক এবং আগে বন্ধ করার নিয়ম—এই পাঁচটি তথ্য একসঙ্গে যাচাই করুন। শুধু সর্বোচ্চ হার দেখার বদলে আপনার সামর্থ্য ও প্রয়োজনের সঙ্গে মানানসই স্কিম বেছে নিন।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শেষবার যা মিলিয়ে নেবেন

ডি পি এস রেট ২০২৬ খুঁজতে গিয়ে একটি বিষয় মনে রাখা দরকার—বেশি মুনাফার হার দেখলেই কোনো স্কিম আপনার জন্য ভালো হয়ে যায় না। আপনার মাসিক আয় থেকে কত টাকা নিয়মিত জমা রাখা সম্ভব, কতদিন টাকা না তুললেও চলবে এবং মেয়াদ শেষে কত টাকা প্রয়োজন হবে, এগুলোই সিদ্ধান্তের ভিত্তি হওয়া উচিত।

একই কিস্তি ও মেয়াদ ধরে দুই বা তিনটি ব্যাংকের হিসাব সংগ্রহ করুন। এরপর সম্ভাব্য মেয়াদপূর্তির টাকা, আগাম ভাঙার নিয়ম, কর ও অন্যান্য কর্তন তুলনা করুন। ব্যাংকের সর্বশেষ রেট শিটের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে তবেই আবেদন করুন। এতে শুধু আকর্ষণীয় একটি হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঞ্চয়ের পরিকল্পনা করতে পারবেন।

তথ্য যাচাই: এই লেখাটি সাধারণ তথ্য ও সঞ্চয় পরিকল্পনার উদ্দেশ্যে তৈরি। ব্যাংকের মুনাফার হার, যোগ্যতা, কর ও অন্যান্য শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে। টাকা জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সর্বশেষ অফিসিয়াল নথি ও শর্ত যাচাই করুন।