Police Clearance আবেদন করার নিয়ম : প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদন পদ্ধতি

In this article
Telegram Group Join our Telegram channel
Join
Spread the love

Police Clearance-এর জন্য আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা এবং অনলাইন ফরমের প্রতিটি তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা জরুরি। বিশেষ করে পাসপোর্টের তথ্য, বর্তমান ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি নিয়ে ভুল হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এই গাইডে সরাসরি Police Clearance আবেদন করার নিয়ম দেখানো হয়েছে। নিবন্ধন থেকে শুরু করে আবেদন ফরম পূরণ, ঠিকানা দেওয়া, ডকুমেন্ট আপলোড, তথ্য যাচাই, ফি প্রদান এবং সনদ সংগ্রহের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ধাপে ধাপে তুলে ধরা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ: নিচের তথ্য বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন Police Clearance Certificate পোর্টালে প্রকাশিত নির্দেশনার ভিত্তিতে সাজানো হয়েছে। সরকারি নিয়ম, ফি বা আবেদন পদ্ধতিতে পরিবর্তন হলে অফিসিয়াল PCC পোর্টালের সর্বশেষ নির্দেশনাই অনুসরণ করুন।

Police Clearance আবেদন করার আগে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে

অনলাইনে আবেদন শুরু করার আগে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদন করার আগে নিচের বিষয়গুলো মিলিয়ে নিন।

  • আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।
  • বর্তমান ঠিকানা হিসেবে পাসপোর্টে উল্লেখ থাকা স্থায়ী অথবা জরুরি ঠিকানার যেকোনো একটি ব্যবহার করতে হবে।
  • আবেদনকারীকে ব্যবহৃত ঠিকানার বাসিন্দা হতে হবে।
  • মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকলে ঠিকানার প্রমাণ দিতে হবে।
  • বিদেশে থাকা বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি প্রয়োজন হতে পারে।
  • বিদেশ থেকে ইস্যু বা রি-ইস্যু করা পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে এসে আবেদন করলে সর্বশেষ Arrival সিলযুক্ত পৃষ্ঠার স্ক্যান কপি দিতে হবে।

ঠিকানা ও পাসপোর্টসংক্রান্ত শর্তগুলো আবেদন করার আগে ভালোভাবে যাচাই করুন। কারণ আপনার দেওয়া বর্তমান ঠিকানার ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।

Police Clearance আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আবেদন শুরু করার আগে প্রয়োজনীয় নথিগুলো প্রস্তুত করে রাখুন। বাংলাদেশ পুলিশের PCC পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণভাবে নিচের ডকুমেন্টগুলো প্রয়োজন হয়।

১. অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র

অনলাইনে যথাযথভাবে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। ফরমে দেওয়া তথ্য অবশ্যই আপনার মূল নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত।

২. পাসপোর্টের তথ্য পাতার স্ক্যান কপি

বাংলাদেশে অবস্থানকারী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে ১ম শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্য পাতার স্ক্যান কপি প্রয়োজন।

বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্য পাতার স্ক্যান কপি দিতে হবে।

বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে নিজ দেশের Justice of Peace কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্য পাতার স্ক্যান কপি প্রয়োজন হতে পারে।

৩. ঠিকানার প্রমাণপত্র

মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকলে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদের ফটোকপি দিতে হতে পারে। এসব নথি ১ম শ্রেণীর সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করার নির্দেশনা রয়েছে।

৪. বিদেশ থেকে ইস্যু বা রি-ইস্যু করা পাসপোর্ট হলে

বিদেশগামী বা প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে পাসপোর্ট ইস্যু বা রি-ইস্যু করিয়ে থাকলে বাংলাদেশে আসার পর Police Clearance-এর জন্য আবেদন করার সময় সর্বশেষ Arrival Stamp থাকা পৃষ্ঠার স্ক্যান কপি আবেদনের সঙ্গে আপলোড করতে হবে।

৫. Authorization Letter

প্রবাসী আবেদনকারী অন্য কাউকে দিয়ে Police Clearance Certificate সংগ্রহ করতে চাইলে যার মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করবেন তার নাম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে অনুমতিপত্র বা Authorization Letter দিতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী এই অনুমতিপত্র সত্যায়িত করে আবেদনের সঙ্গে আপলোড করতে হয়।

স্থানীয় আবেদনকারীর ক্ষেত্রেও অন্য কেউ সনদ সংগ্রহ করলে অনুরূপ অনুমতিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

আরো পড়ুনঃ 

শিক্ষার্থীদের জন্য Google AI Plus ফ্রি ১ বছর: কীভাবে পাবেন ও কী সুবিধা মিলবে বিস্তারিত দেখুন।

Police Clearance-এর আবেদন ফি কত?

বর্তমান বাংলাদেশ পুলিশের PCC পোর্টালে Police Clearance-এর জন্য ১,৫০০ টাকা ফি উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফি জমা দিলে নির্ধারিত কোড:

১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১

নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখার মাধ্যমে নির্ধারিত কোডে ট্রেজারি চালান করা যায়। এছাড়া অনলাইনে ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জসহ ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।

ফি সংক্রান্ত সতর্কতা: অনলাইনে পুরোনো বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ভিন্ন ফি দেখতে পারেন। আবেদন করার সময় বাংলাদেশ পুলিশের অফিসিয়াল PCC পোর্টালে দেখানো বর্তমান ফি অনুসরণ করুন।

Police Clearance আবেদন করার নিয়ম

বর্তমান অনলাইন পদ্ধতিতে আবেদনটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়। নিচে প্রতিটি ধাপ সহজভাবে দেওয়া হলো।

ধাপ ১: PCC পোর্টালে নিবন্ধন করুন

প্রথমে বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন Police Clearance Certificate ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত ব্যবহারকারী নিজের জন্য অথবা অন্য ব্যক্তির পক্ষেও Police Clearance-এর আবেদন করতে পারেন।

অফিসিয়াল PCC পোর্টাল:


Police Clearance Certificate Portal

অ্যাকাউন্ট তৈরির সময় প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে দিন এবং আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটি সচল রাখুন।

আমি নিচে ছবি দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরীর সব ধাপ দেখাচ্ছি, আগে মনোযোগ সহকারে দেখে নিন তারপর কাজ করুন।

প্রথমে আমাদেরকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, তাই নিচের ছবির মতো রেজিস্ট্রেশন বাটনে ক্লিক করুন।

Ppc login
তারপর একটি রেজিস্ট্রেশন ফরম দেখতে পারবেন ঠিক ছবিটির মতো করে সঠিক সব তথ্য দিয়ে ফর্মটি পূরণ করুন।

রেজিস্ট্রেশন ফরম পূরণ করা হলে continue বাটনে ক্লিক করুন
Police Clearance আবেদন করার নিয়ম 2026
তারপর আপনার সামনে নিচের ছবির মতো একটি নোটিশ আসবে ভালো করে পড়ে দেখুন। সেখানে বলা থাকবে email verify এর কথা।
Police Clearance আবেদন করার নিয়ম বিস্তারিত
তারপর রেজিস্ট্রেশন ফর্মে যে ইমেইল এড্রেস দিয়েছিলেন সেটা ওপেন করে দেখুন,নিচের স্ক্রিনশটের মতো একটি email পাবেন,সেখানে থাকা লিংকে ক্লিক করে ভেরিফাই করুন এবং লগইন করুন।
Police Clearance আবেদন করার নিয়ম email verify
লগইন সম্পূর্ণ হয়ে গেলে Apply বাটনে ক্লিক করলে,নিচের মতো ধাপে ধাপে Apply Modal খুলবে এবং প্রত্যেকটি স্টেপ এ সঠিক তথ্য দিয়ে, নির্দেশনা অনুযায়ী সব সাবমিট করলে, আপনে আপনার কাঙ্খিত police clearance পেয়ে যাবেন, ইনশাল্লাহ্।

ধাপ ২: অ্যাকাউন্টে লগইন করে Apply নির্বাচন করুন

 

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর PCC ওয়েবসাইটে লগইন করুন। লগইন করার পর Apply মেনুতে ক্লিক করে নতুন আবেদন শুরু করতে হবে।

 

এই পর্যায়ে ফরমের প্রতিটি ঘর মনোযোগ দিয়ে পূরণ করুন। কোনো তথ্য অনুমান করে না দিয়ে পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় নথি দেখে তথ্য লিখুন।

ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা পূরণ করুন

আবেদন ফরমের প্রথম ধাপে ব্যক্তিগত বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। এরপর দ্বিতীয় ধাপে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা পূরণ করতে হবে।

এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়োজন—আপনার দেওয়া বর্তমান ঠিকানার জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকার ভিত্তিতেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে। তাই ঠিকানা দেওয়ার সময় ভুল বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য দেওয়া উচিত নয়।

ঠিকানা লেখার সময় প্রয়োজনীয় প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন। পাসপোর্ট বা ঠিকানার প্রমাণপত্রের সঙ্গে তথ্যের সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

 

ধাপ ৪: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন

আবেদন ফরমের তৃতীয় ধাপে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। আপনার ক্ষেত্রে যে নথিগুলো প্রযোজ্য সেগুলো প্রস্তুত করে নির্ধারিত জায়গায় আপলোড করুন।

আপলোডের আগে দেখে নিন:

  • স্ক্যান কপি পরিষ্কার কি না
  • পাসপোর্টের তথ্য সহজে পড়া যাচ্ছে কি না
  • প্রয়োজনীয় পুরো পৃষ্ঠা আছে কি না
  • ভুল নথি নির্বাচন হয়েছে কি না
  • বিদেশ থেকে ইস্যু করা পাসপোর্ট হলে Arrival Stamp-এর প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠা যুক্ত হয়েছে কি না

ধাপ ৫: সব তথ্য যাচাই করে Submit করুন

আবেদন ফরমের চতুর্থ ধাপে আপনার দেওয়া সব তথ্য আবার দেখানো হবে। এই ধাপে আবেদনটি ভালোভাবে পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে।

কোনো ভুল দেখতে পেলে আগের ধাপে ফিরে গিয়ে তথ্য পরিবর্তন করতে পারবেন। তাই Final Submit করার আগে নিচের তথ্যগুলো বিশেষভাবে যাচাই করুন:

  • নাম
  • পাসপোর্ট নম্বর
  • জন্মতারিখ
  • মোবাইল নম্বর
  • বর্তমান ঠিকানা
  • স্থায়ী ঠিকানা
  • আপলোড করা ডকুমেন্ট

গুরুত্বপূর্ণ: চতুর্থ ধাপে আবেদনটি Submit করার পর আর তথ্য পরিবর্তন করার সুযোগ থাকবে না। তাই Final Submit করার আগে পুরো আবেদনটি ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

ধাপ ৬: ফি পরিশোধ করুন

আবেদন Submit করার পর ফি পরিশোধের জন্য প্রদত্ত নির্দেশনা অনুসরণ করুন। ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে ফি দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোড ব্যবহার করতে হবে। অনলাইন পেমেন্টের সুযোগ থাকলে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সেটিও ব্যবহার করা যায়।

ফি পরিশোধ করার পর চালান, পেমেন্টের তথ্য এবং আবেদনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নম্বর সংরক্ষণ করে রাখুন। ভবিষ্যতে এগুলো প্রয়োজন হতে পারে।

Police Clearance-এর জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন কোথায় হবে?

অনলাইন আবেদন ফরমে দেওয়া বর্তমান ঠিকানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ পুলিশের নির্দেশনা অনুযায়ী আপনার বর্তমান ঠিকানা যে জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত, সেই ঠিকানার ভিত্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হবে।

তাই আবেদন করার সময় বর্তমান ঠিকানা সঠিকভাবে দেওয়া উচিত এবং আপনি সত্যিই ওই ঠিকানার বাসিন্দা কি না সেটিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

আরো পড়ুনঃ 

ই-টিন হারিয়ে গেলে বা ইউজার আইডি ভুলে গেলে করণীয়

পাসপোর্টে ঠিকানা না থাকলে করণীয়

মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে ঠিকানা উল্লেখ না থাকলে ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদের ফটোকপি দাখিল করার ব্যবস্থা রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি ১ম শ্রেণীর সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করে আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হবে।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশিদের Police Clearance আবেদন

বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরাও অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে Police Clearance-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে তাদের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের তথ্য পাতার সত্যায়িত কপি সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়িত করে আবেদনের সঙ্গে দিতে হয়।

যদি পাসপোর্ট বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ থেকে ইস্যু বা রি-ইস্যু করা হয়ে থাকে এবং আবেদনকারী বাংলাদেশে এসে PCC নিতে চান, তাহলে সর্বশেষ Arrival Stamp-যুক্ত পৃষ্ঠার স্ক্যান কপিও আবেদনের সঙ্গে আপলোড করতে হবে।

অন্য কেউ Police Clearance সনদ সংগ্রহ করলে

আবেদনকারী নিজে সনদ সংগ্রহ করতে না পারলে অন্য কাউকে দিয়ে সংগ্রহ করার ব্যবস্থা রয়েছে। প্রবাসী আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যার মাধ্যমে সনদ সংগ্রহ করা হবে তার নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর উল্লেখ করে Authorization Letter দিতে হবে।

বিদেশে থাকা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস অথবা Justice of Peace কর্তৃক সত্যায়িত Authorization Letter-এর প্রয়োজন হতে পারে।

সনদ গ্রহণের সময় আবেদনকারীর পাসপোর্টের কপি অথবা আবেদনপত্রের কপিও সঙ্গে রাখতে হবে।

Police Clearance সনদ সংগ্রহের সময় কী লাগবে?

বাংলাদেশ পুলিশের PCC পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী Police Clearance ডেলিভারি নেওয়ার সময় প্রার্থীর পাসপোর্টের কপি অথবা আবেদনের কপি সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে।

আবেদনকারী বিদেশে অবস্থান করলে তার পক্ষে অন্য কেউ সনদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সত্যায়িত Authorization Letter সঙ্গে রাখতে হবে।

সনদ সংগ্রহের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা মিলিয়ে নেওয়া ভালো।

বাংলাদেশের ভেতরে চাকরির জন্য Police Clearance লাগলে

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাকরি বা অন্য কোনো কাজের প্রয়োজনে Police Clearance প্রয়োজন হলে অনলাইন PCC ব্যবস্থার বদলে সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করার নির্দেশনা রয়েছে।

আপনি যে জেলার বাসিন্দা, সেই জেলার DSB অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। আর আপনার ঠিকানা যদি কোনো মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন এলাকার City SB অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।

Police Clearance অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কী করবেন?

নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে PCC অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনার নিবন্ধিত মোবাইল থেকে নিচের ফরম্যাটে SMS পাঠাতে হবে:

PCC PR আপনার নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর

SMS পাঠাতে হবে 26969 নম্বরে। এরপর ফিরতি SMS-এর মাধ্যমে নতুন পাসওয়ার্ড পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।

উদাহরণ হিসেবে, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর যদি 01320000000 হয়:

PCC PR 01320000000

পাসওয়ার্ড রিসেটের সময় আপনার PCC অ্যাকাউন্টে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরই ব্যবহার করুন।

Police Clearance Helpdesk নম্বর

অনলাইন আবেদন বা PCC-সংক্রান্ত কোনো বিষয়ে সহায়তা প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ পুলিশের PCC Helpdesk-এ যোগাযোগ করা যায়। বর্তমান পোর্টালে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী:

  • 01320001824
  • 01320001825
  • ই-মেইল: help.pcc@police.gov.bd

Helpdesk-এর সময়সূচি হিসেবে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সরকারি ছুটির দিন বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি সেবা সংক্রান্ত সহায়তার জন্য অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত ওয়েবসাইটের পরিবর্তে অফিসিয়াল PCC Helpdesk ব্যবহার করাই নিরাপদ।

আবেদন করার সময় ৮টি বিষয় মনে রাখুন

  1. পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস আছে কি না পরীক্ষা করুন।
  2. পাসপোর্ট ও অন্যান্য নথির তথ্য মিলিয়ে আবেদন করুন।
  3. বর্তমান ঠিকানা সঠিকভাবে দিন।
  4. প্রয়োজনীয় নথি আগে থেকে সত্যায়িত করে রাখুন।
  5. স্ক্যান কপি পরিষ্কারভাবে তৈরি করুন।
  6. Final Submit করার আগে পুরো আবেদন আবার যাচাই করুন।
  7. ফি দেওয়ার প্রমাণ ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন।
  8. নিয়ম নিয়ে সন্দেহ হলে সরাসরি অফিসিয়াল PCC পোর্টাল বা Helpdesk থেকে নিশ্চিত হন।

Police Clearance আবেদন নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

Police Clearance আবেদন করতে পাসপোর্টের মেয়াদ কত থাকতে হয়?

বর্তমান PCC পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদনকারীর পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৩ মাস থাকতে হবে।

Police Clearance-এর বর্তমান ফি কত?

বর্তমান সরকারি PCC পোর্টালে Police Clearance-এর আবেদন ফি ১,৫০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রেজারি চালানের জন্য ১-৭৩০১-০০০১-২৬৮১ কোড দেওয়া হয়েছে।

Police Clearance-এর আবেদন কোথায় করতে হয়?

বিদেশগামী বা প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক এবং নির্দিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের অনলাইন PCC সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করা যায়।


অফিসিয়াল Police Clearance পোর্টালে যান

আবেদন Submit করার পর তথ্য পরিবর্তন করা যাবে?

চতুর্থ ধাপে Final Submit করার আগে আগের ধাপে ফিরে গিয়ে ভুল তথ্য পরিবর্তন করা যায়। তবে আবেদনটি Submit করার পর আর তথ্য পরিবর্তনের সুযোগ থাকে না।

Police Clearance আবেদনের পুলিশ ভেরিফিকেশন কোথায় হয়?

আবেদন ফরমে দেওয়া বর্তমান ঠিকানা যে জেলা বা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত, সেই ঠিকানার ভিত্তিতে পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়।

পাসপোর্টে ঠিকানা না থাকলে কী করতে হবে?

নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ অথবা স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সনদের মাধ্যমে ঠিকানার প্রমাণ দিতে হয়। প্রয়োজনীয় কপি ১ম শ্রেণীর সরকারি গেজেটেড কর্মকর্তা দ্বারা সত্যায়িত করার নির্দেশনা রয়েছে।

বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিক কীভাবে আবেদন করবেন?

বিদেশে অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিক অনলাইন PCC সিস্টেমের মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশন কর্তৃক সত্যায়িত পাসপোর্টের তথ্য পাতার কপি প্রয়োজন হয়।

Police Clearance-এর পাসওয়ার্ড ভুলে গেলে কী করব?

নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর থেকে PCC PR নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর লিখে 26969 নম্বরে SMS পাঠিয়ে নতুন পাসওয়ার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

Police Clearance Helpdesk নম্বর কী?

বর্তমান PCC পোর্টালে Helpdesk নম্বর হিসেবে 01320001824 এবং 01320001825 দেওয়া হয়েছে। ই-মেইল: help.pcc@police.gov.bd। সেবা সময় রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার, সরকারি ছুটির দিন বাদে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা।

অফিসিয়াল Police Clearance লিংক

আবেদন করার সময় নিচের সরকারি উৎসগুলো ব্যবহার করুন:

তথ্য যাচাইয়ের পরামর্শ

Police Clearance একটি সরকারি সেবা হওয়ায় আবেদন করার আগে ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সত্যায়নের নিয়ম এবং আবেদন পদ্ধতি একবার অফিসিয়াল PCC পোর্টাল থেকে যাচাই করে নিন। কোনো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে সরকারি তথ্যের পার্থক্য থাকলে সরকারি নির্দেশনাকেই অগ্রাধিকার দিন।

শেষ কথা

Police Clearance-এর অনলাইন আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে নিলে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী ফরম পূরণ করা, সঠিক বর্তমান ঠিকানা দেওয়া এবং Final Submit করার আগে প্রতিটি তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা।

আবেদন জমা দেওয়ার পর ফি প্রদানের তথ্য ও প্রয়োজনীয় আবেদনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করুন। পাসওয়ার্ড বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়লে সরকারি PCC Helpdesk ব্যবহার করুন এবং নিয়ম পরিবর্তিত হয়েছে কি না জানতে সরাসরি অফিসিয়াল পোর্টাল দেখুন।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৩০ আগস্ট ২০২৬

সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনার জন্য: pcc.police.gov.bd

Telegram Group Join our Telegram channel
Join
SA Samim

আমি শামীম ইসলাম, Forumbd24.com এর প্রতিষ্ঠাতা। আমি একজন চাকরীজীবী। চাকুরীর পাশাপাশি forumbd24 এ লেখালিখি করি। আমি জয়পুরহাট সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি (বিজ্ঞান) নিয়ে পড়াশুনা করেছি।

Leave a Comment