In this article
Spread the love

একটি ওয়েবসাইটের ভালো লেখা, সুন্দর নকশা এবং দরকারি তথ্য থাকলেই কাজ শেষ হয় না। পাঠক আপনার লেখা দেখতে পারছে কি না, সার্চ ইঞ্জিন আপনার পেজ খুঁজে পাচ্ছে কি না, গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলো সঠিকভাবে সংরক্ষিত হচ্ছে কি না—এসবের পেছনেও কিছু কারিগরি বিষয় কাজ করে।

ধরুন, আপনি একটি ভালো নিবন্ধ প্রকাশ করলেন। কিন্তু পেজটি সার্চ ইঞ্জিনের কাছে ঠিকভাবে পৌঁছাল না, কোনো গুরুত্বপূর্ণ পেজ ভুল নির্দেশনার কারণে বাদ পড়ে গেল, অথবা মোবাইল ফোনে ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করাই কঠিন হয়ে গেল। তখন ভালো লেখাটির উপকার পাঠকের কাছে পৌঁছাতে সমস্যা হতে পারে।

আমাদের ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা ধারাবাহিকের এই পর্বে তাই ওয়েবসাইটের সেই ভেতরের কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হবে। বিশেষভাবে দেখা হবে কারিগরি এসইও, ক্রলিং, ইনডেক্সিং, সাইটম্যাপ, রোবট নির্দেশনা, ক্যানোনিকাল, মোবাইল ব্যবহারযোগ্যতা, ওয়েবসাইটের গতি এবং সাধারণ কারিগরি সমস্যাগুলো।

এটি একটি ধারাবাহিক টিউটোরিয়াল। আগের পর্বগুলো পড়তে পারেন:

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ১ | ডিজিটাল মার্কেটিং কী? সহজ ভাষায় সম্পূর্ণ পরিচিতি

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ২ | ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ধরন ও কোনটি আগে শিখবেন

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৩ | ডিজিটাল মার্কেটিং শুরু করার আগে যা জানা জরুরি

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৪ | এসইও কী এবং ওয়েবসাইটে এসইও করার বেসিক নিয়ম

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৫ | কীওয়ার্ড গবেষণা করার সহজ উপায়

ডিজিটাল মার্কেটিং বাংলা পর্ব ৬ | অন-পেজ এসইও সম্পূর্ণ গাইড

কারিগরি এসইও আসলে কী?

কারিগরি এসইও বলতে ওয়েবসাইটের এমন সব প্রযুক্তিগত বিষয় বোঝায়, যেগুলো সার্চ ইঞ্জিনকে ওয়েবসাইটের পেজ খুঁজে পেতে, বুঝতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণ করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে পাঠকের জন্য ওয়েবসাইটটি দ্রুত, নিরাপদ এবং ব্যবহারযোগ্য রাখাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এখানে মূল বিষয়টি শুধু ওয়েবসাইট কত সুন্দর দেখাচ্ছে তা নয়। বরং একটি সার্চ ইঞ্জিন যখন আপনার ওয়েবসাইটে আসে, তখন সে প্রয়োজনীয় পেজগুলো খুঁজে পাচ্ছে কি না, ভুল জায়গায় আটকে যাচ্ছে কি না এবং কোন পেজটি গুরুত্বপূর্ণ—এসব বিষয়ও বিবেচনায় আসে।

তাই কারিগরি এসইওকে আলাদা কোনো সাজসজ্জার কাজ হিসেবে না দেখে ওয়েবসাইটের ভিত্তি হিসেবে ভাবা বেশি যুক্তিযুক্ত।

ক্রলিং, ইনডেক্সিং ও সার্চে দেখানোর পার্থক্য

নতুনদের কাছে এই তিনটি বিষয় প্রায় একই মনে হলেও এগুলোর কাজ আলাদা।

ক্রলিং

সার্চ ইঞ্জিনের স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম বিভিন্ন ওয়েবপেজ ও লিংক অনুসরণ করে ওয়েবসাইটের তথ্য আবিষ্কার করে। এই প্রক্রিয়াকে ক্রলিং বলা হয়।

ইনডেক্সিং

কোনো পেজ আবিষ্কারের পর সার্চ ইঞ্জিন সেটির বিষয়বস্তু ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে নিজের অনুসন্ধান ব্যবস্থায় সংরক্ষণ করতে পারে। এটিই ইনডেক্সিংয়ের অংশ।

সার্চ ফলাফলে দেখানো

কোনো পেজ ইনডেক্সে থাকলেই যে প্রতিটি অনুসন্ধানে সেটি দেখাবে—এমন নয়। একজন ব্যবহারকারী কী খুঁজছেন এবং সেই অনুসন্ধানের সঙ্গে কোন পেজ কতটা প্রাসঙ্গিক, তার ওপর সার্চ ফলাফল নির্ভর করে।

এই পার্থক্যটি বোঝা খুব জরুরি। কারণ অনেক সময় ওয়েবসাইটের মালিক বলেন, “আমার পেজ তো ইনডেক্স হয়েছে, তাহলে সার্চে দেখাচ্ছে না কেন?” ইনডেক্স হওয়া এবং নির্দিষ্ট অনুসন্ধানে দৃশ্যমান হওয়া একই বিষয় নয়।

ওয়েবসাইটের কাঠামো কেন গুরুত্বপূর্ণ?

একটি বড় ওয়েবসাইটে শত শত বা হাজার হাজার পেজ থাকতে পারে। সব পেজ যদি এলোমেলোভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে পাঠক এবং সার্চ ইঞ্জিন—দুই পক্ষের জন্যই কাঠামো বোঝা কঠিন হতে পারে।

তাই বিভাগ, নিবন্ধ, প্রয়োজনীয় পেজ এবং সম্পর্কিত বিষয়গুলোকে যুক্তিসংগতভাবে সাজানো দরকার। একটি নতুন নিবন্ধ থেকে একই বিষয়ের পুরোনো দরকারি নিবন্ধে যাওয়ার পথ থাকা যেমন পাঠকের কাজে লাগে, তেমনি ওয়েবসাইটের সামগ্রিক কাঠামো বুঝতেও সহায়তা করে।

এই পর্বে অভ্যন্তরীণ সংযোগের লেখার কৌশল বিস্তারিতভাবে পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে না। সেটি আগের পর্ব ৬-এর অন-পেজ এসইও গাইডে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

এক্সএমএল সাইটম্যাপ কী এবং কেন দরকার?

এক্সএমএল সাইটম্যাপ হলো ওয়েবসাইটের গুরুত্বপূর্ণ ইউআরএলগুলো সম্পর্কে সার্চ ইঞ্জিনকে তথ্য দেওয়ার একটি ফাইল। বড় ওয়েবসাইট, নিয়মিত নতুন পেজ প্রকাশ করা সাইট কিংবা এমন ওয়েবসাইট যেখানে কিছু পেজ অভ্যন্তরীণভাবে সহজে খুঁজে পাওয়া কঠিন—এসব ক্ষেত্রে সাইটম্যাপ বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে।

তবে সাইটম্যাপে একটি ইউআরএল রাখলেই সেটি অবশ্যই ইনডেক্স হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। সাইটম্যাপ মূলত সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার ওয়েবসাইটের কাঠামো সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার একটি মাধ্যম।

ওয়ার্ডপ্রেসে অনেক এসইও প্লাগইন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইটম্যাপ তৈরি করে। সেটি সাধারণত গুগল সার্চ কনসোলে জমা দেওয়া যায়।

রোবট নির্দেশনা ফাইলের কাজ

ওয়েবসাইটের মূল ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত robots.txt ফাইলের মাধ্যমে সার্চ ইঞ্জিনের স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রামকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া যায়।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কোনো পেজকে সার্চ ফলাফল থেকে বাদ দেওয়ার সব কাজ robots.txt দিয়ে করা উচিত নয়। কোনো পেজ ইনডেক্স না করার প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য পদ্ধতি প্রয়োজন হতে পারে।

তাই ইন্টারনেট থেকে কপি করা কোনো robots.txt নির্দেশনা সরাসরি নিজের ওয়েবসাইটে বসানোর আগে সেটি কী করছে তা বুঝে নেওয়া উচিত। ভুল নির্দেশনা দিলে প্রয়োজনীয় পেজ ক্রল হওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ক্যানোনিকাল ঠিকানা কেন ব্যবহার করা হয়?

একই বা প্রায় একই ধরনের বিষয় একাধিক ইউআরএলের মাধ্যমে পাওয়া গেলে সার্চ ইঞ্জিনের কাছে কোন ঠিকানাটি মূল সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হবে—এটি পরিষ্কার করার প্রয়োজন হতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ক্যানোনিকাল নির্দেশনা কাজে আসে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো ওয়েবসাইটে একই পণ্যের পেজ বিভিন্ন ছাঁকনি বা পরামিতি যুক্ত ঠিকানায় খোলা যাচ্ছে। তখন মূল পেজের ঠিকানা আলাদা করে নির্দেশ করা প্রয়োজন হতে পারে।

তবে ক্যানোনিকাল ট্যাগকে সব ধরনের ডুপ্লিকেট সমস্যার একমাত্র সমাধান ভাবা ঠিক নয়। সঠিক ইউআরএল কাঠামো এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্নির্দেশ ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।

মোবাইল ব্যবহারযোগ্যতা কেন আলাদা করে দেখা দরকার?

একটি ওয়েবসাইট কম্পিউটারে সুন্দর দেখালেই সেটি মোবাইলেও ভালো হবে—এমন নয়। ছোট পর্দায় লেখা পড়তে কষ্ট হচ্ছে কি না, কোনো বাটন চাপতে সমস্যা হচ্ছে কি না, অনুভূমিকভাবে স্ক্রল করতে হচ্ছে কি না কিংবা কোনো উপাদান পর্দার বাইরে চলে যাচ্ছে কি না—এসব পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

বিশেষ করে বাংলাদেশের অনেক পাঠক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওয়েবসাইট ব্যবহার করেন। তাই প্রকাশের আগে নিজের ফোনে ওয়েবসাইট খুলে অন্তত একটি পূর্ণ নিবন্ধ পড়ে দেখা খুব কার্যকর অভ্যাস।

ওয়েবসাইটের গতি এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা

ওয়েবসাইটের গতি শুধু একটি সংখ্যার বিষয় নয়। একজন পাঠক পেজ খুলে কত দ্রুত মূল তথ্য দেখতে পাচ্ছেন, বাটনে চাপলে সাড়া পাচ্ছেন কি না এবং পেজ লোড হওয়ার সময় উপাদানগুলো অস্বাভাবিকভাবে নড়ছে কি না—এসবও গুরুত্বপূর্ণ।

গুগলের কোর ওয়েব ভাইটালস ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক পরিমাপ করা হয়। এর মধ্যে এলসিপি, সিএলএস এবং আইএনপি উল্লেখযোগ্য।

  • এলসিপি: পেজের প্রধান বড় কনটেন্ট ব্যবহারকারীর কাছে কত দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে, তার একটি পরিমাপ।
  • সিএলএস: পেজ লোড হওয়ার সময় দৃশ্যমান উপাদানগুলো অপ্রত্যাশিতভাবে কতটা স্থান পরিবর্তন করছে, তার একটি পরিমাপ।
  • আইএনপি: ব্যবহারকারী কোনো কাজ করার পর ওয়েবপেজ কত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে, তার একটি পরিমাপ।

এই সূচকগুলোকে শুধু একটি নম্বর হিসেবে না দেখে ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা বেশি কার্যকর।

ওয়েবসাইট ধীর হওয়ার সাধারণ কারণ

একটি ওয়েবসাইট ধীর হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন কয়েকটি কারণ হলো:

  • অতিরিক্ত বড় ছবির ফাইল ব্যবহার করা।
  • অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিপ্ট ও তৃতীয় পক্ষের কোড বেশি ব্যবহার করা।
  • অপ্রয়োজনীয় প্লাগইন বা একই কাজের একাধিক প্লাগইন চালু রাখা।
  • সার্ভারের প্রতিক্রিয়া পেতে বেশি সময় লাগা।
  • ক্যাশিং ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ না করা।
  • প্রয়োজনের তুলনায় ভারী নকশা বা থিম ব্যবহার করা।
  • একসঙ্গে অনেক ফাইল ও উপাদান লোড করা।

তবে শুধু প্লাগইনের সংখ্যা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কোন প্লাগইন কতটা কাজ করছে, তার কোড কীভাবে লেখা, কোন ফাইল লোড করছে এবং সার্ভারের অবস্থাও বিবেচনায় নিতে হবে।

নিজে ওয়েবসাইটের গতি পরীক্ষা করবেন যেভাবে

গুগল পেজস্পিড ইনসাইটস

গুগল পেজস্পিড ইনসাইটস ব্যবহার করে একটি পেজের কর্মক্ষমতা এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার বিভিন্ন দিক পরীক্ষা করা যায়। মোবাইল ও কম্পিউটারের জন্য আলাদা ফলাফল পাওয়া যায়।

এখানে কোনো একটি স্কোরের পেছনে না ছুটে রিপোর্টে দেওয়া সমস্যাগুলো বুঝে সমাধান করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গুগল সার্চ কনসোল

সার্চ কনসোলে ওয়েবসাইটের কোর ওয়েব ভাইটালস সংক্রান্ত প্রতিবেদন দেখা যায়। পাশাপাশি কোন পেজ ইনডেক্স হয়েছে, কোন পেজে সমস্যা রয়েছে এবং সার্চ ইঞ্জিন কীভাবে ওয়েবসাইটকে দেখছে—এসব বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা যায়।

লাইটহাউস

গুগল ক্রোমের উন্নত পরীক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লাইটহাউস রিপোর্ট চালানো যায়। এতে কর্মক্ষমতা, ব্যবহারযোগ্যতা এবং অন্যান্য কারিগরি বিষয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়।

জিটিমেট্রিক্স

আরও বিস্তারিত গতি পরীক্ষা করতে জিটিমেট্রিক্স ব্যবহার করা যায়। এটি বিভিন্ন লোডিং ধাপ ও সম্পদের তথ্য দেখাতে পারে। একাধিক পরীক্ষার ফলাফল তুলনা করে পরিবর্তনের প্রভাব বোঝাও সম্ভব।

ওয়েবসাইটের গতি উন্নত করার বাস্তব পদ্ধতি

১. ছবির আকার কমান

ছবির প্রকৃত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বড় ফাইল ব্যবহার করার দরকার নেই। আপলোডের আগে ছবির মাত্রা ও ফাইলের আকার কমিয়ে নেওয়া যেতে পারে। আধুনিক ওয়েব ছবি বিন্যাস ব্যবহার করলেও প্রয়োজন অনুযায়ী মান ঠিক রাখা জরুরি।

২. ক্যাশিং ব্যবহার করুন

একই ধরনের তথ্য বারবার তৈরি ও পাঠানোর প্রয়োজন কমাতে ক্যাশিং ব্যবহার করা যায়। ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে সার্ভার ও ব্যবহৃত ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্যাশিং চালু করা উচিত।

আপনি যদি লাইটস্পিড সার্ভার ব্যবহার করেন, তাহলে লাইটস্পিড ক্যাশের মতো সমাধান ব্যবহার করার আগে সেটির সেটিংস আপনার ওয়েবসাইটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না পরীক্ষা করুন।

৩. প্রয়োজনহীন কোড কমান

ওয়েবসাইটে এমন কোনো নকশা, স্ক্রিপ্ট বা সুবিধা থাকলে যা কেউ ব্যবহার করছে না, সেটি সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে শুধু গতি নয়, ওয়েবসাইট পরিচালনাও সহজ হয়।

৪. অলস লোডিং ব্যবহার করুন

একটি দীর্ঘ নিবন্ধে নিচের দিকে থাকা সব ছবি প্রথম মুহূর্তেই লোড করার প্রয়োজন নেই। উপযুক্ত ক্ষেত্রে অলস লোডিং ব্যবহার করলে ব্যবহারকারী প্রথমে যে অংশটি দেখছেন সেটি দ্রুত প্রস্তুত হতে পারে।

৫. সার্ভারের মান পরীক্ষা করুন

ওয়েবসাইটের কোড ও ছবিগুলো ঠিক থাকার পরও যদি সার্ভার থেকে প্রতিক্রিয়া পেতে দীর্ঘ সময় লাগে, তাহলে হোস্টিংয়ের ভূমিকা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সার্ভারের প্রতিক্রিয়া সময়, ব্যবহার করা সম্পদ এবং একই সার্ভারে থাকা অন্যান্য চাপ বিবেচনা করা উচিত।

টেকনিক্যাল এসইও অডিটের সংক্ষিপ্ত তালিকা

মাসে অন্তত একবার নিচের বিষয়গুলো পরীক্ষা করার অভ্যাস করতে পারেন:

  • সাইটের গুরুত্বপূর্ণ পেজগুলো ইনডেক্স হচ্ছে কি না।
  • সাইটম্যাপ ঠিকভাবে তৈরি ও জমা আছে কি না।
  • robots.txt প্রয়োজনীয় পেজকে ভুলভাবে আটকে দিচ্ছে কি না।
  • গুরুত্বপূর্ণ পেজে ভুল ক্যানোনিকাল নির্দেশনা আছে কি না।
  • অপ্রয়োজনীয় ৪০৪ পেজ বা ভাঙা সংযোগ তৈরি হয়েছে কি না।
  • মোবাইল ফোনে পেজ ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে কি না।
  • সাইটে HTTPS চালু আছে কি না।
  • ছবিগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ভারী কি না।
  • সার্ভারের প্রতিক্রিয়া সময় অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে কি না।
  • নতুন কোনো প্লাগইন বা কোড যুক্ত করার পর গতি কমেছে কি না।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: শুধু স্কোরের পেছনে ছুটবেন না

ওয়েবসাইটের গতি পরীক্ষা করতে গিয়ে অনেকেই একটি ভুল করেন। তারা একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষার স্কোরকে চূড়ান্ত লক্ষ্য ধরে নেন। অথচ একই ওয়েবসাইটের ফলাফল পরীক্ষা করার সময়, ডিভাইস, নেটওয়ার্ক এবং পরীক্ষার পরিবেশ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।

তাই একটি পরীক্ষায় ১০০ পাওয়ার চেয়ে বাস্তব ব্যবহারকারীর জন্য পেজটি দ্রুত ও স্থিতিশীল রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্টে কোন সমস্যা বারবার দেখা যাচ্ছে, সেটি খুঁজে বের করে অগ্রাধিকার অনুযায়ী সমাধান করা উচিত।

কারিগরি এসইও নিয়ে নতুনদের কয়েকটি ভুল ধারণা

  • শুধু দ্রুত ওয়েবসাইট হলেই ভালো র‍্যাংক হবে: ওয়েবসাইটের গতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি সার্চ দৃশ্যমানতার একমাত্র বিষয় নয়। বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা, ওয়েবসাইটের কাঠামো এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ও ভূমিকা রাখে।
  • সাইটম্যাপে পেজ রাখলেই ইনডেক্স নিশ্চিত: সাইটম্যাপ সার্চ ইঞ্জিনকে ইউআরএল সম্পর্কে তথ্য দেয়; এটি ইনডেক্স হওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
  • robots.txt দিয়ে সব পেজ লুকানো যায়: robots.txt মূলত ক্রলিং সম্পর্কিত নির্দেশনা দেয়। কোনো পেজকে সার্চ ফলাফল থেকে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি বেছে নিতে হয়।
  • প্লাগইন বেশি মানেই ওয়েবসাইট ধীর: শুধু সংখ্যা দিয়ে বিষয়টি বিচার করা যায় না। প্লাগইনের কাজ, কোড, লোড হওয়া ফাইল এবং সার্ভারের ওপর প্রভাব দেখা দরকার।
  • একবার কারিগরি অডিট করলেই আর প্রয়োজন নেই: ওয়েবসাইটে নিয়মিত নতুন পেজ, ছবি, প্লাগইন, নকশা বা কোড যোগ হয়। তাই সময়ের সঙ্গে আবার পরীক্ষা করা দরকার।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

১. কারিগরি এসইও কি অন-পেজ এসইও-এর বিকল্প?

না। দুটি আলাদা ক্ষেত্র। অন-পেজ এসইও মূলত একটি পেজের বিষয়বস্তু ও পেজ-সংক্রান্ত উপাদানকে কেন্দ্র করে কাজ করে। কারিগরি এসইও ওয়েবসাইটের কাঠামো, ক্রলিং, ইনডেক্সিং, কর্মক্ষমতা ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত বিষয়ের দিকে নজর দেয়।

২. কোর ওয়েব ভাইটালস খারাপ হলে কি পেজ অবশ্যই সার্চ থেকে বাদ যাবে?

এভাবে সরাসরি বলা ঠিক নয়। কোর ওয়েব ভাইটালস ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিমাপ। সার্চ দৃশ্যমানতা নির্ধারণে আরও অনেক বিষয় বিবেচিত হয়। তাই সমস্যাগুলোকে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা উচিত।

৩. সাইটম্যাপ জমা দেওয়ার পর কি প্রতিটি পেজ ইনডেক্স হবে?

না। সাইটম্যাপ সার্চ ইঞ্জিনকে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ইউআরএল সম্পর্কে জানাতে সাহায্য করে। কোনো পেজ ইনডেক্স করা হবে কি না, সেটি অন্যান্য বিষয়ও বিবেচনা করে নির্ধারিত হয়।

৪. ছোট ব্লগের জন্যও কি কারিগরি এসইও দরকার?

হ্যাঁ। ছোট ওয়েবসাইটেও অন্তত সঠিক সাইট কাঠামো, মোবাইল ব্যবহারযোগ্যতা, নিরাপদ সংযোগ, সাইটম্যাপ, ক্রলিং এবং ইনডেক্সিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখা উচিত।

৫. ওয়েবসাইটের গতি কত সেকেন্ড হলে ভালো?

একটি মাত্র সংখ্যা দিয়ে সব ওয়েবসাইটের জন্য ভালো গতি নির্ধারণ করা ঠিক নয়। পেজের ধরন, ব্যবহারকারীর ডিভাইস, নেটওয়ার্ক এবং বিভিন্ন কর্মক্ষমতা সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

৬. ওয়েবসাইটের কারিগরি সমস্যা খুঁজতে কোথা থেকে শুরু করব?

প্রথমে সার্চ কনসোলের ইনডেক্সিং ও কোর ওয়েব ভাইটালস প্রতিবেদন দেখুন। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পেজ পেজস্পিড ইনসাইটস দিয়ে পরীক্ষা করুন। তারপর সাইটম্যাপ, robots.txt, ক্যানোনিকাল, মোবাইল প্রদর্শন এবং ভাঙা সংযোগ পরীক্ষা করুন। এতে সমস্যার একটি বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে।

এখন আপনার ওয়েবসাইটে যা পরীক্ষা করবেন

এই পর্ব পড়ার পর একসঙ্গে সবকিছু পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রথমে সার্চ কনসোলে ইনডেক্সিং সংক্রান্ত কোনো সমস্যা আছে কি না দেখুন। এরপর একটি গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল পেজ এবং একটি কম্পিউটার পেজ পেজস্পিড ইনসাইটসে পরীক্ষা করুন। তারপর সাইটম্যাপ, robots.txt এবং ক্যানোনিকাল নির্দেশনাগুলো যাচাই করুন।

একটি কারিগরি সমস্যার সমাধান করার পর আবার পরীক্ষা করে দেখুন পরিবর্তনের ফলে কী হয়েছে। এভাবে ধাপে ধাপে কাজ করলে অপ্রয়োজনীয় পরিবর্তন করার ঝুঁকি কমে এবং কোন কাজটি বাস্তবে কতটা উপকার করেছে সেটিও বোঝা যায়।

এখানেই কারিগরি এসইও শেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি—সব সমস্যার জন্য একই সমাধান কাজ করে না। আগে সমস্যার কারণ বুঝতে হবে, তারপর প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরবর্তী পর্বে আমরা দেখব, ভালো বিষয়বস্তু নিয়মিত প্রকাশ করে কীভাবে একটি ওয়েবসাইটের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পাঠক তৈরি করা যায় এবং বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট পরিকল্পনা কীভাবে সাজানো যায়।