এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো একাদশ শ্রেণিতে সঠিক কলেজ নির্বাচন করা। অনেকেই ভাবেন, শুধু ভালো ফল করলেই পছন্দের কলেজে ভর্তি হওয়া যাবে। আসলে বিষয়টি একটু ভিন্ন। কলেজের আসন, নিজের ফলাফল, বিভাগ, কলেজের ন্যূনতম যোগ্যতা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে কলেজ চয়েজের পছন্দক্রম—সবকিছু মিলিয়েই একাদশ শ্রেণির অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হয়।
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদনও কেন্দ্রীয় অনলাইন ব্যবস্থায় করা হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত ভর্তি পোর্টালে গিয়ে আবেদন করতে হবে এবং পছন্দের কলেজগুলো ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে হবে। এ বছর কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না; এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
এই লেখায় একাদশে ভর্তি ২০২৬-এর আবেদন কবে শুরু হবে, শেষ হবে কবে, আবেদন ফি কত, কীভাবে ফি দিতে হবে, কলেজ চয়েজ কীভাবে সাজাবেন, ফলাফল কবে প্রকাশ হবে, নির্বাচিত হলে কীভাবে নিশ্চায়ন করবেন, মাইগ্রেশন কী এবং কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি কখন—সবকিছু সহজ ভাষায় ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- শিক্ষাবর্ষ: ২০২৬–২০২৭
- অনলাইন আবেদন শুরু: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- আবেদনের শেষ সময়: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা
- পছন্দক্রম পরিবর্তন: ১২–১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত
- প্রথম নির্বাচিত ফল প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা
- প্রাথমিক নিশ্চায়নের শেষ সময়: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা
- চূড়ান্ত কলেজ ভর্তি: ২০–২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- ক্লাস শুরু: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- অনলাইন আবেদন ফি: ২২০ টাকা
- বোর্ডের প্রাথমিক নিশ্চায়ন ফি: ৩৪০ টাকা
- কলেজ পছন্দ: সর্বনিম্ন ৫টি, সর্বোচ্চ ১০টি
- কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা: নেই
একাদশে ভর্তি ২০২৬-এর অনলাইন আবেদন কবে শুরু?
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে অনলাইন আবেদন শুরু হবে ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেদন করার শেষ সময় ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা। তাই শেষ দিনের জন্য অপেক্ষা না করে আগে থেকেই নিজের কলেজের পছন্দক্রম ঠিক করে আবেদন করে ফেলা ভালো।
যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফল পুনঃনিরীক্ষণ বা পুনঃমূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছে এবং পরে তাদের ফল পরিবর্তিত হয়েছে, তাদের জন্য ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা পর্যন্ত আলাদা আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সময়ে আগে দেওয়া কলেজের পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগও থাকবে।
২০২৬ সালের একাদশ শ্রেণির ভর্তি সময়সূচি
| ভর্তি কার্যক্রম | তারিখ ও সময় |
|---|---|
| অনলাইন আবেদন | ২ সেপ্টেম্বর–১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত |
| পুনঃনিরীক্ষণে ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন | ১২–১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত |
| কলেজ পছন্দক্রম পরিবর্তন | ১২–১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত |
| নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা |
| প্রাথমিক নির্বাচন নিশ্চায়ন | ফল প্রকাশের পর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮টা পর্যন্ত |
| কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি | ২০–২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
একাদশে ভর্তির আবেদন করতে কারা পারবেন?
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নীতিমালা অনুযায়ী, যে বছর এসএসসি বা সমমানের ফল প্রকাশ হয়েছে এবং তার আগের ধারাবাহিক দুই বছরের উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা অন্যান্য যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। অর্থাৎ ২০২৬ সালের পাশাপাশি ২০২৫ ও ২০২৪ সালে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও নির্ধারিত নিয়মে আবেদন করতে পারবেন।
বিদেশি বোর্ড বা সমমানের প্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সনদের সমমান নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
কোন বিভাগ থেকে কোন বিভাগে আবেদন করা যাবে?
কলেজ চয়েজ দেওয়ার আগে নিজের এসএসসি বিভাগের সঙ্গে একাদশের বিভাগ নির্বাচন করার নিয়মটি জানা জরুরি। ২০২৬ সালের নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণভাবে:
- বিজ্ঞান বিভাগ: বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা—এই তিন বিভাগের যেকোনো একটিতে আবেদন করতে পারবে।
- মানবিক বিভাগ: মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে আবেদন করতে পারবে।
- ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক বিভাগে আবেদন করতে পারবে।
- ইসলামী শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত: নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এসব বিভাগে আবেদন করার সুযোগ পেতে পারে।
- মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড: তাদের জন্য নীতিমালায় আলাদা সমতুল্যতা ও বিভাগ নির্বাচনের বিধান রয়েছে।
একাদশে ভর্তি ২০২৬ আবেদন করতে কী কী লাগবে?
অনলাইনে আবেদন করার আগে কয়েকটি তথ্য হাতের কাছে রাখুন। এতে ফরম পূরণের সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে। সাধারণভাবে প্রয়োজন হবে:
- এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর
- রেজিস্ট্রেশন নম্বর
- শিক্ষা বোর্ডের নাম
- পাসের বছর
- একটি সচল মোবাইল নম্বর
- পছন্দের কলেজের তালিকা
- পছন্দের বিভাগ, শিফট ও ভার্সনের তথ্য
আবেদন করার আগে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর অন্তত একবার মিলিয়ে নেওয়া উচিত। ভুল তথ্য দিলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম ২০২৬
ধাপ ১: অফিসিয়াল ভর্তি পোর্টালে প্রবেশ করুন
প্রথমে একাদশ শ্রেণির কেন্দ্রীয় ভর্তি পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। অন্য কোনো অচেনা ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজের মাধ্যমে আবেদন করার চেষ্টা করবেন না। ভর্তি সংক্রান্ত আবেদন, ফলাফল ও নিশ্চায়নের জন্য নির্ধারিত সরকারি ভর্তি পোর্টালই ব্যবহার করুন।

ধাপ ২: এসএসসি বা সমমানের তথ্য দিন
আবেদনের সময় আপনার এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, শিক্ষা বোর্ড এবং পাসের বছর দিতে হবে। তথ্য সঠিক হলে সিস্টেমে শিক্ষার্থীর পরীক্ষার তথ্য প্রদর্শিত হবে।
ধাপ ৩: পছন্দের কলেজ নির্বাচন করুন
এটি আবেদন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীকে নিজের যোগ্যতা ও পছন্দ অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫টি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ/সমমানের প্রতিষ্ঠানের পছন্দক্রম দিতে পারবে।
শুধু নামী কলেজের তালিকা দিলেই ভালো ফল পাওয়া যাবে—এমন নয়। নিজের জিপিএ, কলেজের ন্যূনতম যোগ্যতা, আসন সংখ্যা, বিভাগ, অবস্থান ও যাতায়াতের বিষয়টি বিবেচনা করে পছন্দক্রম সাজানো উচিত।
Read More:
শিক্ষার্থীদের জন্য Google AI Plus ফ্রি ১ বছর: কীভাবে পাবেন ও কী সুবিধা মিলবে বিস্তারিত দেখুন।
ধাপ ৪: কলেজের পছন্দক্রম ঠিক করুন
ধরা যাক, আপনার সবচেয়ে পছন্দের কলেজ ‘কলেজ A’। তাহলে সেটিকে ১ নম্বরে রাখুন। দ্বিতীয় পছন্দ ‘কলেজ B’ হলে সেটি ২ নম্বরে রাখুন। এভাবে নিজের পছন্দের ক্রম অনুযায়ী তালিকা সাজান।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার—পছন্দক্রম শুধু একটি তালিকা নয়; এটি আপনার ভর্তি নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই অন্যের কথায় বা শুধু কলেজের নাম দেখে তালিকা সাজানো ঠিক হবে না।
ধাপ ৫: আবেদন ফি পরিশোধ করুন
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির অনলাইন আবেদন ফি ২২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ফি আবেদনের সময় নির্ধারিত অনুমোদিত পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে দিতে হবে।
পেমেন্ট করার সময় নিজের এসএসসি/সমমানের তথ্য দিয়ে সঠিক সেবা নির্বাচন করুন। পেমেন্ট সফল হওয়ার পর Transaction ID/পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করে রাখুন। কোনো সমস্যা হলে এই তথ্য কাজে লাগতে পারে।
আবেদন ফি ২২০ টাকা কীভাবে দেবেন?
অনলাইন আবেদন ফি ২২০ টাকা। বর্তমান ভর্তি নির্দেশনায় অনুমোদিত মোবাইল ব্যাংকিং/পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে এই টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ব্যবহৃত পেমেন্ট সেবার অ্যাপে বা ওয়েব পেমেন্টে XI Class Admission বা সংশ্লিষ্ট ভর্তি সেবা নির্বাচন করে পর্দায় দেখানো তথ্য অনুযায়ী পেমেন্ট করতে হবে।
বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় বা সোনালী সেবা/অনুমোদিত পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে সেবার মেনু সামান্য আলাদা হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনো কোড বা নম্বর মুখস্থ করে টাকা পাঠানোর পরিবর্তে পেমেন্ট করার সময় ভর্তি পোর্টাল বা অনুমোদিত সেবার বর্তমান নির্দেশনা অনুসরণ করাই নিরাপদ।
পেমেন্ট শেষ হওয়ার পর পাওয়া ট্রানজেকশন তথ্য বা রসিদ সংরক্ষণ করুন। টাকা কেটে গেলেও আবেদন সম্পন্ন হয়েছে ধরে নেবেন না; আবেদন ফরমে ঢুকে তথ্য যাচাই করে শেষ পর্যন্ত আবেদন জমা দিতে হবে।
৫টি কলেজ দিলেও কি ২২০ টাকা, ১০টি দিলেও কি ২২০ টাকা?
হ্যাঁ। অনলাইন আবেদন ফি কলেজের সংখ্যা অনুযায়ী আলাদা করে গুণ করা হয় না। নির্ধারিত আবেদন ফি ২২০ টাকা দিয়েই নির্ধারিত সীমার মধ্যে সর্বনিম্ন ৫টি থেকে সর্বোচ্চ ১০টি পছন্দ দেওয়া যায়।
তবে আবেদন করার সময় পোর্টালে যে পরিমাণ ফি দেখাবে সেটিই চূড়ান্ত ধরে পেমেন্ট করবেন। ভবিষ্যতে কোনো সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে সেটি অনুসরণ করতে হবে।
কলেজ চয়েজ দেওয়ার সঠিক কৌশল
অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করার সময় একটি ভুল করেন—তারা ১০টি পছন্দের মধ্যে সবগুলোতেই শুধু অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক কলেজ রাখেন। এতে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বরং পছন্দের তালিকাকে তিন ভাগে ভাবতে পারেন:
- প্রথম কয়েকটি: নিজের সবচেয়ে পছন্দের কলেজ।
- মাঝের কয়েকটি: নিজের ফলাফল ও কলেজের যোগ্যতার সঙ্গে ভালোভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ কলেজ।
- শেষের কয়েকটি: তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত ও নিরাপদ পছন্দ।
তবে কোনো কলেজকে শুধু ‘নিরাপদ’ মনে করে তালিকায় রাখবেন না। কলেজের বিভাগ, পড়াশোনার পরিবেশ, দূরত্ব, যাতায়াত, খরচ এবং নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও বিবেচনা করুন।
একাদশ ভর্তি ২০২৬-এর মেধা তালিকা কীভাবে তৈরি হবে?
কেন্দ্রীয় ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো লিখিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে মেধাক্রম তৈরি করে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এর সঙ্গে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা এবং শিক্ষার্থীর দেওয়া কলেজের পছন্দক্রম বিবেচনা করা হবে।
একই জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধাক্রম নির্ধারণের জন্য মোট প্রাপ্ত নম্বরসহ বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিবেচনা করার নিয়ম রয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে গণিত/উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞান, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের নম্বর বিবেচনা করা হয়। মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে ইংরেজি, গণিত ও বাংলা বিষয়ের নম্বর বিবেচনা করা হয়।
একাদশ ভর্তি ২০২৬ রেজাল্ট কবে প্রকাশ হবে?
এটি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি। সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রথম ফলাফল ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে।
অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে সাধারণ আবেদন শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ফল প্রকাশের সময় পছন্দের কলেজের মধ্যে কোন কলেজে নির্বাচন হয়েছে সেটি জানা যাবে।
ফল প্রকাশের পর শুধু ফলাফল দেখলেই কাজ শেষ হবে না। আপনার নাম কোনো কলেজে এলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি রেজাল্ট দেখার নিয়ম
ফল প্রকাশের নির্ধারিত সময়ের পর একাদশ শ্রেণির ভর্তি পোর্টালে প্রবেশ করে নির্বাচনের তথ্য দেখা যাবে। সাধারণত শিক্ষার্থীর এসএসসি/সমমান পরীক্ষার তথ্য ব্যবহার করে ফলাফল যাচাই করতে হয়।
ফলাফল দেখার সময় নিজের:
- এসএসসি/সমমান রোল নম্বর
- রেজিস্ট্রেশন নম্বর
- শিক্ষা বোর্ড
- পাসের বছর
হাতে রাখুন। ফলাফল প্রকাশের সময় ওয়েবসাইটে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে পেজ লোড হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তখন বারবার ভুল তথ্য দিয়ে চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।
নির্বাচিত হলে প্রাথমিক নিশ্চায়ন কী?
ধরা যাক, আপনি আবেদন করে একটি কলেজে নির্বাচিত হয়েছেন। তখন সেটি আপনার চূড়ান্ত ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে—এমন ভাবার সুযোগ নেই। প্রথমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন নিশ্চায়ন করতে হবে।
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বোর্ডের প্রাথমিক নিশ্চায়ন ফি ৩৪০ টাকা। এই অর্থের মধ্যে বিভিন্ন বোর্ড-নির্ধারিত ফি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেমন রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, রোভার/রেঞ্জার, রেড ক্রিসেন্টের বোর্ড অংশ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিএনসিসি এবং শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা ভাতার ফি।
| ফি-এর খাত | পরিমাণ |
|---|---|
| রেজিস্ট্রেশন ফি | ১৪২ টাকা |
| ক্রীড়া ফি | ৫০ টাকা |
| রোভার/রেঞ্জার ফি | ১৫ টাকা |
| রেড ক্রিসেন্ট ফি — বোর্ড অংশ | ১৬ টাকা |
| বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি | ৭ টাকা |
| বিএনসিসি ফি | ১০ টাকা |
| শিক্ষক কল্যাণ তহবিল ও অবসর সুবিধা ভাতা | ১০০ টাকা |
| মোট | ৩৪০ টাকা |
নিশ্চায়ন না করলে কী হবে?
এখানেই অনেক শিক্ষার্থী ভুল করেন। ফল প্রকাশের পর কলেজ পেয়ে গেলেও যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নির্বাচন নিশ্চায়ন না করেন, তাহলে আপনার নির্বাচন এবং আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই ফলাফল প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন করা অত্যন্ত জরুরি।
২০২৬ সালের সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়নের শেষ সময় ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রাত ৮টা।
মাইগ্রেশন কী এবং কীভাবে কাজ করে?
মাইগ্রেশন হলো পছন্দক্রমের উপরের দিকে যাওয়ার একটি সুযোগ। আপনি যদি আপনার তালিকার নিচের কোনো পছন্দের কলেজে প্রথমে নির্বাচিত হন, পরে আপনার পছন্দক্রমের উপরের কোনো কলেজে আসন খালি হলে এবং মেধাক্রম অনুযায়ী আপনি যোগ্য হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কলেজে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ কারণে কলেজের পছন্দক্রম দেওয়ার সময় শুধু যে কলেজে নিশ্চিতভাবে ভর্তি হতে চান সেটিই নয়, তার চেয়েও বেশি পছন্দের কলেজগুলো সঠিক ক্রমে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে মাইগ্রেশন সম্পর্কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—পছন্দক্রম অবশ্যই নিজের প্রকৃত পছন্দ অনুযায়ী সাজাতে হবে। এমন কোনো কলেজকে উপরের দিকে রাখবেন না যেখানে সুযোগ পেলে আপনি আসলে ভর্তি হতে চান না।
কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি কবে?
অনলাইনে নির্বাচন ও নিশ্চায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচিত কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি করতে হবে। ২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি হবে ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত।
এই সময়ে সংশ্লিষ্ট কলেজের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ভর্তি ফি জমা দিয়ে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইন থেকে পাওয়া মার্কশিট জমা দিতে হবে এবং পরবর্তীতে বোর্ড থেকে মূল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট পাওয়া গেলে সেটি দাখিলের নিয়ম থাকবে।
একাদশ শ্রেণিতে কলেজ ভর্তি ফি কত?
অনলাইন আবেদন ফি ও কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি ফি এক বিষয় নয়। আবেদন করার সময় দিতে হবে ২২০ টাকা। নির্বাচিত হওয়ার পর বোর্ডের প্রাথমিক নিশ্চায়নের জন্য দিতে হবে ৩৪০ টাকা। এরপর যে কলেজে চূড়ান্তভাবে ভর্তি হবেন, সেই কলেজের অনুমোদিত সেশন চার্জ ও ভর্তি ফি প্রযোজ্য হবে।
২০২৬ সালের নীতিমালায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে অবস্থান ও ভার্সন অনুযায়ী সেশন চার্জ/ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ঢাকা মহানগরীতে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা, ঢাকা মহানগরীর বাইরে অন্যান্য মহানগরে ৩,০০০ টাকা, জেলা পর্যায়ে ২,০০০ টাকা এবং উপজেলা/মফস্বলে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে।
নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই সীমা অবস্থান ও ভার্সন অনুযায়ী আরও বেশি হতে পারে। ঢাকা মহানগরীতে বাংলা ভার্সনের জন্য ৭,৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনের জন্য ৮,৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত কাঠামো রয়েছে।
তবে কোনো কলেজ ইচ্ছামতো অতিরিক্ত টাকা নিতে পারবে না। ভর্তি ফি ও অন্যান্য অনুমোদিত ফি সম্পর্কে কলেজকে নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করতে হবে এবং ফি গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ রসিদ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
একাদশে ভর্তি আবেদনের সময় যেসব ভুল করবেন না
- শেষ দিনের জন্য আবেদন ফেলে রাখবেন না।
- রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়ার সময় তাড়াহুড়ো করবেন না।
- শুধু পরিচিত বা নামী কলেজ দিয়ে পুরো পছন্দক্রম পূরণ করবেন না।
- নিজের জিপিএ ও কলেজের ন্যূনতম যোগ্যতা না দেখে চয়েজ দেবেন না।
- পছন্দক্রম ভুলভাবে সাজিয়ে আবেদন জমা দেবেন না।
- পেমেন্টের Transaction ID বা রসিদ হারাবেন না।
- ফল প্রকাশের পর নিশ্চায়নের সময়সীমা পার হতে দেবেন না।
- ফেসবুক বা অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া পেমেন্ট নম্বরে টাকা পাঠাবেন না।
- ভুয়া ভর্তি সাইটে রোল, রেজিস্ট্রেশন, OTP বা পেমেন্ট তথ্য দেবেন না।
বিশেষভাবে মনে রাখবেন
একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় কলেজের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা নেই—এমনটা সব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি ব্যবস্থায় সাধারণ নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা নেই, কিন্তু কিছু বিশেষ প্রতিষ্ঠান নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়ার অধীনে থাকতে পারে। তাই নটর ডেম কলেজ, হলি ক্রস, সেন্ট জোসেফের মতো নিজস্ব ভর্তি প্রক্রিয়ার প্রতিষ্ঠান থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিজ্ঞপ্তিও অবশ্যই দেখতে হবে।
আরেকটি বিষয় হলো, কলেজভেদে ন্যূনতম জিপিএ, বিভাগ, আসন, শিফট ও ভার্সনের যোগ্যতা আলাদা হতে পারে। তাই শুধু নিজের জিপিএ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে আবেদন পোর্টালে প্রদর্শিত যোগ্যতা যাচাই করে কলেজ নির্বাচন করুন।
আবেদন করার আগে ছোট একটি চেকলিস্ট
- এসএসসি রোল নম্বর যাচাই করেছি
- রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করেছি
- শিক্ষা বোর্ড ও পাসের বছর সঠিক দিয়েছি
- সচল মোবাইল নম্বর প্রস্তুত আছে
- ৫–১০টি কলেজের পছন্দক্রম তৈরি করেছি
- প্রতিটি কলেজের গ্রুপ ও ন্যূনতম যোগ্যতা দেখেছি
- আবেদন ফি ২২০ টাকা প্রস্তুত রেখেছি
- পেমেন্টের পর Transaction ID/রসিদ সংরক্ষণ করব
- আবেদন Submit করার পর আবেদন কপি সংরক্ষণ করব
- ফল প্রকাশের তারিখ মনে রেখেছি
শেষ কথা
একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ২০২৬ নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—সঠিক সময়ে আবেদন করা এবং কলেজের পছন্দক্রম ভেবেচিন্তে সাজানো। ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে অনলাইন আবেদন শেষ করতে হবে। এরপর ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হবে। কলেজে নির্বাচিত হলে ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার মধ্যে প্রাথমিক নিশ্চায়ন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নির্বাচিত কলেজে চূড়ান্ত ভর্তি এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।
আবেদন করার সময় শুধু একটি কলেজ পাওয়ার আশায় পুরো তালিকা সাজানোর পরিবর্তে নিজের ফলাফল, কলেজের যোগ্যতা, আসন, দূরত্ব, পড়াশোনার পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনা করুন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ভর্তি সংক্রান্ত কোনো তথ্য নিয়ে সন্দেহ হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ওপর নির্ভর না করে সরকারি ভর্তি পোর্টাল ও শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করুন।