গত বছর নভেম্বরের শেষের দিকের কথা। ঢাকার একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা সিফাত আহমেদ হঠাৎ খেয়াল করলেন, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় শেষ হতে আর মাত্র তিন দিন বাকি। অফিসে কাজের তীব্র চাপ, তার ওপর সঞ্চয়পত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট আর ডিপিএসের কাগজপত্র কোথায় রেখেছেন, তা খুঁজে পাচ্ছেন না। বন্ধুদের ফোন দিয়ে জানলেন, ট্যাক্স অফিসে এখন মানুষের দীর্ঘ সারি। অনলাইনে চেষ্টা করতে গিয়ে দেখলেন, তার টিআইএন (TIN)-এর সাথে যে বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধিত, সেটি তার কাছে নেই। শেষ মুহূর্তে এই দৌড়ঝাঁপ আর মানসিক উদ্বেগের মুখোমুখি কেবল সিফাত একা নন—বাংলাদেশের লক্ষাধিক করদাতা প্রতি বছর ঠিক এই পরিস্থিতির শিকার হন। অথচ একটু সচেতনতা এবং সঠিক প্রস্তুতি থাকলে অত্যন্ত সহজে ও নির্ভুলভাবে Income Tax Return জমা সম্পন্ন করা সম্ভব।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর ব্যবস্থায় ব্যাপক অটোমেশন ও আধুনিকায়ন এনেছে। এখন আর আগের মতো ট্যাক্স অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার বাধ্যবাধকতা অনেকাংশেই কমে এসেছে। তবে ডিজিটালাইজেশন যেমন প্রক্রিয়াকে সহজ করেছে, তেমনি নিয়মের সঠিক প্রয়োগ না জানলে জরিমানা ও আইনি জটিলতার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিয়েছে। এই গাইডে আমরা অত্যন্ত সহজ ভাষায় এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে তুলে ধরবো কীভাবে আপনি যেকোনো ঝামেলার বাইরে থেকে সময়মতো আপনার Income Tax Return জমা দেবেন এবং আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবেন।
রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে কী কী বিষয় জানা জরুরি
আয়কর রিটার্ন মূলত একজন করদাতার নির্দিষ্ট একটি কর বছরে তার মোট আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের বিস্তারিত বিবরণী বা দালিলিক প্রমাণপত্র। করবর্ষ ও আয়বর্ষের পার্থক্য বোঝা এক্ষেত্রে প্রথম জরুরি বিষয়। সাধারণ করদাতাদের জন্য সাধারণত জুলাই মাসের ১ তারিখ থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কে ‘আয়বর্ষ’ হিসেবে গণ্য করা হয়, আর তার পরবর্তী বছরটি হলো ‘করবর্ষ’। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অর্জিত আয়ের হিসাব প্রদর্শনের জন্য ২০২৬-২০২৭ হবে আপনার নির্ধারিত করবর্ষ।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত প্রতি বছর ১ জুলাই থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়কে আয়কর দিবস বা রিটার্ন দাখিলের স্বাভাবিক সময়সীমা ধরা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে Income Tax Return জমা না দিলে আয়কর আইনের আওতায় বিলম্বে রিটার্ন দাখিলের জন্য জরিমানা, অতিরিক্ত বিলম্ব সুদ এবং আইনানুগ কর ছাড় সুবিধা বাতিলের ঝুঁকি থাকে। তাই শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে শুরুতেই ফাইল গোছানো শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।
কাদের Income Tax Return জমা দিতে হতে পারে?
প্রচলিত একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে, কারো বায়োমেট্রিক বা ই-টিআইএন (e-TIN) থাকলেই কর দিতে হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য নয়। কর প্রদান এবং রিটার্ন দাখিল দুটি ভিন্ন বিষয়। ই-টিআইএন থাকলেই সবাইকে রিটার্ন জমা দিতে হবে এমনটি নয়, তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্তে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যাদের ক্ষেত্রে করযোগ্য আয় থাকুক বা না থাকুক, রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক:
- বাৎসরিক আয় যদি সাধারণ করমুক্ত সীমার ওপরে হয় (সাধারণ করদাতা, নারী, জ্যেষ্ঠ নাগরিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির করমুক্ত সীমা ভিন্ন)।
- যেকোনো ডিপিএস, এফডিআর বা সঞ্চয় আমানত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে মেয়াদের শেষান্তে নির্দিষ্ট অঙ্কের ওপরে থাকলে।
- যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে যানবাহন নিবন্ধিত থাকলে।
- কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ থেকে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ বা নবায়ন করলে।
- সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রেশন বা পরিচালনা পরিষদে অংশগ্রহণ করতে হলে।
- যেকোনো বাণিজ্যিক বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে বা বজায় রাখতে।
- সরকারি বা আধাসরকারি অফিসে কোনো কাজের দরপত্র (Tender) জমা দিতে হলে।
- চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, আর্কিটেক্ট বা পেশাজীবী হিসেবে নিবন্ধিত থাকলে।
- কোম্পানি বা ফার্মের শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা পরিচালক পদে অধিষ্ঠিত থাকলে।
বাৎসরিক মোট আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও, আইনের বিধান অনুযায়ী যাদের জন্য রিটার্ন জমা বাধ্যতামূলক, তাদের অবশ্যই একটি ‘শূন্য রিটার্ন’ (Zero Return) বা নীল রিটার্ন জমা দিয়ে প্রমাণপত্র সংগ্রহ করতে হবে।
রিটার্ন জমার আগে কী কী কাগজপত্র প্রস্তুত রাখবেন?
আইনসম্মতভাবে Income Tax Return জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহ করা অর্ধেক কাজ সম্পন্ন করার সামিল। সঠিক নথিপত্র হাতে থাকলে রিটার্ন ফরম পূরণ করার সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। আয়ের ধরন অনুযায়ী কাগজপত্র সংগ্রহ করতে হবে:
| আয়ের খাত | প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা |
|---|---|
| বেতন খাতের আয় (Salary) | নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত ফরম-১০৮ (Salary Certificate), ব্যাংক স্টেটমেন্ট (জুলাই-জুন), উৎস কর কাটার প্রমাণপত্র। |
| বাড়ি ভাড়া বা সম্পত্তি (House Property) | ভাড়াটিয়াদের সাথে চুক্তিপত্র, মাসিক ভাড়া প্রাপ্তির ব্যাংক বিবরণী, পৌরকর/সিটি কর্পোরেশন ট্যাক্স রসিদ, গৃহনির্মাণ ঋণের সুদের সনদ। |
| ব্যবসা বা পেশা (Business/Profession) | অডিট রিপোর্ট বা প্রফিট অ্যান্ড লস স্টেটমেন্ট, ট্রেড লাইসেন্স, ক্যাশ বুক, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভ্যাট রিটার্ন (যদি থাকে)। |
| মূলধনী লাভ ও বিনিয়োগ (Capital Gains & Investments) | শেয়ারবাজার বিনিয়োগের বোফা (BO) অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্ট, সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের সনদ, জীবন বীমার প্রিমিয়াম রসিদ, ডিপিএস বিবরণী। |
| অন্যান্য উৎস (Other Sources) | ব্যাংক ডেস্প্যাচ রসিদ, এফডিআর ও সঞ্চয়পত্রের সুদের সনদ, উৎস কর কাটার চালান। |
অনলাইনে e-Return জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের e-Return পোর্টাল (etaxnbr.gov.bd) চালুর মাধ্যমে ঘরে বসে Income Tax Return জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ ও আধুনিক হয়েছে। প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা যায়:
১. পোর্টালে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন
এনবিআরের ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ১২ ডিজিটের e-TIN নম্বরটি প্রদান করুন। এরপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে নিবন্ধিত ও বায়োমেট্রিক যাচাইকৃত মোবাইল নম্বরটি দিন। মোবাইলে প্রাপ্ত ওটিপি (OTP) কোডটি ইনপুট দিয়ে একটি শক্ত পাসওয়ার্ড তৈরি করে আপনার অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।
২. বেসিক তথ্য ও আয়ের উৎস নির্বাচন
অ্যাকাউন্টে লগইন করে ‘Single Page Return’ বা ‘Detailed Return’ এর মধ্যে সুবিধাজনকটি বেছে নিন। আপনার নাম, ঠিকানা, বাবার নাম, বৈবাহিক অবস্থা, বর্তমান কর অঞ্চল ও সার্কেল স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদেয় তথ্যে মিলিয়ে নিন। আয়ের খাতগুলো (যেমন: বেতন, ভাড়া, ব্যবসা, বিনিয়োগ) টিক দিয়ে নির্বাচন করুন।
৩. আয় ও কর যোগ্য অংক এন্ট্রি
পূর্বে সংগৃহীত কাগজপত্র অনুযায়ী আপনার আয়বর্ষের মোট অর্জিত অর্থ প্রতিটি নির্দিষ্ট ঘরে পূরণ করুন। সরকারি বা নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান থেকে আগে থেকে কর কেটে নেয়া হয়ে থাকলে (TDS) তার চালান বা তথ্য সঠিক স্থানে প্রদান করুন। সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব করে জানিয়ে দেবে আপনার সর্বমোট প্রদেয় কর কত টাকা।
আরো পড়ুনঃ ই-টিন (TIN) সার্টিফিকেট কী? কেন প্রয়োজন, কার জন্য ও নিবন্ধন গাইড ২০২৬
৪. রেয়াত বা কর ছাড়ের দাবি
আইন অনুযায়ী আপনি যদি সঞ্চয়পত্র, ডিপিএস, প্রভিডেন্ট ফান্ড, বা অনুমোদিত শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে থাকেন, তবে সেই তথ্য প্রদান করে প্রযোজ্য কর রেয়াত বা রিবেট দাবি করতে পারবেন। সঠিক বিবরণ লিখলে স্বয়ংসক্রিয়ভাবে কর ছাড়ের অংক মওকুফ হিসেব প্রদর্শিত হবে।
৫. সম্পদ ও দায়ের বিবরণী
যদি আপনার মোট সম্পত্তির পরিমাণ আইন নির্ধারিত সীমার ওপরে হয় (বা গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট থাকে), তবে সম্পদের বিস্তারিত ঘরটি পূরণ করুন। স্থাবর সম্পদ (জমি, বাড়ি) এবং অস্থাবর সম্পদ (ব্যাংক ব্যালেন্স, নগদ টাকা, সোনা, গাড়ি)-এর বিবরণ সতর্কতার সাথে যুক্ত করুন। কোনো ব্যাংক ঋণ থাকলে তা দায়ের ঘরে দেখান।
৬. ডিজিটাল পেমেন্ট ও জমা নিশ্চিতকরণ
যদি কোনো প্রদেয় কর বাকি থাকে, তবে পোর্টাল থেকেই বিকাশ, নগদ, রকেট বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ই-পেমেন্ট (e-Payment) সম্পন্ন করুন। সমস্ত তথ্য পুনর্বার ভালো করে পরীক্ষা করে ‘Submit Return’ বোতামে ক্লিক করুন। জমা সফল হলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি একনলেজমেন্ট স্লিপ (Acknowledgement Slip) ও সিস্টেম জেনারেটেড ডিজিটাল কর সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।
অফলাইনে রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম
যারা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা জটিল ফাইলিংয়ের কারণে অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দিতে পারছেন না, তাদের জন্য কাগজের ফরমে অফলাইনে Income Tax Return জমা দেওয়ার সুযোগ এখনও চালু রয়েছে।
- উপযুক্ত ফরম সংগ্রহ: এনবিআরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা সরাসরি সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের কার্যালয় (ট্যাক্স সার্কেল) থেকে নির্দিষ্ট ফরম (যেমন- সাধারণ করদাতাদের জন্য প্রচলিত এক পাতার সহজ ফরম বা বহুপাতার মূল ফরম) সংগ্রহ করুন।
- সঠিক তথ্য দিয়ে হস্তলিখিত ফরম পূরণ: নীল বা কালো কালির কলম দিয়ে সুস্পষ্ট অক্ষরে নাম, টিআইএন, সার্কেল, কর অঞ্চল এবং প্রতিটি হিসাবের তথ্য লিখুন। কোনো তথ্য অস্পষ্ট রাখা বা কাটাকাটি করা অনুচিত।
- নথিপত্র সংযুক্তকরণ: পূরণকৃত ফরমের সাথে বেতন সনদ, ব্যাংক বিবরণী, ট্যাক্স চালানের মূল কপি এবং বিনিয়োগের প্রমাণপত্রের ফটোকপি একসাথে পিনআপ বা স্ট্যাপল করুন।
- সার্কেল অফিসে জমাদান: আপনার টিআইএন যে কর সার্কেলের অধীনে, সেই অফিসে নির্দিষ্ট কর দিবসের মধ্যে উপস্থিত হয়ে ফাইল দাখিল করুন।
- প্রাপ্তিস্বীকার গ্রহণ: দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আপনার বিবরণী যাচাই করে প্রাপ্তিস্বীকার পত্রে অফিসিয়াল সিল, তারিখ ও স্বাক্ষর প্রদান করবেন। এটি যত্ন সহকারে ভবিষ্যৎ রেফারেন্সের জন্য ফাইল করে রাখুন।
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় মানুষ যে ভুলগুলো সবচেয়ে বেশি করেন
প্রতি বছর বহু করদাতা না বুঝে কিছু প্রাথমিক ভুল করেন, যার ফলে পরবর্তীতে কর বিভাগ থেকে অডিট বা জরিমানা সংক্রান্ত নোটিশ আসতে পারে। e Return বা ম্যানুয়াল জমা—উভয় ক্ষেত্রেই নিচের ভুলগুলো পরিহার করা জরুরি:
আয় গোপন বা ভুল তথ্য প্রদান
অনেকে মনে করেন ব্যাংকে থাকা অল্প টাকা বা সঞ্চয়পত্রের সামান্য মুনাফা না দেখালেও চলবে। বর্তমান আধুনিক এনবিআর ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। তাই যেকোনো প্রাপ্তি লুকানোর চেষ্টা করলে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ব্যাংক স্টেটমেন্টের সাথে খাতা না মেলা
রিটার্নে প্রদর্শিত বাৎসরিক আয় এবং আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া সর্বমোট অর্থের অঙ্কে অসঙ্গতি থাকা একটি বড় ভুল। অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বড় আর্থিক লেনদেন থাকলে তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা এবং উৎস ফাইল করার সময়ই রেডি রাখুন।
পুরোনো বা অপশনবিহীন মোবাইল নম্বর ব্যবহার
অনলাইনে নিবন্ধনের সময় পরিবারের অন্য কারো বা ব্যবহৃত না থাকা সিম ব্যবহারের ফলে পাসওয়ার্ড বা নোটিশ মিস হয়ে যেতে পারে। এনবিআর পোর্টালের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নিবন্ধিত ফোন নম্বর।
উৎসে কর্তিত করের (TDS) প্রমাণ বাদ পড়া
ব্যাংক থেকে সুদ দেওয়ার সময় বা চাকরিদাতা বেতন দেওয়ার সময় যে ট্যাক্স কেটে রেখেছিলেন, তার চালান রসিদ জমা না দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই কর আপনার ঘাড়েই বকেয়া হিসেবে থেকে যাবে। সঠিকভাবে সময় নিয়ে Income Tax Return জমা না দিলে এই বিভ্রান্তিগুলো বেশি ঘটে।
রিটার্ন জমা দেওয়ার পর কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে আবেদন সফল হয়েছে
আপনি অনলাইনে কিংবা অফলাইনে যেভাবে কর রিটার্ন দিন না কেন, জমা সফল হয়েছে কিনা তা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
অনলাইনের ক্ষেত্রে জমা সম্পন্ন হওয়ার সাথে সাথেই স্ক্রিনে ‘Acknowledgement Receipt’ প্রদর্শিত হবে। এতে একটি কিউআর (QR) কোড ও রেফারেন্স নম্বর থাকবে। আপনি চাইলে যেকোনো সময় আপনার আইডি থেকে লগইন করে প্রদেয় করের প্রত্যয়নপত্র ও রিটার্নের কপি পুনরায় ডাউনলোড করতে পারবেন। যদি কোনো কারণে পেমেন্ট পেন্ডিং দেখায় বা একনলেজমেন্ট তৈরি না হয়, তবে সাবমিশন সফল হয়নি বুঝে দ্রুত কাস্টমার কেয়ারে যোগযোগ করতে হবে।
অফলাইন পদ্ধতির ক্ষেত্রে আপনার হস্তলিখিত ফরমের নিচের অংশে উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ের সিলযুক্ত কাউন্টারফয়েল বা প্রাপ্তিস্বীকার পত্রটিই হলো চূড়ান্ত প্রমাণ। এই রসিদে কর্মকর্তা বা কর্মচারীর স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল তারিখ সংবলিত গোল সিল ঠিকমতো পড়েছে কিনা তা নিশ্চিত হয়ে ট্যাক্স অফিস ত্যাগ করুন।
TIN, Tax Return ও Tax Clearance-এর পার্থক্য
বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের মাঝে এই তিনটি শব্দ প্রায়ই বিভ্রান্তি তৈরি করে। এর সূক্ষ্ম ও আইনি পার্থক্য নিচে স্পষ্ট করা হলো:
| বিষয় | সংজ্ঞা ও মূল উদ্দেশ্য | কাদের প্রয়োজন |
|---|---|---|
| TIN (Tax Identification Number) | এনবিআর কর্তৃক প্রদত্ত ১২ ডিজিটের একটি অনন্য সনাক্তকরণ নম্বর, যা একজন নাগরিককে কর ব্যবস্থার আওতায় চিহ্নিত করে। | সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা পেতে নিবন্ধিত হতে হয়। এটি শুধুই একটি পরিচয় নম্বর। |
| Tax Return | নির্দিষ্ট করবর্ষে অর্জিত আয়, ব্যয়, দায় ও সম্পদের বিবরণ সংবলিত একটি সার্বিক বার্ষিক প্রতিবেদন বা আবেদনপত্র। | আইনানুসারে যাদের জন্য রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক, তাদের এটি প্রতি বছর জমা দিতে হয়। |
| Tax Clearance Certificate | কর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অফিসিয়াল সার্টিফিকেট বা অনাপত্তি পত্র, যা প্রমাণ করে যে করদাতার কোনো বকেয়া কর নেই। | বিদেশ ভ্রমণ, ভিসা প্রসেসিং, সরকারি বড় চুক্তি লাভ বা বিশেষ ক্ষেত্র ব্যবসার কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। |
নতুন করদাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
প্রথমবার অনলাইন আয়কর রিটার্ন বা অফলাইনে ফাইল জমা দিতে যাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য অভিজ্ঞ ট্যাক্স কনসালট্যান্টদের কিছু পরামর্শ মেনে চলা উচিত:
- প্রথম ফাইলের গুরুত্ব অনুধাবন: আপনার জীবনের প্রথম রিটার্নে আপনি যে পরিমাণ প্রাথমিক সম্পদ ও দায় দেখাবেন, তার ওপর ভিত্তি করে আপনার ভবিষ্যতের আর্থিক কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকবে। তাই প্রথম বছরে ভুল তথ্য দেবেন না।
- নগদ জমার উৎস রাখুন: প্রথম বছরে অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ ‘নগদ টাকা’ বা উপহার হিসেবে দেখানো অর্থ পরবর্তীতে অডিটের মুখে পড়তে পারে, যদি না তার উপযুক্ত উৎস দেখাতে পারেন।
- উৎসে কর কর্তনের রসিদ সংরক্ষণ: ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র বা চাকরির নিয়োগকর্তা থেকে প্রাপ্ত সমাপনী কর কেটে রাখার সনদগুলো একটি ফাইলেই জমা রাখতে থাকুন।
- প্রয়োজনে পেশাদার পরামর্শ গ্রহণ: যদি আপনার আয়ের উৎস বেশ জটিল হয় (যেমন একাধিক বিজনেস, রিয়েল এস্টেট, ক্রিপ্টো বা ক্যাপিটাল গেইন), তবে নিজে থেকে ভুল করার চেয়ে একজন নিবন্ধিত আয়কর আইনজীবী বা কনসালট্যান্টের সাহায্য নেওয়া সাশ্রয়ী।
বাস্তব জীবনের ৫টি উদাহরণ ও সমাধান
১. চাকরিজীবী: রফিকুল ইসলামের গল্প
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রফিকুল সাহেবের মূল বেতন ও ভাতাদি মিলিয়ে বাৎসরিক আয় ৬,৫০,০০০ টাকা। তার প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে তার বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ উৎসে কর (TDS) কেটে রেখে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
করণীয়: রফিকুল সাহেব তার প্রতিষ্ঠানের হিসাব বিভাগ থেকে ফরম-১০৮সি (স্যালারি সার্টিফিকেট) সংগ্রহ করবেন। একই সাথে ব্যাংকের গত ১২ মাসের স্টেটমেন্ট নেবেন। Income Tax Return জমা দেওয়ার সময় অনলাইনে মোট আয় দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কেটে নেওয়া কর সমন্বয় করবেন। সঠিক নিয়ম মানায় তাকে বাড়তি কোনো কর দিতে হবে না, তবে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
২. ফ্রিল্যান্সার: তাসনিম ফেরদৌস
তাসনিম একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার যিনি আপওয়ার্ক ও পেওনিয়ার থেকে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে বাৎসরিক ৯,০০,০০০ টাকা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করেন।
করণীয়: বাংলাদেশে ব্যাংকিং চ্যানেলে আনা রেমিট্যান্স বা ফ্রিল্যান্সিং আয়ে বিশেষ আইনগত ছাড় বা সুবিধা রয়েছে। তাসনিম তার ব্যাংক থেকে ‘Remittance Certificate’ বা রসিদ সংগ্রহ করবেন। ই-রিটার্নে তিনি এই আয়কে করমুক্ত আয় হিসেবে দেখাবেন। এর ফলে তার আয়ের উৎস বৈধ থাকবে এবং শূন্য কর পরিশোধ করেই তিনি সার্টিফিকেট পাবেন।
৩. ছোট ব্যবসায়ী: হারুনুর রশীদ
হারুন সাহেবের স্থানীয় বাজারে একটি গ্রোসারির দোকান রয়েছে। তার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে এবং বাৎসরিক নিট মুনাফা আনুমানিক ৪,২০,০০০ টাকা।
করণীয়: ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের স্বার্থেই হারুন সাহেবকে নির্ভুলভাবে Income Tax Return জমা দিতে হবে। তিনি তার দোকানের আয়-ব্যয়ের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ বা ক্যাশ বই প্রস্তুত করবেন। যেহেতু তার আয় ন্যূনতম করমুক্ত সীমার কাছাকাছি, তিনি নিয়ম মেনে ই-রিটার্নের মাধ্যমে ফাইল দাখিল করে ব্যবসার বৈধতা বজায় রাখবেন।
৪. ভাড়ার আয় আছে এমন ব্যক্তি: রাজিয়া বেগম
মিরপুরে একটি চারতলা বাড়ির মালিক রাজিয়া বেগম। তিনটি তলার ছয়টি ফ্ল্যাট থেকে তার বাৎসরিক ভাড়া আসে ১০,০০,০০০ টাকা।
করণীয়: আয়কর আইন অনুযায়ী বাড়ি ভাড়ার আয়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শতাংশ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে বাদ দেওয়ার সুবিধা পাবেন। রাজিয়া বেগমকে ভাড়াটিয়াদের ব্যাংক ট্রানজাকশন বা চুক্তিপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। অবশিষ্ট নিট ভাড়ার অঙ্কের ওপর স্কেল অনুযায়ী কর হিসাব করে প্রযোজ্য চালান সহকারে Income Tax Return জমা দিতে হবে।
৫. নতুন TINধারী: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়েম
সায়েম একজন বাইক রাইডার যিনি পার্টটাইম রাইড শেয়ারিং করেন। অ্যাপে অ্যাকাউন্ট খুলতে গিয়ে তিনি ই-টিআইএন তৈরি করেছিলেন। তার নিজস্ব কোনো উল্লেখযোগ্য আয় বা স্থাবর সম্পত্তি নেই।
করণীয়: যেহেতু রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে টিআইএন আবশ্যক এবং সায়েম নিবন্ধিত, তাই তার কোনো উল্লেখযোগ্য আয় না থাকলেও তাকে একটি ‘জিরো ট্যাক্স রিটার্ন’ জমা দিতে হবে। ই-রিটার্ন পোর্টালে গিয়ে সায়েম তার মৌলিক তথ্য দিয়ে আয়ের ঘরে ‘০’ দেখিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে নিজের Income Tax Return জমা প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে রসিদ নিতে পারবেন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
১. Income Tax Return জমা না দিলে কী শাস্তি হতে পারে?
আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন দাখিল না করলে সর্বনিম্ন ১,০০০ টাকা বা পূর্ববর্তী বছরের প্রদেয় করের ৫% পর্যন্ত জরিমানা, সাথে প্রতি মাসের বিলম্বের জন্য অতিরিক্ত সুদ আরোপিত হতে পারে। এছাড়া কর ছাড়ের সুযোগ বাতিল হতে পারে।
২. জিরো রিটার্ন বা নীল রিটার্ন কাকে বলে?
যদি কোনো করদাতার বাৎসরিক মোট আয় সরকার নির্ধারিত করমুক্ত সীমার নিচে থাকে, তবে তাকে কোনো কর দিতে হয় না। তবে রিটার্ন দাখিলের নিয়ম রক্ষার জন্য যে শূন্য করের হিসাব জমা দেওয়া হয়, তাকে জিরো রিটার্ন বলে।
৩. সঞ্চয়পত্র কিনলে কি ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
হ্যাঁ, নির্দিষ্ট সীমার ওপরে সঞ্চয়পত্র ক্রয় বা নগদায়নের ক্ষেত্রে এবং ব্যাংকিং সেবা পেতে রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকার পত্র প্রদর্শন আইনত বাধ্যতামূলক।
৪. আমার আয় করমুক্ত সীমার নিচে, তবুও কি ই-রিটার্ন দিতে হবে?
আপনার যদি ই-টিআইএন থাকে এবং আপনি যদি আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক ৩-৪৪টি সেবার মধ্যে কোনো একটি ব্যবহার করেন, তবে আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও অনলাইনে বা অফলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
৫. অনলাইনে ই-রিটার্ন জমা দেওয়ার জন্য কি কোনো ফি দিতে হয়?
না, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অনলাইনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ই-রিটার্ন জমা দেওয়া যায়। তবে প্রদেয় কর বিকাশে বা ব্যাংকে জমা দিতে গিয়ে অনলাইন পেমেন্ট চার্জ লাগতে পারে।
৬. e-TIN করার পর আয় না থাকলে কি টিআইএন বাতিল করা যায়?
প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যথাযথ যৌক্তিক কারণ ও প্রমাণ উপস্থাপন করে সংশ্লিষ্ট উপ-কর কমিশনারের অফিসে আবেদনের মাধ্যমে টিআইএন নিষ্ক্রিয় বা বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে, তবে তা কিছুটা দীর্ঘায়িত।
৭. এনবিআরের ই-রিটার্ন ওয়েবসাইটে পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে করণীয় কী?
ওয়েবসাইটের ‘Forgot Password’ অপশনে গিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে ওটিপি কোড পাঠিয়ে সহজেই নতুন পাসওয়ার্ড সেট করা যায়।
৮. সঞ্চয়পত্রের ওপর ব্যাংক যে উৎসে কর কেটে রাখে, তা কি রিটার্নে সমন্বয় হয়?
হ্যাঁ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা দেওয়ার সময় যে কর কেটে নেওয়া হয় (TDS), তার স্টেটমেন্ট যুক্ত করে দিলে আপনার সর্বমোট প্রদেয় কর থেকে ওই কেটে নেওয়া অর্থ বাদ দেওয়া বা সমন্বয় করা যায়।
৯. রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ কত?
সাধারণ ব্যক্তি করদাতাদের জন্য সাধারণত প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর হলো আয়কর দিবস বা রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। তবে সরকার ক্ষেত্রবিশেষে এই সময়সীমা বৃদ্ধি করতে পারে।
১০. বিদেশীদের ক্ষেত্রে বা প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য আয়কর রিটার্নের নিয়ম কী?
অনিবাসী প্রবাসীরা যদি বাংলাদেশে অর্জিত কোনো সম্পত্তি বা ব্যবসা থেকে আয় না করেন, তবে তাদের রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে বাংলাদেশে কোনো করযোগ্য আয় থাকলে প্রবাসী হিসেবে Income Tax Return জমা দিতে হবে।
১১. গৃহিণী বা শিক্ষার্থীদের কি ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়া প্রয়োজন?
যদি তাদের নামে কোনো ডিপিএস, সঞ্চয়পত্র, গাড়ি, জমি বা নির্দিষ্ট ব্যাংকিং লেনদেন না থাকে এবং আইনত বাধ্যতামূলক কোনো খাত না থাকে, তবে রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
১২. একটি টিআইএন দিয়ে কি একাধিক ব্যক্তির রিটার্ন জমা দেওয়া যায়?
না, টিআইএন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও অনন্য সনাক্তকরণ নম্বর। একজন ব্যক্তির জন্য একটিই টিআইএন বরাদ্দ থাকে এবং তা দিয়েই কেবল তার নিজস্ব রিটার্ন দাখিল করা যায়।
১৩. রিটার্ন জমার পর রসিদ হারিয়ে গেলে কী করব?
যদি আপনি অনলাইনের মাধ্যমে e Return দিয়ে থাকেন, তবে যেকোনো সময় আইডি লগইন করে রসিদ ডাউনলোড করতে পারবেন। ম্যানুয়াল হলে সার্কেল অফিসে জিডি কপি জমা দিয়ে ডুপ্লিকেট কপির আবেদন করতে হবে।
১৪. ব্যাংকে কত টাকা থাকলে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হয়?
ব্যাংক অ্যাকাউন্টে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের আমানত মেয়াদের শেষান্তে পৌঁছালে বা নির্দিষ্ট অংকের এফডিআর থাকলে ব্যাংকগুলো রিটার্ন জমার প্রমানপত্র দাবি করে। নির্দিষ্ট পরিমাণ ভেদে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
১৫. ফ্রিল্যান্সারদের আয়ে কি কোনো কর ছাড় আছে?
বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স হিসেবে প্রাপ্ত ফ্রিল্যান্সিং আয়ে বিশেষ আইনগত ও সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সীমার ওপর সম্পূর্ণ বা আংশিক কর ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
১৬. অনলাইনে ভুল তথ্য সাবমিট হয়ে গেলে কি তা সংশোধন করা সম্ভব?
হ্যাঁ, আয়কর আইনের নির্দিষ্ট বিধির অধীনে ভুল সংশোধনের জন্য সংশোধিত রিটার্ন (Revised Return) জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে।
১৭. জমি কেনাবেচার সময় কি রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র লাগে?
হ্যাঁ, নির্দিষ্ট অঞ্চলের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তি বা জমি-ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি বা বিক্রয় করতে গেলে নিবন্ধক অফিসে Income Tax Return জমা এর একনলেজমেন্ট কপি দেখানো বাধ্যতামূলক।
১৮. বিনিয়োগ কর রেয়াত বা Rebate কীভাবে পাওয়া যায়?
জীবন বীমার প্রিমিয়াম, অনুমোদিত সঞ্চয়পত্র ক্রয়, ডিপিএস, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও শেয়ারবাজারে নির্দিষ্ট নিয়মে বিনিয়োগ করলে আইনানুযায়ী নির্ধারিত হারে মূল কর থেকে ছাড় বা রেয়াত পাওয়া যায়।
১৯. অডিট কী এবং কেন রিটার্ন অডিটে পড়তে পারে?
করদাতার জমা দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য এনবিআর র্যান্ডম বা নির্দিষ্ট অসঙ্গতির ভিত্তিতে ফাইল পুনঃযাচাই করে, যাকে অডিট বলা হয়। অর্জিত আয়ের সাথে জীবনযাত্রার মান বা সম্পদের মেলবন্ধন না থাকলে ফাইল অডিটে পড়তে পারে।
২০. অনলাইন ও অফলাইন—কোন পদ্ধতিতে রিটার্ন জমা দেওয়া বেশি নিরাপদ?
অনলাইন বা e Return পদ্ধতি অত্যন্ত দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভুল। এটি সরাসরি এনবিআরের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজে যুক্ত হয় বলে ম্যানুয়াল কপির মতো কাগজ হারানোর বা ভুল হওয়ার ঝুঁকি থাকে না। তাই অনলাইনেই Income Tax Return জমা দেওয়া উত্তম।

One Reply
[…] […]