ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৫ | Keyword Research করার সহজ উপায়
In this article কীওয়ার্ড গবেষণা কী? কীওয়ার্ড গবেষণা ছাড়া লেখা শুরু করা ঠিক নয় কেন? সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান হওয়া শব্দই কি বেছে নিতে হবে? কীওয়ার্ডের ধরন বুঝবেন কীভাবে? তথ্য জানার…
দুইজন ব্লগার প্রায় একই সময়ে একই বিষয়ের ওপর দুটি আলাদা লেখা প্রকাশ করলেন। দুজনের কাছেই তথ্য ছিল, দুজনই যথেষ্ট সময় দিয়ে লেখাটি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু কয়েক মাস পর দেখা গেল, একজনের লেখা থেকে নিয়মিত সার্চ ভিজিটর আসছে, আর অন্যজনের লেখাটি সার্চ ফলাফলে তেমন কোনো জায়গাই তৈরি করতে পারেনি।
এখানে পার্থক্যটা শুধু লেখার মানে নয়। একজন লেখার আগে ভেবে দেখেছিলেন মানুষ আসলে কী লিখে সেই তথ্য খুঁজছে, কোন ধরনের উত্তর তারা আশা করছে এবং কোন বিষয় নিয়ে কাজ করলে নতুন ওয়েবসাইটের জন্য বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি হতে পারে। এই প্রস্তুতিটিই হলো কীওয়ার্ড গবেষণা।
আমাদের ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা ধারাবাহিকের প্রথম চারটি পর্বে আমরা ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ভিত্তি এবং এসইও কীভাবে কাজ করে সে সম্পর্কে জেনেছি। আগের পর্বগুলো না পড়লে ধারাবাহিকভাবে পড়ে নিতে পারেন।
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ১ | ডিজিটাল মার্কেটিং কী? সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ পরিচিতি
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ২ | ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ধরন ও কোনটি আগে শিখবেন
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৩ | ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার আগে যা জানা জরুরি
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৪ | এসইও কী এবং ওয়েবসাইটে এসইও করার বেসিক নিয়ম
আগের পর্বগুলোতে আমরা এসইওর ভিত্তি জেনেছি। এবার তার পরের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে যাওয়া যাক। এই পর্বে দেখব কীভাবে একটি বিষয় থেকে সম্ভাবনাময় কীওয়ার্ড বের করতে হয়, মানুষের অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য বুঝতে হয়, প্রতিযোগী লেখা পর্যবেক্ষণ করতে হয় এবং সবশেষে কোন শব্দকে লক্ষ্য করে লেখা তৈরি করা যুক্তিযুক্ত হবে তা নির্ধারণ করতে হয়।

কীওয়ার্ড গবেষণা কী?
মানুষ কোনো প্রশ্নের উত্তর, পণ্য, সেবা বা প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজতে সার্চ ইঞ্জিনে যে শব্দ বা বাক্য লিখে অনুসন্ধান করে, সেগুলোই মূলত কীওয়ার্ড। আর একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত মানুষের ব্যবহৃত অনুসন্ধান শব্দগুলো খুঁজে বের করা, তাদের উদ্দেশ্য বোঝা, সম্ভাব্য চাহিদা যাচাই করা এবং কোন শব্দকে কেন্দ্র করে লেখা তৈরি করা হবে তা নির্ধারণ করার প্রক্রিয়াই হলো কীওয়ার্ড গবেষণা।
ধরুন আপনি ল্যাপটপ নিয়ে একটি লেখা তৈরি করতে চান। শুধু ল্যাপটপ শব্দটি নিয়ে লেখা শুরু করলে বিষয়টি অনেক বড় হয়ে যায়। কিন্তু কেউ যদি পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে ভালো ল্যাপটপ লিখে খোঁজেন, তাহলে তার প্রয়োজন অনেক বেশি নির্দিষ্ট। এই পার্থক্যটি বুঝতে পারাই কীওয়ার্ড গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অর্থাৎ গবেষণার উদ্দেশ্য শুধু বেশি সংখ্যক অনুসন্ধান পাওয়া শব্দ খোঁজা নয়। বরং আপনার লেখার বিষয়, পাঠকের প্রয়োজন এবং সেই শব্দে বিদ্যমান প্রতিযোগিতার মধ্যে একটি বাস্তবসম্মত মিল খুঁজে বের করা।
কীওয়ার্ড গবেষণা ছাড়া লেখা শুরু করা ঠিক নয় কেন?
ভালো তথ্য দিয়ে লেখা তৈরি করলেই পাঠক সেটি খুঁজে পাবেন—এমন নিশ্চয়তা নেই। লেখার আগে মানুষ কীভাবে বিষয়টি খুঁজছে তা না জানলে আপনি এমন একটি শব্দকে কেন্দ্র করে লেখা তৈরি করতে পারেন, যেটি আপনার ধারণার মতো গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- পাঠকের প্রয়োজন বোঝা যায়: মানুষ কোন প্রশ্ন বা সমস্যার উত্তর খুঁজছে তা পরিষ্কার হয়।
- বিষয়ের সীমা নির্ধারণ করা যায়: একটি বড় বিষয়কে ছোট ও নির্দিষ্ট অংশে ভাগ করা সহজ হয়।
- অপ্রয়োজনীয় লেখা কমে: মানুষের প্রয়োজনের বাইরে দীর্ঘ আলোচনা করার ঝুঁকি কমে।
- প্রতিযোগিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়: একই বিষয়ে আগে থেকে কী ধরনের লেখা রয়েছে তা বোঝা যায়।
- লেখার লক্ষ্য পরিষ্কার হয়: প্রকাশের আগে ঠিক করা যায় কোন অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে লেখাটি তৈরি হবে।
সবচেয়ে বেশি অনুসন্ধান হওয়া শব্দই কি বেছে নিতে হবে?
না। কীওয়ার্ড গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—শুধু অনুসন্ধানের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। একটি শব্দে অনেক মানুষ অনুসন্ধান করলেও সেখানে যদি শক্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত ওয়েবসাইটের আধিপত্য থাকে, নতুন ওয়েবসাইটের জন্য সেই শব্দে জায়গা তৈরি করা কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে তুলনামূলক কম অনুসন্ধানের একটি নির্দিষ্ট শব্দ থেকেও ভালো মানের পাঠক পাওয়া যেতে পারে। কারণ সেই পাঠকের প্রয়োজন স্পষ্ট থাকে।
তাই একটি শব্দ বাছাই করার সময় অন্তত চারটি বিষয় একসঙ্গে দেখুন:
- মানুষ সত্যিই বিষয়টি খুঁজছে কি না
- অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য আপনার লেখার সঙ্গে মেলে কি না
- সেই শব্দে কী ধরনের লেখা ইতিমধ্যে রয়েছে
- আপনার ওয়েবসাইট সেই বিষয়ে যথেষ্ট ভালো উত্তর দিতে পারবে কি না
কীওয়ার্ডের ধরন বুঝবেন কীভাবে?
সব অনুসন্ধান শব্দের উদ্দেশ্য এক নয়। একটি শব্দের পেছনে মানুষ কী করতে চাইছে, সেটি বুঝলে গবেষণার ফল অনেক বেশি কার্যকর হয়। সাধারণভাবে অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য কয়েকটি ভাগে দেখা যায়।
তথ্য জানার উদ্দেশ্য
কেউ কোনো বিষয় বুঝতে, শিখতে বা প্রশ্নের উত্তর পেতে অনুসন্ধান করলে সেটি তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান। যেমন—কোনো প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে, কোনো নিয়ম কী, কোনো সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায় ইত্যাদি।
নির্দিষ্ট জায়গায় যাওয়ার উদ্দেশ্য
কেউ যদি কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট, প্রতিষ্ঠান বা সেবার পাতায় যেতে চেয়ে অনুসন্ধান করেন, তখন তার উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট জায়গাটি খুঁজে পাওয়া।
কেনার আগে যাচাই করার উদ্দেশ্য
কোনো পণ্য বা সেবা নেওয়ার আগে মানুষ যখন দাম, বৈশিষ্ট্য, তুলনা বা পর্যালোচনা খোঁজেন, তখন অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য সাধারণত কেনার আগের যাচাই পর্যায়ে থাকে।
কেনাকাটার উদ্দেশ্য
কেউ যখন ইতিমধ্যে কোনো পণ্য বা সেবা নেওয়ার সিদ্ধান্তের কাছাকাছি এবং কোথা থেকে বা কীভাবে সেটি সংগ্রহ করবেন তা খুঁজছেন, তখন অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য আরও সরাসরি কেনাকাটার দিকে যায়।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—একটি শব্দকে শুধু নাম দেখে শ্রেণিবদ্ধ না করে সেই শব্দ লিখে সার্চ করলে কী ধরনের ফলাফল সামনে আসে সেটিও দেখুন। সার্চ ফলাফল অনেক সময় ব্যবহারকারীর আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালো ধারণা দেয়।
একটি বিষয় থেকে কীওয়ার্ড বের করার বাস্তব পদ্ধতি
এবার আসা যাক সবচেয়ে ব্যবহারিক অংশে। ধরুন আপনি ওয়েবসাইট তৈরি বিষয়টি নিয়ে লিখতে চান। সরাসরি লেখা শুরু না করে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।
ধাপ ১: মূল বিষয় নির্ধারণ করুন
প্রথমে এক বাক্যে লিখুন আপনার লেখাটি আসলে কোন সমস্যার সমাধান করবে। যেমন, আপনার মূল বিষয় হতে পারে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি। এটিই হবে আপনার গবেষণার শুরু।
ধাপ ২: সার্চ সাজেশন দেখুন
সার্চ ইঞ্জিনের অনুসন্ধান বাক্সে মূল বিষয়টি লিখতে শুরু করুন। পুরো বাক্য শেষ করার আগেই যে পরামর্শগুলো দেখা যায় সেগুলো লক্ষ্য করুন। এগুলো থেকে মানুষ কী ধরনের বাক্য ব্যবহার করে বিষয়টি খুঁজছে তার ধারণা পাওয়া যায়।
ধাপ ৩: মানুষের প্রশ্ন সংগ্রহ করুন
একটি বিষয় নিয়ে মানুষ কী জানতে চাইছে তা বোঝার জন্য প্রশ্নগুলো আলাদা করে লিখে রাখুন। যেমন—কীভাবে, কত খরচ, কত সময়, কোনটি ভালো, কীভাবে ঠিক করতে হয়, কী কী প্রয়োজন ইত্যাদি ধরনের প্রশ্ন।
এই প্রশ্নগুলো পরবর্তী সময়ে আলাদা লেখা, উপশিরোনাম বা বিস্তারিত নির্দেশিকার বিষয় হতে পারে।
ধাপ ৪: একই অর্থের শব্দগুলো একসঙ্গে রাখুন
মানুষ একই বিষয়কে ভিন্নভাবে খুঁজতে পারে। কেউ একটি শব্দ ব্যবহার করতে পারেন, অন্য কেউ একই অর্থের আরেকটি বাক্য লিখতে পারেন। তাই আলাদা আলাদা শব্দকে অকারণে আলাদা বিষয় ধরে না নিয়ে কোনগুলো একই প্রয়োজন প্রকাশ করছে তা চিহ্নিত করুন।
ধাপ ৫: প্রতিযোগী লেখাগুলো দেখুন
আপনার নির্বাচিত অনুসন্ধান শব্দটি দিয়ে সার্চ করুন। প্রথম কয়েকটি ফলাফলে কী ধরনের লেখা রয়েছে তা পড়ুন। তারা কোন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে, কোন বিষয় বাদ দিয়েছে, লেখার পরিধি কতটুকু এবং পাঠকের জন্য কোথায় আরও ভালো তথ্য দেওয়া সম্ভব—এসব লক্ষ্য করুন।
এখানে উদ্দেশ্য অন্যের লেখা অনুসরণ করে নতুন করে লেখা নয়। বরং পাঠকের প্রয়োজন কোথায় অপূর্ণ আছে তা খুঁজে বের করা।
ধাপ ৬: চূড়ান্ত শব্দ নির্বাচন করুন
সব তথ্য দেখার পর এমন একটি প্রধান কীওয়ার্ড নির্বাচন করুন, যেটি আপনার লেখার মূল বিষয়কে সবচেয়ে ভালোভাবে প্রকাশ করে। এরপর একই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি সহায়ক শব্দ বা প্রশ্ন তালিকায় রাখতে পারেন।
এগুলো লেখায় জোর করে ঢোকানোর জন্য নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করার জন্য।

সার্চ ফলাফল দেখে প্রতিযোগিতা বোঝার উপায়
অনেক নতুন লেখক শুধু কোনো গবেষণা সরঞ্জামের সংখ্যার ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু বাস্তবে সার্চ ফলাফল নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের উৎস।
আপনার নির্বাচিত শব্দ দিয়ে অনুসন্ধান করে দেখুন:
- প্রথম পাতায় কী ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে
- তথ্যগুলো কতটা বিস্তারিত
- শুধু সাধারণ তথ্য দেওয়া হয়েছে নাকি বাস্তব উদাহরণও রয়েছে
- পুরোনো তথ্যের আধিক্য আছে কি না
- কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর বাদ পড়েছে কি না
- আপনি একই বিষয়ে আরও পরিষ্কার বা কার্যকর তথ্য দিতে পারবেন কি না
এভাবে দেখলে প্রতিযোগিতা শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে নয়, বাস্তব লেখার মান ও পরিধির দিক থেকেও বোঝা যায়।
কীওয়ার্ড গবেষণায় কোন কোন বিনামূল্যের সরঞ্জাম কাজে লাগে?
শুরুতেই দামী সরঞ্জাম কেনার প্রয়োজন নেই। গবেষণার প্রাথমিক কাজের জন্য কয়েকটি বিনামূল্যের উৎস যথেষ্ট সহায়ক হতে পারে।
- গুগল কীওয়ার্ড পরিকল্পনাকারী: বিভিন্ন অনুসন্ধান শব্দের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা পেতে ব্যবহার করা যায়।
- গুগল ট্রেন্ডস: কোনো বিষয় বা শব্দের আগ্রহ সময়ের সঙ্গে কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে তা বোঝা যায়।
- গুগল সার্চ সাজেশন: মানুষ কীভাবে বাক্য লিখে অনুসন্ধান করছে তার প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।
- গুগল সার্চ কনসোল: আপনার ওয়েবসাইটে ইতিমধ্যে কোন কোন অনুসন্ধান থেকে মানুষ আসছে তা প্রকাশের পর পর্যবেক্ষণ করা যায়।
- মানুষের প্রশ্নভিত্তিক অনুসন্ধান: সরাসরি সার্চ ফলাফলে থাকা প্রশ্ন ও সম্পর্কিত অনুসন্ধান থেকেও নতুন বিষয় পাওয়া যায়।
কোনো সরঞ্জামে একটি শব্দের অনুসন্ধান সংখ্যা কম দেখালেই সেটি অকার্যকর—এমন সিদ্ধান্ত নেবেন না। আবার সংখ্যা বেশি দেখালেই সেটি আপনার জন্য উপযুক্ত হবে—এটিও ঠিক নয়। আপনার লেখার বিষয়, পাঠকের উদ্দেশ্য এবং সার্চ ফলাফলের প্রকৃতি—তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিচার করুন।
লং-টেইল কীওয়ার্ড কেন নতুনদের কাজে লাগে?
তিন বা তার বেশি শব্দের নির্দিষ্ট অনুসন্ধান বাক্যকে সাধারণভাবে লং-টেইল কীওয়ার্ড বলা হয়। তবে শুধু শব্দের সংখ্যা বেশি হলেই কোনো শব্দ ভালো হবে এমন নয়। এর আসল সুবিধা হলো অনেক সময় এতে অনুসন্ধানকারীর প্রয়োজন তুলনামূলক স্পষ্ট থাকে।
ধরুন কেউ শুধু ল্যাপটপ লিখে অনুসন্ধান করলেন। তিনি হয়তো দাম, বৈশিষ্ট্য, মেরামত, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য খুঁজছেন। কিন্তু কেউ যদি পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে অফিসের জন্য ভালো ল্যাপটপ খোঁজেন, তাহলে তার প্রয়োজন অনেক বেশি পরিষ্কার।
তাই লং-টেইল কীওয়ার্ড বেছে নেওয়ার মূল কারণ শুধু কম প্রতিযোগিতা নয়; অনুসন্ধানকারীর প্রয়োজন স্পষ্ট হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।
কীওয়ার্ড গবেষণার সময় নতুনরা যে ভুলগুলো করেন
- শুধু বেশি অনুসন্ধান সংখ্যার পেছনে ছোটা
- সার্চ ফলাফল না দেখে শব্দ নির্বাচন করা
- পাঠকের উদ্দেশ্য না বুঝে লেখা শুরু করা
- একই অর্থের অনেক শব্দকে আলাদা আলাদা বিষয় ধরে নেওয়া
- প্রতিযোগী লেখার মান ও পরিধি না দেখা
- শুধু একটি সরঞ্জামের তথ্যের ওপর পুরো সিদ্ধান্ত নির্ভর করা
- লেখার মধ্যে নির্বাচিত শব্দ জোর করে বারবার বসানো
- কীওয়ার্ড গবেষণাকে শুধু শব্দের তালিকা তৈরির কাজ মনে করা
কীওয়ার্ড গবেষণার উদ্দেশ্য সার্চ ইঞ্জিনকে খুশি করার জন্য একটি শব্দ বারবার লেখা নয়। উদ্দেশ্য হলো পাঠক কী খুঁজছেন তা আগে বোঝা এবং সেই প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে একটি যথাযথ বিষয় নির্বাচন করা।
একটি কীওয়ার্ড চূড়ান্ত করার আগে নিজেকে যে প্রশ্নগুলো করবেন
- মানুষ কি সত্যিই এই বিষয়টি খুঁজছে?
- আমি যে তথ্য দিতে চাই, সেটিই কি এই অনুসন্ধানের প্রয়োজন?
- সার্চ ফলাফলে বর্তমানে কী ধরনের লেখা রয়েছে?
- আমি কি বিদ্যমান লেখার চেয়ে আরও কার্যকর তথ্য দিতে পারব?
- এই বিষয়টি কি আমার ওয়েবসাইটের সঙ্গে সম্পর্কিত?
- এই একটি বিষয় নিয়ে কি পাঠকের প্রশ্নের যথেষ্ট উত্তর দেওয়া সম্ভব?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পরিষ্কার হলে লেখা শুরু করার আগে আপনার বিষয়টি অনেক বেশি নির্দিষ্ট হয়ে যাবে।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
১. একটি লেখার জন্য কি শুধু একটি কীওয়ার্ড রাখতে হবে?
একটি প্রধান কীওয়ার্ড ধরে লেখা তৈরি করা সুবিধাজনক। এর পাশাপাশি একই বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য শব্দ ও প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করা যায়।
২. কীওয়ার্ডের নির্দিষ্ট অনুসন্ধান সংখ্যা কত হলে সেটি বেছে নিতে হবে?
সবার জন্য একই সংখ্যা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। ওয়েবসাইটের বিষয়, অবস্থান, পাঠক এবং প্রতিযোগিতার ওপর সুযোগ পরিবর্তিত হয়। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার নিয়ম অনুসরণ না করে পুরো পরিস্থিতি বিবেচনা করা ভালো।
৩. নতুন ওয়েবসাইট কি বড় অনুসন্ধান শব্দ নিয়ে কাজ করতে পারে?
চাইলে পারে। তবে শুরুতেই খুব বিস্তৃত ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ শব্দের ওপর নির্ভর না করে নির্দিষ্ট প্রয়োজনভিত্তিক বিষয় নিয়ে কাজ করলে নিজের জায়গা তৈরি করার সুযোগ সম্পর্কে বাস্তবসম্মত ধারণা পাওয়া যায়।
৪. বাংলা কীওয়ার্ড গবেষণার নিয়ম কি আলাদা?
মূল ধারণা একই। তবে বাংলা ভাষায় মানুষ একই বিষয় বিভিন্নভাবে লিখে অনুসন্ধান করতে পারেন। তাই শব্দের বানান, কথ্য রূপ এবং মানুষের ব্যবহৃত স্বাভাবিক বাক্যগুলোও পর্যবেক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
৫. কীওয়ার্ড গবেষণার পর পরবর্তী কাজ কী?
প্রথমে নির্বাচিত বিষয় ও অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য পরিষ্কার করুন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে লেখার কাঠামো তৈরি করুন। পরবর্তী ধাপে লেখাটির ভেতরের বিভিন্ন অংশ কীভাবে সাজাতে হবে, সেটি অন-পেজ এসইওর অংশ।
৬. কীওয়ার্ড গবেষণা কি একবার করলেই যথেষ্ট?
সব সময় নয়। মানুষের অনুসন্ধানের ধরন ও চাহিদা পরিবর্তিত হতে পারে। প্রকাশের পর আপনার ওয়েবসাইটের অনুসন্ধান তথ্য দেখলে নতুন কিছু শব্দ বা প্রশ্ন পাওয়া যেতে পারে। সেগুলো ভবিষ্যৎ লেখা ও পুরোনো বিষয় উন্নত করতে কাজে লাগানো যায়।
পরবর্তী পর্বে কী শিখবেন?
কীওয়ার্ড গবেষণা শেষ করার পরের স্বাভাবিক ধাপ হলো নির্বাচিত বিষয়কে একটি ভালোভাবে সাজানো ওয়েবপেজে রূপ দেওয়া। সেখানে শিরোনাম, ঠিকানা, উপশিরোনাম, লেখার কাঠামো, ছবি, অভ্যন্তরীণ সংযোগসহ পৃষ্ঠার ভেতরের বিভিন্ন উপাদান কীভাবে সাজাতে হয় তা জানা প্রয়োজন।
এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে জানতে পড়ুন:
ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৬ | অন-পেজ এসইও সম্পূর্ণ গাইড
আর যারা ইউটিউবের জন্য কীওয়ার্ড নির্বাচন নিয়ে আলাদাভাবে জানতে চান, তাদের জন্য আমাদের সংশ্লিষ্ট লেখাটিও দেখতে পারেন:
ইউটিউবের জন্য কম প্রতিযোগিতার কীওয়ার্ড খুঁজে বের করার পদ্ধতি
কীওয়ার্ড গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো—একটি শব্দের পেছনে শুধু সংখ্যা খুঁজবেন না, মানুষের প্রয়োজন খুঁজুন। মানুষ কী জানতে চাইছে, কেন জানতে চাইছে এবং সেই প্রশ্নের কতটা ভালো উত্তর আপনি দিতে পারবেন—এই তিনটি বিষয় বুঝতে পারলে আপনার লেখার বিষয় নির্বাচন অনেক বেশি যুক্তিসংগত হবে।
পোস্ট পড়ে পয়েন্ট পেতে লগইন করুন।
লগইন করুন