জমির খাজনা দিতে এখন আর আগের মতো শুধু ভূমি অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ অনলাইনে করা যায় সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থার মাধ্যমে।
মোবাইল ফোন দিয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য ঠিক থাকলে এই কাজটি করা সম্ভব।
তবে অনলাইনে কর দেওয়ার আগে একটি বিষয় বুঝে নেওয়া জরুরি। শুধু জমির মালিকের নাম জানলেই সব সময় সরাসরি কর দেওয়া যায় না।
সংশ্লিষ্ট খতিয়ান ও হোল্ডিংয়ের তথ্য সঠিকভাবে যুক্ত থাকা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধিত প্রোফাইল থেকে খতিয়ান সংযুক্ত করে অনুমোদনের পর অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া যায়।
ভূমি উন্নয়ন কর কী?
জমির মালিকানার সঙ্গে সম্পর্কিত যে সরকারি কর নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করতে হয়, সেটিই ভূমি উন্নয়ন কর হিসেবে পরিচিত।
সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখনো অনেক সময় জমির খাজনা নামে পরিচিত।
আগে এই কর পরিশোধের জন্য স্থানীয় ভূমি অফিস বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হতো। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে
অনেক ক্ষেত্রেই ঘরে বসে করের তথ্য দেখা এবং পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ অনলাইনে করতে কী কী লাগবে?
কাজটি শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য হাতের কাছে রাখলে পুরো প্রক্রিয়াটি অনেক সহজ হয়। সাধারণভাবে নিচের তথ্যগুলো প্রয়োজন হতে পারে:
- জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য
- জন্মতারিখ
- জমির খতিয়ান সম্পর্কিত তথ্য
- মোবাইল নম্বর
- সংশ্লিষ্ট জমির হোল্ডিং তথ্য
- অনলাইন পেমেন্টের উপযোগী মাধ্যম
কোন জমির তথ্য সিস্টেমে কীভাবে পাওয়া যাবে, তা জমির রেকর্ড ও সংশ্লিষ্ট এলাকার তথ্যের ওপর নির্ভর করতে পারে।
তাই শুধু পুরোনো খাজনার রসিদ দেখে তথ্য বসিয়ে না দিয়ে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত তথ্য মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
আরো পড়ুনঃ
নতুন আইনে নামজারি: কী নিয়ম, কেন জরুরি ও কী কী লাগবে বিস্তারিত নির্দেশিকা
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ অনলাইনে করার নিয়ম
নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ভাষায় দেওয়া হলো। সরকারি ওয়েবসাইটের কোনো মেনুর নাম বা অবস্থান ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হলে
মূল সরকারি পোর্টালের নির্দেশনাই অনুসরণ করবেন।
১. সরকারি ভূমি উন্নয়ন করের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন
প্রথমে ভূমি উন্নয়ন করের সরকারি পোর্টালে প্রবেশ করুন। নিচের দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন : অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভুমি উন্নয়ন।
অনলাইনে জমির কর দেওয়ার নামে অনেক অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ পাওয়া যেতে পারে।
তাই সম্ভব হলে সরাসরি সরকারি পোর্টাল ব্যবহার করাই নিরাপদ।
সরকারি পোর্টালে নাগরিকদের জন্য নিবন্ধন এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুবিধা রয়েছে।
২. নাগরিক হিসেবে নিবন্ধন করুন
আগে থেকে অ্যাকাউন্ট না থাকলে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নাগরিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
নিবন্ধনের সময় যে তথ্য দেওয়া হবে, সেগুলো জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
ভুল তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করলে পরে জমির খতিয়ান যুক্ত করা বা মালিকানা সম্পর্কিত তথ্য যাচাইয়ের সময় সমস্যা হতে পারে।

৩. নিজের জমির খতিয়ান যুক্ত করুন
নিবন্ধনের পর প্রোফাইলে সংশ্লিষ্ট জমির খতিয়ান সংযুক্ত করার সুযোগ পাওয়া যায়।
এখানে জমির জেলা, উপজেলা, মৌজা, খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
একটি সংখ্যা ভুল হলেই অন্য রেকর্ড চলে আসতে পারে। তাই সাবমিট করার আগে প্রতিটি তথ্য আবার দেখে নেওয়া ভালো।
৪. খতিয়ান অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করুন
খতিয়ান যুক্ত করার পর সেটি অনুমোদনের প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি FAQ-তেও অনলাইন কর পরিশোধের ক্ষেত্রে
নিবন্ধিত প্রোফাইল থেকে খতিয়ান সংযুক্ত করে অনুমোদনের পর অনলাইন পেমেন্ট করার কথা বলা হয়েছে।
অর্থাৎ খতিয়ান যুক্ত করেই সঙ্গে সঙ্গে টাকা দেওয়ার সুযোগ সব ক্ষেত্রে নাও আসতে পারে।
আগে সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুমোদিত হয়েছে কি না দেখে নিন।
৫. করের দাবি বা বকেয়া তথ্য দেখুন
খতিয়ান অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের ভূমি উন্নয়ন করের তথ্য দেখা যাবে।
সেখানে কোন সময়ের কর পরিশোধ করা হয়নি, কত টাকা দাবি করা হয়েছে এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য দেখুন।
টাকা দেওয়ার আগে জমির তথ্য এবং করের পরিমাণ নিজের কাছে থাকা পুরোনো দাখিলা বা অন্যান্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো।
আরো পড়ুনঃ
৬. অনলাইন পেমেন্ট করুন
করের দাবি সঠিক থাকলে পোর্টালে থাকা অনলাইন পেমেন্টের ব্যবস্থা ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করা যাবে।
পেমেন্টের সময় ব্যবহৃত মাধ্যম অনুযায়ী আলাদা ধাপ দেখা যেতে পারে।
টাকা কেটে নেওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে পেজ বন্ধ করে দেবেন না। পেমেন্টের অবস্থা সফল হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন।
৭. দাখিলা বা রসিদ সংগ্রহ করুন
পেমেন্ট সফল হওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো দাখিলা বা ভূমি উন্নয়ন করের রসিদ সংরক্ষণ করা।
পোর্টালে যদি রসিদ দেখার বা ডাউনলোড করার অপশন থাকে, সেটি ব্যবহার করে কপি সংরক্ষণ করুন।
মোবাইল ফোনে পিডিএফ কপি রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে Google Drive বা অন্য নিরাপদ জায়গায় একটি ব্যাকআপ রাখা যেতে পারে।
শুধু পেমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে এমন বার্তা দেখে বের হয়ে না গিয়ে রসিদটি সংরক্ষণ করাই ভালো।
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে কত টাকা লাগে?
ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। জমির ধরন, ব্যবহার, অবস্থান, শ্রেণি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি হিসাবের ওপর
করের পরিমাণ নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু অন্য কারও জমির খাজনা দেখে নিজের জমির কর কত হবে তা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি হলো নিজের হোল্ডিংয়ের জন্য সরকারি পোর্টালে যে দাবি দেখানো হচ্ছে সেটি দেখা।
কোনো অস্বাভাবিক হিসাব মনে হলে টাকা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে বিষয়টি যাচাই করুন।
ভূমি উন্নয়ন করের টাকা কখন পরিশোধ করতে হয়?
ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কোনো বছরের ভূমি উন্নয়ন কর ওই বছরের ৩০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করা না হলে
সেটি বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর হিসেবে বিবেচিত হয়।
তাই বছরের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে সময়মতো কর পরিশোধ করে দাখিলা সংরক্ষণ করা ভালো।
বিশেষ করে জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজন থাকলে পুরোনো করের হিসাব আগে দেখে নেওয়া সুবিধাজনক।
বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর থাকলে কী করবেন?
কয়েক বছর কর পরিশোধ না করলে আগের বছরের বকেয়া হিসাব থাকতে পারে। নতুন করে টাকা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টালে
সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের দাবি ও বকেয়ার তথ্য দেখে নিন।
আইন অনুযায়ী বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। তাই বকেয়া থাকলে বিষয়টি ফেলে না রেখে
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী পরিশোধ করা ভালো।
মোবাইল দিয়ে ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ, সরকারি অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা যায়।
তবে মোবাইলের ব্রাউজারে ওয়েবসাইট ঠিকভাবে না খুললে বা কোনো ধাপ আটকে গেলে অন্য ব্রাউজার দিয়ে চেষ্টা করতে পারেন।
ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে পেমেন্টের সময় একই বোতামে বারবার চাপ দেওয়া উচিত নয়।
আগে লেনদেনের অবস্থা যাচাই করুন, তারপর প্রয়োজন হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নিন।
অনলাইনে কর দেওয়ার পর রসিদ না পেলে কী করবেন?
কখনো পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পরও ইন্টারনেট বা সার্ভারের সমস্যার কারণে রসিদ সঙ্গে সঙ্গে দেখা নাও যেতে পারে।
এমন অবস্থায় আবার টাকা দেওয়ার আগে প্রথমে নিজের ব্যাংক বা পেমেন্ট মাধ্যম থেকে টাকা কাটা হয়েছে কি না এবং
সরকারি পোর্টালে পেমেন্টের অবস্থা কী দেখাচ্ছে তা যাচাই করুন।
একই করের জন্য অযথা দ্বিতীয়বার টাকা পরিশোধ করা ঠিক নয়। প্রয়োজনে সরকারি সহায়তা ব্যবস্থা বা সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।
খতিয়ান পাওয়া যাচ্ছে না—কী করবেন?
খতিয়ান সংযুক্ত করার সময় তথ্য না পাওয়া গেলে প্রথমে জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং খতিয়ানের ধরনসহ দেওয়া তথ্যগুলো আবার পরীক্ষা করুন।
পুরোনো কাগজে থাকা তথ্যের সঙ্গে অনলাইন রেকর্ডের পার্থক্য থাকলে বিষয়টি নিজে অনুমান করে পরিবর্তন না করে
সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করা ভালো।
মনে রাখবেন, অনলাইনে কোনো তথ্য দেখা যাচ্ছে না মানেই জমির মালিকানা নেই—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
ভূমি রেকর্ডের বিষয়টি নথি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ডের ভিত্তিতে যাচাই করতে হয়।
ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকেও কি ভূমি উন্নয়ন কর দেওয়া যায়?
যারা নিজেরা অনলাইনে কাজটি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ ও খতিয়ানের তথ্য দিয়ে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে
নিবন্ধন ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সুবিধা চালু রয়েছে।
তবে অন্য কাউকে দিয়ে কাজ করালে পেমেন্টের প্রমাণ ও দাখিলা নিজের কাছে অবশ্যই রেখে দিন।
শুধু টাকা দেওয়া হয়েছে—এমন কথার ওপর নির্ভর না করে সরকারি রসিদ সংগ্রহ করুন।
ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা কেন সংরক্ষণ করবেন?
দাখিলা শুধু টাকা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে নয়, ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে প্রয়োজনীয় নথি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
তাই প্রতি বছর কর পরিশোধের পর দাখিলার একটি ডিজিটাল কপি রাখা ভালো।
কাগজের কপি থাকলে সেটিও নষ্ট হওয়ার হাত থেকে নিরাপদ জায়গায় রাখুন। আর মোবাইলে পিডিএফ থাকলে
অন্তত একটি অতিরিক্ত ব্যাকআপ রাখলে ফোন নষ্ট বা হারিয়ে গেলেও নথিটি পাওয়া সহজ হবে।
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের সময় যে ভুলগুলো করবেন না
- অচেনা ওয়েবসাইটে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া
- জমির তথ্য না মিলিয়ে পেমেন্ট করা
- একই পেমেন্ট বারবার করার চেষ্টা করা
- পেমেন্ট সফল হওয়ার পর দাখিলা সংরক্ষণ না করা
- পুরোনো রসিদ না দেখে বকেয়া সম্পর্কে অনুমান করা
- অনলাইনে রেকর্ড না পেয়ে নিজের মতো করে জমির তথ্য পরিবর্তন করা
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ অনলাইনে করার সুবিধা
অনলাইন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় বাঁচানো। নিজের মোবাইল থেকেই জমির করের তথ্য দেখা এবং
নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় পেমেন্ট করার সুযোগ পাওয়া যায়। একই সঙ্গে দাখিলার ডিজিটাল কপি সংরক্ষণ করাও সহজ।
তবে ডিজিটাল সেবা মানেই সব সমস্যার সমাধান এক ক্লিকেই হবে—এমন নয়। জমির পুরোনো রেকর্ড, খতিয়ানের তথ্য বা
মালিকানা সংক্রান্ত কোনো অসঙ্গতি থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
জরুরি সরকারি লিংক
ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল: ldtax.gov.bd
ভূমি উন্নয়ন করের সাধারণ জিজ্ঞাসা: ldtax.gov.bd/faq
সরকারি নির্দেশিকা: ldtax.gov.bd/manual
ভূমি তথ্য বাতায়ন: land.gov.bd
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর দিতে কি ভূমি অফিসে যেতে হবে?
অনলাইন ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় নিবন্ধন, খতিয়ান সংযুক্তি এবং অনুমোদন সম্পন্ন থাকলে অনলাইনেই কর দেওয়া যায়।
তবে রেকর্ড বা তথ্য নিয়ে সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে।
মোবাইল দিয়ে খাজনা দেওয়া যায়?
সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর পোর্টাল ব্যবহার করে মোবাইল ফোন থেকেও প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা সম্ভব।
তবে ব্রাউজার ও ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক থাকা প্রয়োজন।
কর দেওয়ার পর কী পাওয়া যায়?
পেমেন্ট সফল হলে সংশ্লিষ্ট হোল্ডিংয়ের জন্য দাখিলা বা রসিদ পাওয়ার ব্যবস্থা থাকে।
সেটি ডাউনলোড করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করা উচিত।
এক বছরের খাজনা না দিলে কী হয়?
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ না করা হলে সেটি বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর হিসেবে গণ্য হতে পারে।
বকেয়া থাকলে সরকারি ব্যবস্থায় পরবর্তী আদায়ের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
অনলাইনে জমির খতিয়ান না এলে কি কর দেওয়া যাবে?
খতিয়ান বা হোল্ডিংয়ের তথ্য না পাওয়া গেলে আগে তথ্যগুলো ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন।
সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস বা সরকারি সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা উচিত।
শেষ কথা
ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ অনলাইনে এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।
কিন্তু কাজটি সহজ বলে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
সঠিক পরিচয়পত্রের তথ্য, জমির খতিয়ান ও হোল্ডিংয়ের তথ্য মিলিয়ে নিয়ে সরকারি পোর্টাল থেকেই পেমেন্ট করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
আর একটি অভ্যাস সব জমির মালিকের থাকা উচিত—প্রতি বছর কর দেওয়ার পর দাখিলা সংরক্ষণ করা।
এতে ভবিষ্যতে জমি সংক্রান্ত কোনো কাজে পুরোনো করের হিসাব খুঁজে পেতে অযথা ঝামেলা কমে যায়।
সরকারি সেবার নিয়ম বা ওয়েবসাইটের কোনো ধাপ ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হলে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনাকে অগ্রাধিকার দিন।