Domain Flipping শুরু করতে কত টাকা লাগে? খরচ ও বাজেটের হিসাব

In this article
Telegram Group Join our Telegram channel
Join
Spread the love

Domain Flipping শুরু করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বড় অঙ্কের মূলধন দরকার হয় না। আপনি চাইলে অল্প কয়েকটি ডোমেইন নিয়ে ছোট বাজেটেও শুরু করতে পারেন। তবে শুধু ডোমেইন কেনার টাকা হিসাব করলেই হবে না। নিবন্ধন, নবায়ন, বিক্রির সময়ের কমিশন এবং দীর্ঘদিন ধরে ডোমেইন রেখে দিলে যে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে—সবকিছু বাজেটের মধ্যে ধরতে হবে।

শুরুর দিকে ১-২টি ডোমেইন নিয়ে পরীক্ষা করলে মোট খরচ তুলনামূলক কম রাখা যায়। অন্যদিকে একসঙ্গে অনেকগুলো ডোমেইন কিনলে প্রাথমিক খরচের পাশাপাশি ভবিষ্যতের নবায়ন খরচও দ্রুত বাড়তে থাকে। তাই নতুনদের জন্য বাজেট ঠিক করার সময় কতটি ডোমেইন কিনবেন—এই সিদ্ধান্তটিই বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

Domain Flipping-এর মূল খরচগুলো কী?

একজন নতুন ডোমেইন ফ্লিপারের খরচ সাধারণত কয়েকটি আলাদা অংশে ভাগ করা যায়। সব খরচ প্রতিবারই হবে এমন নয়। আপনি কোন ধরনের ডোমেইন কিনছেন এবং কীভাবে বিক্রি করছেন, তার ওপর মোট ব্যয় পরিবর্তিত হতে পারে।

খরচের ধরন কখন লাগে কীসের ওপর নির্ভর করে
ডোমেইন নিবন্ধন নতুন ডোমেইন কেনার সময় এক্সটেনশন ও রেজিস্ট্রারের মূল্য
ডোমেইন ক্রয় আগে নিবন্ধিত ডোমেইন কিনলে নাম ও বাজারমূল্য
নবায়ন ডোমেইন ধরে রাখলে রেজিস্ট্রার ও এক্সটেনশন
বিক্রয় কমিশন কিছু মার্কেটপ্লেসে বিক্রির সময় প্ল্যাটফর্মের নিয়ম
লেনদেন খরচ পেমেন্ট গ্রহণ বা পাঠানোর সময় ব্যবহৃত পেমেন্ট পদ্ধতি

এই তালিকা দেখলে বোঝা যায়, Domain Flipping-এর বাজেট শুধু “একটি ডোমেইন কত টাকায় কিনব” এই প্রশ্নে শেষ হয় না। ডোমেইন বিক্রি হতে সময় লাগলে সেটি ধরে রাখার খরচও মোট বিনিয়োগের অংশ হয়ে যায়।

নতুন ডোমেইন কিনে শুরু করলে কত বাজেট ধরবেন?

নতুন ডোমেইন দিয়ে শুরু করা তুলনামূলক সহজ। এখানে প্রথমে পছন্দের নামটি উপলভ্য কি না দেখতে হয়। উপলভ্য থাকলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সেটি নিবন্ধন করা যায়।

ধরা যাক, আপনার বাজেট ৩,০০০ টাকা। পুরো টাকা দিয়ে ডোমেইন কেনার দরকার নেই। বরং প্রথম পর্যায়ে একটি ছোট অংশ ব্যবহার করে ১-২টি সম্ভাবনাময় নাম নিয়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। কিছু টাকা হাতে রেখে দেওয়া ভালো, কারণ পরবর্তী সময়ে নবায়ন বা অন্য কোনো প্রয়োজনীয় খরচ আসতে পারে।

ডোমেইনের মূল্য এক্সটেনশন, রেজিস্ট্রার, অফার এবং সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কেনার আগে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের বর্তমান মূল্য দেখে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে প্রথম বছরের প্রচারমূল্য দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পরের বছরের সাধারণ নবায়ন মূল্যটিও দেখে নিন।

শুধু প্রথম বছরের দাম দেখে ডোমেইন কিনবেন না

অনেক সময় কোনো ডোমেইন খুব কম দামে নিবন্ধনের অফার দেখা যায়। প্রথম নজরে এটি আকর্ষণীয় মনে হলেও পরবর্তী নবায়ন মূল্য অনেক বেশি হতে পারে। Domain Flipping-এ এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডোমেইনটি এক মাসে বিক্রি না-ও হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে ধরুন, প্রথম বছরে কোনো ডোমেইনের নিবন্ধন খরচ কম। কিন্তু দ্বিতীয় বছর থেকে সেটি ধরে রাখতে স্বাভাবিক নবায়ন মূল্য দিতে হবে। আপনি যদি তিন বছর ধরে সেটি বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে প্রথম দিনের ক্রয়মূল্যের চেয়ে মোট ব্যয় অনেক বেশি হয়ে যাবে।

তাই বাজেট করার সময় এই হিসাবটি করুন:

মোট ডোমেইন খরচ = প্রাথমিক মূল্য + প্রয়োজনীয় নবায়ন খরচ + অন্যান্য সংশ্লিষ্ট খরচ

৩,০০০ টাকার বাজেটে কীভাবে শুরু করা যায়?

৩,০০০ টাকা থাকলে সেটিকে পুরোপুরি ডোমেইন কেনার পেছনে ব্যয় না করাই ভালো। প্রথমে গবেষণার জন্য সময় দিন এবং তারপর সীমিত সংখ্যক ডোমেইন নিয়ে পরীক্ষা করুন।

একটি নমুনা পরিকল্পনা হতে পারে—প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা ডোমেইন কেনার জন্য রাখা এবং বাকি টাকা ভবিষ্যতের নবায়ন বা অন্যান্য খরচের জন্য সংরক্ষণ করা। এটি কোনো নির্দিষ্ট বাজারমূল্য নয়; আপনার নির্বাচিত ডোমেইনের প্রকৃত মূল্য অনুযায়ী হিসাব পরিবর্তিত হবে।

Read Also:

YouTube SEO বাংলা গাইড পর্ব ৮: YouTube Thumbnail SEO — CTR বাড়ানোর সঠিক কৌশল

এই বাজেটের উদ্দেশ্য অনেক ডোমেইন সংগ্রহ করা নয়। বরং কম ঝুঁকিতে বাজার বোঝা এবং নিজের নির্বাচন কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটি পরীক্ষা করা।

৫,০০০ টাকার বাজেটে কী পরিবর্তন আসে?

৫,০০০ টাকার বাজেট হলে আপনার হাতে কিছুটা বেশি সুযোগ থাকবে। আপনি কয়েকটি নতুন ডোমেইন নিয়ে পরীক্ষা করতে পারেন অথবা তুলনামূলক ভালো কোনো ডোমেইন কেনার জন্য একটি অংশ আলাদা রাখতে পারেন।

তবে বাজেট বাড়লেই ডোমেইনের সংখ্যা বাড়ানো জরুরি নয়। পাঁচটি মাঝারি মানের ডোমেইনের বদলে একটি বা দুটি শক্তিশালী নামের ওপর গবেষণা করে অর্থ ব্যয় করা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি যুক্তিসংগত হতে পারে। এখানে আসল বিষয় হলো প্রতি ডোমেইনে কত টাকা খরচ হচ্ছে এবং সেটির সম্ভাব্য ক্রেতা আছে কি না

১০,০০০ টাকার বাজেটে Domain Flipping

১০,০০০ টাকা দিয়ে শুরু করলেও পুরো অর্থ একসঙ্গে বিনিয়োগ করার প্রয়োজন নেই। একটি অংশ নতুন ডোমেইনের জন্য এবং একটি অংশ ভালো সুযোগ পেলে প্রিমিয়াম বা ইতিমধ্যে নিবন্ধিত ডোমেইন কেনার জন্য রাখা যেতে পারে।

১০,০০০ টাকার বাজেটে Domain Flipping

এ ধরনের বাজেটে হিসাব রাখার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একাধিক ডোমেইন থাকলে কোনটির জন্য কত খরচ হয়েছে, কখন নবায়ন করতে হবে এবং কোনটি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত আছে—এসব সহজেই গুলিয়ে যেতে পারে।

একটি সাধারণ স্প্রেডশিটেই কাজটি করা যায়। সেখানে ডোমেইনের নাম, কেনার তারিখ, ক্রয়মূল্য, নবায়নের তারিখ, মোট খরচ এবং সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য লিখে রাখলে নিজের বিনিয়োগের অবস্থা পরিষ্কার থাকবে।

প্রিমিয়াম ডোমেইন কিনতে বেশি টাকা লাগে কেন?

সব ডোমেইন নতুন করে সাধারণ নিবন্ধন মূল্যে পাওয়া যায় না। কিছু নাম আগে থেকেই অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় থাকে এবং তারা নিজেদের নির্ধারিত মূল্যে সেটি বিক্রি করতে পারে। নামটি ছোট, অর্থপূর্ণ বা বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় হলে চাওয়া দাম সাধারণ নিবন্ধন খরচের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে।

এ ধরনের ডোমেইন কেনার ক্ষেত্রে নতুনদের আরও সতর্ক হওয়া দরকার। কারণ বেশি দামে কেনা মানেই বেশি দামে বিক্রি হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সম্ভাব্য ক্রেতা, নামের ব্যবহার এবং বাজারে তুলনীয় বিক্রয়ের তথ্য যাচাই না করে বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করা ঝুঁকিপূর্ণ।

ডোমেইন নবায়নের খরচ কেন বাজেটে রাখবেন?

Domain Flipping-এ বিক্রি হওয়ার সময় আগে থেকে জানা যায় না। একটি ডোমেইন কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বিক্রি হতে পারে, আবার অনেকদিন কোনো ক্রেতা নাও আসতে পারে। ফলে ডোমেইনটি ধরে রাখতে হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়ন করতে হবে।

ধরুন আপনি ৫টি ডোমেইন কিনেছেন। প্রথম বছর সবগুলো বিক্রি হলো না। পরের বছর পাঁচটির নবায়ন খরচ দিতে হবে। এরপরও বিক্রি না হলে আবার খরচ হতে পারে। এভাবে প্রতিটি ডোমেইনের জন্য ছোট একটি বার্ষিক খরচও দীর্ঘ সময়ে উল্লেখযোগ্য হয়ে উঠতে পারে।

তাই কোনো ডোমেইন কেনার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন—এক বছর পরেও যদি এটি বিক্রি না হয়, আমি কি নবায়নের খরচ বহন করতে পারব?

ডোমেইন বিক্রি করলে কি অতিরিক্ত খরচ হয়?

হতে পারে। আপনি কোথায় ডোমেইন বিক্রি করছেন তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। কিছু ডোমেইন মার্কেটপ্লেস বিক্রয়ের ওপর কমিশন নিতে পারে। আবার পেমেন্ট গ্রহণের মাধ্যম অনুযায়ী আলাদা লেনদেন খরচও থাকতে পারে।

এই কারণে একটি ডোমেইন ১০,০০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে মানেই আপনার হাতে পুরো ১০,০০০ টাকা থাকবে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বিক্রয়ের আগে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কমিশন এবং পেমেন্টের শর্ত দেখে নেওয়া উচিত।

নিজের হিসাবের খাতায় তাই বিক্রয়মূল্য এবং হাতে পাওয়া অর্থ আলাদা করে লেখা ভালো।

লাভের হিসাব কীভাবে করবেন?

Domain Flipping-এর লাভ হিসাব করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি হলো ডোমেইনটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত হওয়া মোট খরচ বের করা। এরপর বিক্রয় থেকে হাতে পাওয়া অর্থ থেকে সেই খরচ বাদ দিতে হবে।

উদাহরণ হিসেবে ধরুন:

  • ডোমেইন কেনার খরচ: ১,০০০ টাকা
  • একবার নবায়ন: ১,২০০ টাকা
  • অন্যান্য লেনদেন খরচ: ৩০০ টাকা
  • মোট খরচ: ২,৫০০ টাকা
  • বিক্রির পর হাতে পাওয়া অর্থ: ৭,০০০ টাকা

তাহলে এই উদাহরণে সম্ভাব্য নিট লাভ হবে ৪,৫০০ টাকা

এখানে সংখ্যাগুলো শুধু হিসাব বোঝানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। বাস্তবে ডোমেইনের নিবন্ধন, নবায়ন, বিক্রয় কমিশন এবং লেনদেন খরচ ভিন্ন হতে পারে।

কতগুলো ডোমেইন দিয়ে শুরু করা যুক্তিসংগত?

নতুনদের ক্ষেত্রে সংখ্যার চেয়ে ব্যবস্থাপনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি ১০টি ডোমেইন কিনে প্রতিটির নাম, মেয়াদ, খরচ এবং বিক্রির অবস্থা ঠিকভাবে ট্র্যাক করতে না পারেন, তাহলে বেশি ডোমেইন আপনার জন্য সুবিধার বদলে ঝামেলা তৈরি করতে পারে।

শুরুর পর্যায়ে ১-৩টি ডোমেইন নিয়ে কাজ করে পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝা যেতে পারে। এরপর অভিজ্ঞতা বাড়লে এবং বাজেট অনুযায়ী সংখ্যা বাড়ানো যায়। এতে ভুল হলে ক্ষতির পরিমাণও তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে।

ডোমেইন কেনার বাজেট ভাগ করার একটি সহজ পদ্ধতি

আপনার হাতে যে বাজেট আছে, সেটিকে তিনটি ভাগে চিন্তা করতে পারেন—কেনার টাকা, ধরে রাখার টাকা এবং জরুরি সংরক্ষণ

কেনার টাকা: নতুন ডোমেইন বা উপযুক্ত কোনো নাম কেনার জন্য ব্যবহার করবেন।

ধরে রাখার টাকা: ডোমেইন দ্রুত বিক্রি না হলে নবায়নের খরচ মেটাতে কাজে আসবে।

জরুরি সংরক্ষণ: কোনো ভালো সুযোগ এলে বা অপ্রত্যাশিত খরচ হলে ব্যবহার করা যাবে।

এই পদ্ধতিতে পুরো বাজেট একবারে শেষ হয়ে যায় না। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি Domain Flipping করতে চাইলে হাতে কিছু অর্থ রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

কম বাজেটে কোন ভুলটি এড়ানো সবচেয়ে জরুরি?

কম বাজেটের একজন নতুন ফ্লিপারের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো একসঙ্গে অনেকগুলো কমদামি ডোমেইন কিনে ফেলা। প্রতিটি নাম সস্তা মনে হলেও সবগুলোর নবায়ন করতে গেলে মোট খরচ বেড়ে যেতে পারে।

ধরুন আপনি ১০টি ডোমেইন কিনলেন। প্রতিটির প্রাথমিক খরচ কম হওয়ায় শুরুতে সমস্যা মনে হলো না। কিন্তু কোনোটি বিক্রি না হলে পরবর্তী মেয়াদে ১০টি ডোমেইনের নবায়ন খরচ দিতে হবে। তখন বোঝা যাবে আসল বিনিয়োগ শুধু প্রথম দিনের খরচ ছিল না।

তাই “সস্তা” এবং “ভালো বিনিয়োগ”—এই দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।

Domain Flipping-এর জন্য মাসিক বাজেট দরকার কি?

নিয়মিতভাবে ডোমেইন কেনাবেচা করতে চাইলে মাসিক বাজেট রাখা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে সেটি নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। আপনার আয়, অন্যান্য খরচ এবং ঝুঁকি নেওয়ার সামর্থ্য অনুযায়ী সীমা ঠিক করা উচিত।

একটি নির্দিষ্ট মাসে নতুন ডোমেইন কেনার জন্য ১,০০০ বা ২,০০০ টাকা বরাদ্দ করলে সেই সীমার মধ্যে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কোনো মাসে ভালো নাম না পেলে টাকা খরচ না করেও রাখা সম্ভব। প্রতিমাসে শুধু বাজেট শেষ করার জন্য ডোমেইন কেনার প্রয়োজন নেই।

কখন বেশি টাকা বিনিয়োগ করা উচিত নয়?

কোনো ডোমেইনের সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে নতুন অবস্থায় একটি নাম দেখে সেটিকে “নিশ্চিত লাভের” সুযোগ মনে করা ঝুঁকিপূর্ণ।

আপনার আগের কেনাকাটাগুলো যদি এখনও বিক্রি না হয়ে থাকে, তাহলে নতুন ডোমেইন কেনার আগে সেগুলোর অবস্থাও পর্যালোচনা করুন। কোন ধরনের নামের প্রতি আগ্রহ এসেছে, কোথায় ক্রেতা পাওয়া যায়নি এবং কোন খরচগুলো প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে—এই তথ্য পরবর্তী বাজেট নির্ধারণে কাজে লাগবে।

একজন নতুন ফ্লিপারের জন্য বাজেটের নমুনা

শুরু করার আগে একটি সাধারণ হিসাব তৈরি করলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। উদাহরণ হিসেবে ৫,০০০ টাকার একটি পরীক্ষামূলক বাজেট এভাবে ভাগ করা যেতে পারে:

খাত নমুনা বরাদ্দ
ডোমেইন কেনা ২,৫০০ টাকা
সম্ভাব্য নবায়ন ১,০০০ টাকা
বিক্রয়/লেনদেন সংক্রান্ত খরচ ৫০০ টাকা
জরুরি সংরক্ষণ ১,০০০ টাকা
মোট ৫,০০০ টাকা

এটি কোনো নির্দিষ্ট বিনিয়োগ পরিকল্পনা নয়। আপনার ব্যবহৃত রেজিস্ট্রার, ডোমেইন এক্সটেনশন, কেনার ধরন এবং বিক্রির পদ্ধতি অনুযায়ী প্রতিটি খাতের প্রকৃত খরচ পরিবর্তিত হবে।

Domain Flipping-এ বাজেট ট্র্যাক করার সহজ উপায়

শুরু থেকেই প্রতিটি ডোমেইনের জন্য আলাদা হিসাব রাখুন। একটি সাধারণ নোট অ্যাপ, Google Sheets বা স্প্রেডশিট ব্যবহার করলেই যথেষ্ট।

প্রতিটি ডোমেইনের জন্য অন্তত এই তথ্যগুলো লিখে রাখতে পারেন:

  • ডোমেইনের নাম
  • কেনার তারিখ
  • কেনার সময়ের খরচ
  • নবায়নের তারিখ
  • নবায়নের সম্ভাব্য খরচ
  • বিক্রির জন্য নির্ধারিত মূল্য
  • বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম
  • বিক্রি হলে হাতে পাওয়া অর্থ
  • মোট লাভ বা ক্ষতি

কয়েক মাস পর এই তথ্যগুলো দেখলে আপনার নিজের একটি ছোট ডেটাবেস তৈরি হবে। তখন কোন ধরনের ডোমেইনে আপনার টাকা বেশি সময় আটকে থাকে এবং কোন ধরনের নামের প্রতি ক্রেতার আগ্রহ দেখা যায়—সেটি আগের তুলনায় পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে।

Domain Flipping শুরু করার আগে শেষবারের মতো যে হিসাবটি করবেন

কোনো ডোমেইন কেনার আগে শুধু বর্তমান মূল্যটি দেখবেন না। ধরে নিন সেটি এখন কিনলেন, কিন্তু আগামী ১২ মাসে বিক্রি হলো না। এরপরও যদি নবায়ন করতে হয়, সেই টাকা কি আপনার বাজেটের মধ্যে আছে?

এরপর ভাবুন, ডোমেইনটি বিক্রি হলে মার্কেটপ্লেস কমিশন বা লেনদেনের খরচ বাদ দেওয়ার পর হাতে কত টাকা থাকবে। সবশেষে সম্ভাব্য বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে মোট বিনিয়োগের তুলনা করুন। এই তিনটি হিসাব পরিষ্কার না হলে শুধু নামটি আকর্ষণীয় মনে হওয়ার কারণে ডোমেইন কেনা থেকে বিরত থাকা ভালো।

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি যখন প্রথম ডোমেইন ফ্লিপিং শুরু করেছিলাম, তখন আমার বাজেট ছিল মাত্র ৩,০০০ টাকা। উত্তেজনায় আমি ৫টি সাধারণ নাম কিনে ফেলেছিলাম, ভেবেছিলাম সব দ্রুত বিক্রি হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। একটি নামও প্রথম মাসে বিক্রি হয়নি এবং পরের বছর ৫টি ডোমেইনের নবায়ন খরচ দিয়ে আমার প্রাথমিক লাভের পুরোটা চলে গিয়েছিল। সেই ভুল থেকেই আমি শিখেছি যে, সংখ্যার চেয়ে মানের ওপর ফোকাস করা এবং নবায়নের খরচ আগে থেকেই বাজেটে রাখা কতটা জরুরি।

Domain Flipping-এ বড় বাজেটের চেয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণ, নবায়নের হিসাব এবং প্রতিটি ডোমেইনের জন্য নির্দিষ্ট বাজেট সীমা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অল্প অর্থ দিয়ে শুরু করেও বাজার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি করা যায়, আর সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো সম্ভব।

সতর্কীকরণ (Disclaimer): এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। ডোমেইন ফ্লিপিং একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ এবং এতে মূলধন হারানোর সম্ভাবনা থাকে। লেখায় উল্লেখিত বাজেট বা লাভের হিসাবগুলো শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো বিনিয়োগ করার আগে নিজস্ব গবেষণা (DYOR) করুন বা একজন আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নিন।

 

Telegram Group Join our Telegram channel
Join
SA Samim

আমি শামীম ইসলাম, Forumbd24.com এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন চাকরীজীবী। চাকুরীর পাশাপাশি forumbd24 এ লেখালিখি করি। আমি জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি (বিজ্ঞান) নিয়ে পড়াশুনা করেছি।

Leave a Comment

HTML Snippets Powered By : XYZScripts.com